মেসির পর রোনালদোও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন

লিওনেল মেসির পর এবার জাতীয় দলের অধ্যায়ের ইতি টানলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা।আন্তর্জাতিক বিরতির পর কিছুদিন চিন্তাভাবনা শেষে অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগালের অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা তার বিবৃতির শুরুতেই তিনি লেখেন, "পর্তুগাল সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।"

২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া রোনালদো দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের নামের পাশে রেখেই বুট জোড়া তুলে রাখলেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

গত মাসে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় পর্তুগাল শিবির ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আনবদলকৃত বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর, কোচ জর্জ হেসুসের বিরুদ্ধে দুবার কথা ভাঙার অভিযোগ এনে দল ছেড়েছিলেন রোনালদো। এরপর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং সামান্য জরিমানা করে। যদিও কোচ হেসুস তার জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করেননি, তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই চিরতরে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন রোনালদো। তার এই বিদায়ের ঠিক এক মাস আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন।
কোচ জর্জ হেসুসের বিরুদ্ধে দুবার কথা ভাঙার অভিযোগ এনে দল ছেড়েছিলেন রোনালদো

২০০৩ সালের আগস্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে রুই কস্তার বদলি হিসেবে নেমে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার মাত্র আট দিন পর দেশের হয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন তিনি। ২০০৪ সালের ইউরোতে গ্রিসের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক গোল খাতা খোলেন এবং মাত্র ১৯ বছর বয়সেই টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন।
২০০৪ সালে অভিষেক ম্যাচে গোল করার পর রোনালদো

তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে যুক্ত রয়েছে একাধিক সোনালী অধ্যায়:

  • ইউরো ২০১৬ জয়: তার নেতৃত্বেই পর্তুগাল তাদের ইতিহাসের প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে।
  • নেশন্স লিগ: ২০১৯ এবং ২০২৫ সালে দুটি উয়েফা নেশন্স লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি।
  • রেকর্ডসমূহ: পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা ও সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। যৌথভাবে সর্বাধিক ছয়টি বিশ্বকাপ এবং সর্বাধিক ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার অনন্য রেকর্ডও তার দখলে।
ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে ১ হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য থেকে মাত্র ১৫ গোল দূরে রয়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল-নাসরের হয়ে ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ী কিংবদন্তি শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের জার্সিতে আর মাঠে না নামলেও, কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।