এক পেসার কম নিয়ে খেলার আক্ষেপ তাসকিনের

সকালের অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে শুরুতেই ধস নামিয়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২৭ রানে তুলে নিয়েছিল তিন উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল, বড় বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে সফরকারীরা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। আর এক পেসার কম নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশের বোলারদের দিতে হয় দীর্ঘ সময়ের কঠিন পরীক্ষা। দিনভর বোলিংয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেকজন পেসারের অভাব অনুভব করেছেন তাসকিন আহমেদ। দিনের খেলা শেষে তার কণ্ঠে ঝরেছে সেই আক্ষেপ।

দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। আমির জাঙ্গুর অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ফিফটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের দিকে নিয়ে গেছে সফরকারীরা। অথচ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ছিল দুর্দান্ত। মেঘলা আবহাওয়া ও বাতাসের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দ্রুত তিন উইকেট তুলে নেন।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে হারের পর সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ একাদশ সাজায় দুই পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ডন কিংকে পঞ্চম ওভারে বোল্ড করেন তাসকিন। এরপর কাভেম হজকে ফেরান হাসান। নবম ওভারে জশুয়া ডা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন তাসকিন। কিন্তু এরপর আর সকালের মতো ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলিং।

এই পরিস্থিতিতে আরেকজন পেসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তাসকিন, 'এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আরেকজন পেসার থাকলে হয়তো ভালো হতো। সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা যেটা আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আরেকজন পেসার থাকলে আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। আমাদের তখন যেভাবে বল নড়াচড়া করছিল, আরও দুই একটা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।'

বাংলাদেশের পেসারদের প্রাথমিক সাফল্যের পর ইনিংসের হাল ধরেন জাঙ্গু ও কেভিন। চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন তারা। কেভিন ৬১ রান করে হাসানের বলে বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। তবে জাঙ্গুকে থামানো যায়নি। পরে জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে আরও ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন জাঙ্গু।

এদিকে বাংলাদেশের তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান ৪২ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি। ফলে পেসারদের ওপরই পড়ে বাড়তি দায়িত্ব। তাসকিন অবশ্য মনে করেন, সময়ের সঙ্গে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে যাওয়ায় বোলারদের কাজ কঠিন হয়েছে, 'সময় যত গিয়েছে, মনে হয়েছে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়তা পাচ্ছে ব্যাটসম্যানরা। বোলারদের জন্য সুযোগের জায়গা ছোট, ফাস্ট বোলার বা স্পিন বোলার দুজনের জন্যই। একটু এদিক-সেদিক হলেই সহজে রান করা যায়। তো এখানে আসলে শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা ও ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময় বোলিং করলে হয়তো ব্যাটসম্যানের ভুল করার সম্ভাবনা বেশি হবে। এখানে আসলে কোনো জাদুকরি বল বা জোর করে উইকেট নিতে গেলে রান দেওয়া ছাড়া আর কিছুই তেমন হবে না।'

তবে ম্যাচের বাকি দিনগুলোতে স্পিনাররা কার্যকর হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী এই পেসার, 'ম্যাচ মাত্র শুরু হলো। উইকেট যে ধরনের, তাতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিন আসলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। তখন সেভাবেই পরিকল্পনা করছে যে, শেষ পর্যন্ত ফলাফল বের করার ক্ষেত্রে স্পিনারদের সহায়তা আসতে পারে। কিন্তু এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বেশিরভাগ বোলিং সাফল্যে হয়তো পেসারদের ভূমিকা বেশি। সকালের পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, আমার আরেকজন সতীর্থ যদি পেসার হিসেবে দলে থাকত, তাহলে বোলিং বিভাগটা আরেকটু ভালো হতো।'