মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিক দল এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নেমেছে দুর্দান্তভাবে। সিলেট টেস্টে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুতেই ক্যারিবীয় শিবিরে আগ্রাসী বোলিংয়ের পসরা সাজান দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। সেখানে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।
সেশনের বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো বিপত্তি আসতে দেয়নি ফিফটি পেরোনো কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর জুটি। এতে শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের প্রথম সেশন শেষে ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৮৬ রান।
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা শান্তর দল এই ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে। চোট কাটিয়ে দলে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, আর পেস আক্রমণে শরীফুল ইসলামের পরিবর্তে ফেরানো হয় তাসকিনকে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রথম ঘণ্টায় পুরোপুরি সঠিক প্রমাণ করেন দুই পেসার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন ওপেনার জশুয়া ডি সিলভা, তবে স্লিপে দাঁড়িয়ে সাদমান ইসলাম সেই সহজ সুযোগটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি তাসকিন। পঞ্চম ওভারে তার ভেতরের দিকে সুইং করা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ব্রেন্ডন কিং।
এরপর সপ্তম ওভারে বল হাতে নিয়ে উইন্ডিজ শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন হাসান। তার অফ স্টাম্পের বাইরে করা ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিটি স্কিড করে সরাসরি কাভেম হজের মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দিলে মাত্র ১ রান করেই থামতে হয় তাকে। আর জীবন পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে না পারা জশুয়া ডি সিলভাকে (১২) নবম ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তাসকিন।
মাত্র ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অবশ্য এই বোলিং ঝড়ের মাঝে তাসকিনের নো বলের পুরনো সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, প্রথম সেশনেই তিনি তিনটি নো বল করে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের মোট নো বলের সংখ্যা ৫২টিতে নিয়ে যান।
শুরুর সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন অভিষিক্ত উইকহ্যাম ও জাঙ্গু। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকা উইকহ্যাম এবং জাঙ্গু এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি। যদিও হাসানের ওভারগুলোতে কয়েকবার ব্যাটের কানায় লেগে এবং মাঠে ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে বেঁচে যান এই দুই ব্যাটার, তবুও তারা শেষ পর্যন্ত প্রথম সেশনের বাকি সময়টা নিরাপদে পার করে দেন।