জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনেই চাপে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটা দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। সকালে পেসারদের আগুনে বোলিংয়ে সফরকারীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেও দিন শেষে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি এবং শেষ সেশনের প্রতিরোধে শক্ত অবস্থানে চলে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান।

দিনের শেষ সেশনে উইন্ডিজ ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার আমির জাঙ্গু। চা বিরতির পর দারুণ ছন্দে থাকা এই ব্যাটার তাইজুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি এশিয়ার মাটিতে ক্যারিবীয় কোনো উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রথম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১২ সালে মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন দিনেশ রামদিন

জাঙ্গুর সঙ্গে জাস্টিন গ্রিভসের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটের জুটিতে যোগ হয়েছে ৭৭ রান। এর মাঝেই সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দুই দফা আলোকস্বল্পতা দেখা দিলে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। দিন শেষে ১৭১ বলে ১১১ রান নিয়ে জাঙ্গু এবং ৬২ বলে ৩৫ রান নিয়ে গ্রিভস অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। স্পিনাররা কোনো প্রভাব ফেলতে না পারায় শেষ সেশনেও কোনো উইকেটের দেখা পায়নি স্বাগতিকররা।

অথচ এই ম্যাচের সকালটি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। মিরপুর টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিক দল সিলেট টেস্টের প্রথম সেশনে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় ক্যারিবীয় শিবিরে বড় ধাক্কা দেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল সফরকারীরা। পঞ্চম ওভারে ব্রেন্ডন কিংকে (৯) বোল্ড করেন তাসকিন, এরপর কাভেম হজকে (১) সাজঘরে ফেরান হাসান। নবম ওভারে জশুয়া ডি সিলভাকেও (১২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তাসকিন।

তবে প্রথম সেশনের সেই প্রাথমিক বিপর্যয় দারুণভাবে সামলে নেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গু। কোনো বিপদ ছাড়াই প্রথম সেশন পার করার পর দ্বিতীয় সেশনেও সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন তারা। দুজনেই তুলে নেন নিজেদের ফিফটি। এমনকি চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ২৫১ বলে ১৩১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বড় বিপদে ফেলে দেন। অবশেষে ৫১তম ওভারে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত একটি লেংথ বল উইকহ্যামের (৬১) অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিলে জুটি ভাঙতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। উইন্ডিজের স্কোরবোর্ডে তখন ছিল ৪ উইকেটে ১৫৮ রান। সেখান থেকে এখনো কোনো উইকেট হারায়নিন রস্টন চেজের দল। 

দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের বোলিং অর্ডারে কেবল তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট পেলেও তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানদের সমন্বয়ে গড়া স্পিন আক্রমণ ৪২ ওভার বল করেও কোনো উইকেটের দেখা পায়নি, যা বাংলাদেশকে কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস*: ২৩৫/৪ (৭০ ওভার) (জাঙ্গু ১১১*, উইকহ্যাম ৬১, গ্রিভস ৩৫*, জশুয়া ১২, কিং ৯; তাসকিন ২/৬১, হাসান ২/৫৮)।