জুডের পর জোব: ইংল্যান্ড দলে প্রথমবার বেলিংহাম ব্রাদার্স

ইংলিশ ফুটবলে একই পরিবারের দুটি নক্ষত্র একসঙ্গে জ্বলে ওঠার ঐতিহাসিক মুহূর্ত চলে এসেছে। ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিপক্ষে আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য থ্রি লায়ন্সদের ২৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ টমাস টুখেল। আর এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো জ্যেষ্ঠ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন জুড বেলিংহামের ছোট ভাই জোব বেলিংহাম। 

অবশ্য ইংল্যান্ডের ফুটবলে জাতীয় দলে বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের যুগলবন্দির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। দেশটির ফুটবলের ইতিহাসে এটি ২১তম 'ভাইদের জুটি' হিসেবে নাম লেখানোর ঘটনা। এর আগে অ্যালান ও গ্যারি নেভিল, ববি ও জ্যাক চার্লটন কিংবা সম্প্রতি ন্যাথানিয়েল ও ট্রেভক্স চ্যালোবার মতো ভাইদের একত্রে জাতীয় দলে খেলতে দেখেছে থ্রি লায়ন্স ভক্তরা। তবে জোবের এই অন্তর্ভুক্তি কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং দলে মধ্যমাঠের ঘাটতি ও তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মের কারণেই হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।

২০২০ থেকে একে একে ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক সব দলে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে জাতীয় দলে ডাক পেলেন ২১ বছর বয়সী জোব। 

মিডফিল্ডে জোব বেলিংহামকে ডাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আমাদের সামান্য সমস্যা রয়েছে। অ্যালেক্স স্কট এখনও খেলার মতো ফিট নন এবং মাইলেস (লুইস-স্কেলি), যিনি আগের চারটি ম্যাচেই খেলেছেন, হলুদ কার্ডের কারণে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ। ফলে এই পজিশনে আমাদের খেলোয়াড় কিছুটা কম ছিল। লি কার্সলি (অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ) সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে জোবকে নিয়ে অনেক প্রশংসনীয় কথা বলেছেন। সে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়েও বেশ ভালো ফর্মে আছে। তাই প্রথম দলে এসে শেখার ও নিজেকে প্রমাণ করার এটি তাঁর জন্য উপযুক্ত সুযোগ।’ 

জোব বেলিংহামের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলে উদযাপনের আমেজ থাকলেও, স্কোয়াড ঘোষণায় বাদ যাওয়ার চমক ছিল কোল পালমারকে ঘিরে। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে ১১ ম্যাচে ৫ গোল করা এবং গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে দারুণ এক গোল করা সত্ত্বেও ২৫ সদস্যের বহরে জায়গা পাননি ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। টুখেলের আগের সেই হুঁশিয়ারি, ‘পামার বড্ড বেশি ক্যাম্প মিস করেন’ যেন এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সত্য হয়ে উঠল। 

বিগত দু'বছরে ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাত্র তিন ম্যাচে মাঠে নামা পালমারের এই চোটপ্রবণতা ও জাতীয় দলে নিয়মিত না থাকাই তাঁর জায়গা হারানোর মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলে জায়গা পাননি নোনি মাদুয়েকে ও কোবি মাইনুর মতো তারকারা, আর বুকায়ো সাকা চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন।

অন্যদিকে, স্কোয়াডে ফিরেছেন আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইট, যা আন্তর্জাতিক আঙিনায় তাঁর জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। হোয়াইটের ফেরা প্রসঙ্গে টুখেল জানান, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে সে নিজের সেরা ফর্মটা ধরে রাখবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেনকে ডাকার চেষ্টা করছিলাম। দর্শকরাও তাঁকে ইতিবাচকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন কারণ সে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার দাবিদার।’ এছাড়াও দলে চমক হিসেবে ডাক পেয়েছেন ফুলহ্যামের ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার জোশ কিং।

তবে নেশনস লিগের এই দুই ম্যাচে সব চোখ থাকবে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর। সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরজয়ী এই স্ট্রাইকার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই দেশের হয়ে রেকর্ড সর্বকালের সর্বোচ্চ ১২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য ইতিহাস গড়বেন।

উয়েফা নেশনস লিগের আসন্ন ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ড দল:

গোলরক্ষক: জর্ডান পিকফোর্ড (এভারটন), জেসন স্টিল (ব্রাইটন), জেমস ট্র্যাফোর্ড (লিডস ইউনাইটেড)।

ডিফেন্ডার: ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড (রিয়াল মাদ্রিদ), জেরার্ড ব্রান্থওয়েট (এভারটন), মার্ক গেহি (ম্যানচেস্টার সিটি), লুইস হল (নিউক্যাসেল), এজরি কনসা (আর্সেনাল), জারেল কোয়ানসা (বায়ার লেভারকুসেন), জেড স্পেন্স (ইন্টার মিলান), বেন হোয়াইট (আর্সেনাল)।

মিডফিল্ডার: এলিয়ট অ্যান্ডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি), জোব বেলিংহাম (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ), জেমস গার্নার (এভারটন), জোশ কিং (ফুলহ্যাম), মাইলেস লুইস-স্কেলি (আর্সেনাল), ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল)।

আক্রমণভাগ: ডমিনিক কালভার্ট-লেভিন (লিডস ইউনাইটেড), এবেরেচি এজে (আর্সেনাল), মরগান গিবস-হোয়াইট (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), অ্যান্টনি গর্ডন (বার্সেলোনা), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ), রিয়ো এনগুমোহা (লিভারপুল), মরগান রজার্স (চেলসি)।