অবশেষে উইকেট পেল বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় সেশনে যখন মনে হচ্ছিল ক্যারিবীয় ব্যাটারদের প্রতিরোধে ম্যাচ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন বল হাতে দলের ত্রাতা হয়ে এলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম সেশনে মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে শুরুটা দারুণ করলেও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর অবিচল ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটশূন্য ছিল শান্তর দল।
তবে দুর্দান্ত এক লেংথ ডেলিভারিতে ৫১তম ওভারে ১৩১ রানের সেই বিপজ্জনক জুটি থামান হাসান। সেখানে উইকহ্যাম ৬১ রান করে ফিরলেও সেঞ্চুরি পথে এগোচ্ছেন জাঙ্গু। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ৫৫ ওভারে ৪ উইকেটে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৮০ রান। ৭৬ রানে অপরাজিত আছেন জাঙ্গু, আর নতুন ব্যাটার জাস্টিন গ্রিভস ব্যাট করছেন ১৯ রানে।
প্রথম সেশনে চাপ সামলে ওঠার পর দ্বিতীয় সেশনেও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকেন উইকহ্যাম ও জাঙ্গু। ৩০ ওভারেই দলের রান একশ পার করে নেন তারা। প্রবল চাপের মুখে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন জাঙ্গু। অপর প্রান্তে উইকহ্যামও অসাধারণ এক ইনিংসে অভিষেকেই নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন। সঙ্গে ৪৭তম ওভারে জাঙ্গুর ব্যক্তিগত ৬৮ রানের মাথায় হাসানের বলে একটি ফিরতি ক্যাচ মিস হওয়ায় জীবন পেয়ে জুটির রান আরও বাড়িয়ে নেন তারা।
জাঙ্গু সে যাত্রায় টিকে গেলেও শেষ পর্যন্ত আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি উইকহ্যাম। নিজের আগের ওভারেই একের পর এক বাউন্সারে বৈচিত্র্য এনে লেংথে বল করতে থাকেন হাসান। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই মেলে সাফল্য। উইকহ্যামের ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয় বল। এতে ভেঙে যায় ২৫১ বল স্থায়ী ১৩১ রানের বিপজ্জনক জুটি। ১৪৫ বলে উইকহ্যাম ফেরেন ৬১ রান করে।
এদিকে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে তাসকিনের সঙ্গে পেস জুটি গড়ে দিনের প্রথম ঘণ্টায় উইন্ডিজদের বেশ চাপে রেখেছিলেন হাসান। সেখানে মাত্র ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল সফরকারীরা। তবে উইকহ্যাম-জাঙ্গুর জুটিতে সেই চাপ থেকে উতরে যায় রস্টন চেজের দল। তবে সেই জুটি যখন বড় স্বাগতিকদের বড় শঙ্কার পথে এগোচ্ছিল সেখানেই ব্রেক থ্রু আনেন হাসান। এই সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এই এক উইকেটই।