কৃতির মামলায় কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট, যৌন উদ্দীপক ‘ডিপফেক’ ছবি-ভিডিও এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নাম ও চেহারার অপব্যবহার রুখতে আইনি জয় পেলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। অভিনেত্রীর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, অপব্যবহার বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচ প্রদান করল দিল্লি হাইকোর্ট।

কৃতি শ্যাননের দায়ের করা বিশেষ মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার কৌরভ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালতে অভিনেত্রী দাবি জানিয়েছিলেন, তার ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে নানা বিকৃত কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। শুনানি শেষে বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিবাদী পক্ষ ও সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলোকে অবিলম্বে চিহ্নিত বিতর্কিত ইউআরএল  তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কৃতি শ্যাননের নাম, ছবি বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন কোনও আপত্তিকর বা বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও আপলোড করার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত চিহ্নিত লিঙ্ক ও সাইট বন্ধ বা ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মগুলোকে। তবে আদালত এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু আপত্তিকর কনটেন্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সাংবাদিকতা বা খবরের বিশ্লেষণ, সমালোচনা, গঠনমূলক আলোচনা, ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা কার্টুন এবং অনুরাগীদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষেত্রে এই নির্দেশ বলবৎ হবে না।আদালত আরও জানিয়েছে, ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ বা পার্সোনালিটি রাইটস সম্পর্কিত বিষয়টি যথেষ্ট জটিল ও আইনি ব্যাখ্যার দাবি রাখে, যা বিবাদী পক্ষের বক্তব্য শোনার পর চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।