বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে: মোংলায় প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাটের মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে ঢাকায় আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।

 

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অগ্রযাত্রার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে চায় এবং বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক খাত আরও শক্তিশালী হতে পারে। মোংলা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, মোংলায় আরও নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

দিনটিকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চলমান প্রচেষ্টায় চীনা বিনিয়োগকারীদের অবদান প্রশংসনীয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং মোংলা অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।