এমন কীর্তি আরো গড়তে চান হাসান

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নিজের অবস্থানটা আলাদা করে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ছয় উইকেট নিয়ে গড়েছেন নতুন কীর্তি। দেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন ডানহাতি এই পেসার। তার প্রত্যাশা, ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

নিজেদের মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাসান বলেন, 'নিজেদের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া সবসময় আমার জন্য খুবই বিশেষ।' ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি। তাঁর কথায়, 'আমি অবশ্যই চেষ্টা করে যাব, সামনে যেন আরও পাই। ৫ উইকেট পাওয়াটা বিশেষ। যতবার টেস্ট ক্রিকেটে থাকব, খেলব সবসময় এভাবেই চেষ্টা করতে থাকব।'

সিলেটে দ্বিতীয় দিনের সকালে নতুন বলে জোড়া আঘাত হেনে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান হাসান। আমির জাঙ্গুকে ১৩৩ রানে বোল্ড করার পরের বলেই রস্টন চেইসকে ফেরান তিনি। পরে জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফকে আউট করে পূর্ণ করেন ছয় উইকেট। টেস্টে এটি তাঁর পঞ্চম পাঁচ উইকেট। শাহাদাত হোসেনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এককভাবে শীর্ষে এখন তিনি।

নিজের বোলিংয়ের সাফল্যের রহস্য হিসেবে শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাই বলছেন হাসান, 'শুধু আমার বোলিংয়ের যে পরিকল্পনা থাকে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য যা যা করতে হয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সেটাই আমি বারবার করার চেষ্টা করি। আমার বোলিংয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করি।'

তবে হাসানের ব্যক্তিগত সাফল্যের পরও চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। অপরাজিত আছেন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। তাঁদের জুটির ওপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা।

হাসান অবশ্য আশাবাদী। তার বিশ্বাস, উইকেট এখন ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। মুশফিক ও হৃদয় জুটি ধরে রাখতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব বেলে মনে করেন তিনি, 'যদি মুশফিক ভাই এবং হৃদয় চালিয়ে যেতে পারে, আমার মনে হয় আমরা ওদের রান পেরিয়ে যেতে পারব। আশা করি যে আমরা ওদের রানটা অতিক্রম করতে পারব।'