চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং গতকাল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমকে উদ্ধৃত করে বাসসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। চীনের মন্ত্রী তিন দিনের সফরে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা আসেন।

রাষ্ট্রপতি কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের মন্ত্রী এ সময় সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

লিউ হাইসিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এই সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদর্শিক বিভাজন নয় : চীনের মন্ত্রী গতকাল এক গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার দেশ সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।

রাজধানীর একটি হোটেলে চীন দূতাবাসের আয়োজনে ‘যেখানে ইতিহাস পথ দেখায় : চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের গ-ি ছাড়িয়ে উদ্যোগ’ শীর্ষক গোল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর চীন গুরুত্ব দিচ্ছে, এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আদর্শিক বিভাজন তৈরি করি না। কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে আছে, নাকি সরকারের বাইরে, তার ভিত্তিতে আমরা বন্ধুত্ব নির্ধারণ করি না।’

গতকাল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজও উদ্বোধন করা হয়। লিউ হাইসিং আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রটি দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি তরুণ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কাজ করবে।  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী   চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়া-খালেদার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ সফররত চীনের মন্ত্রী লিউ হাইসিং। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে দুই নেতার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।