যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাজনীতিকেরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নির্বাচনের এই ফলাফল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি তেলের দাম এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্সের। 

ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক বাণিজ্যের টানাপোড়েনে থাকা প্রতিবেশী কানাডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয়কে অনেক কানাডিয়ান ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেও দেখছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সামাজিক মাধ্যমে বলেন, 'আমি আনন্দে রাস্তায় ডিগবাজি দিচ্ছিলাম। তিনি এই নির্বাচনী ফলাফলকে 'কানাডার বিজয়' বলে অভিহিত করেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, মার্কিন জনগণ এমন নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, যেসব নীতি সাধারণ মানুষকে আরও দরিদ্র করে। তারা ঘৃণা, নারী বিদ্বেষ, জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার এবং অভিজাতদের বিশেষ সুবিধার বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছেন। এছাড়া তিনি বলেন, ব্রাজিলে এমনটি ঘটেছে, এবার যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটল। শিগগিরই স্পেনেও এমন পরিবর্তন আসবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে এই নির্বাচনের ফল। স্তোর বলেন, মার্কিন রাজনীতিতে এখন এমন কিছু কণ্ঠস্বর সামনে আসছে, যাঁদের অবস্থান জলবায়ু, পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতি ও উন্নয়ন সহায়তার মতো বিষয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের তুলনায় ইউরোপের কাছাকাছি।

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানের নীতি সব সময় দলনিরপেক্ষতা, ব্যাপকভিত্তিক সুসম্পর্ক এবং সক্রিয় যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টেল শালডেমোজ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, এই ফলাফলে সবকিছু রাতারাতি ভালো হয়ে যাবে, এমন নয়। তবে এর ফলে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন,নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়াকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বের অবস্থান বরাবরই নেতিবাচক। তিনি জানান, তাদের নীতি অন্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাময়িক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মস্কো তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, জাপানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোট। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় জাপানের জাতীয় স্বার্থ, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের শক্তিশালী জোট অপরিহার্য।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসকিউর ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ রয়েছে। তিনি পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলা পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে পারেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারেন। অন্যথায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আগামী দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।