সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে বদলি নেমে মাত্র ২ মিনিটেই গোল করে বাংলাদেশকে মহামূল্য জয় এনে দিয়েছেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা এবং নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে এ গোলটি তার ক্যারিয়ারে এক স্বস্তিএনে দিয়েছে। গতকাল এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অনুশীলনের পর ম্যাচশেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার কারণ এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আমি দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। মাঝে মধ্যে দলে থাকলেও খেলতে পারতাম না। আসলে গোল করার পর ওই খারাপ মুহূর্তগুলো বেশি মনে পড়ছিল। জীবনের কঠিন সময়গুলোর কথা তখন বারবার মনে হচ্ছিল।’
বেঞ্চে বসে সতীর্থদের সুযোগ নষ্ট হতে দেখা এবং গোল করার লক্ষ্য নিয়ে ইব্রাহিম বলেন, ‘দেখছিলাম, আমাদের ডি-বক্সে বল যাচ্ছে, কিন্তু ফিনিশিং হচ্ছে না। আমার লক্ষ্য ছিল আমি যদি ওই জায়গায় থাকি, তাহলে এক-দুটি বল পাব। সেগুলো ভালোভাবে ফিনিশ করতে পারলে গোল করতে পারব। আমি বল রিড করার চেষ্টা করছিলাম, কখন বলটা আমার কাছে আসবে।’
কোচ টমাস ডুলির নির্দেশনা এবং নিজের পজিশন নিয়ে ইব্রাহিম বলেন, কোচ তাকে শমিতকে নাম্বার নাইনে দিয়ে ডি-বক্সের আশপাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি গোলের দেখা পান। কোচ যে পজিশনেই খেলাবেন, দলের প্রয়োজনে সেখানেই খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানান এ ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি দলটির গতিপ্রকৃতি বদলে দেবে বলে বিশ্বাস করেন ইব্রাহিম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হামজা ভাই অবশ্যই দলের মোমেন্টাম বদলে দেবেন। আর গত ম্যাচে আমাদের যে ভুলত্রুটি ছিল, কোচ ভিডিও বিশ্লেষণের পর তা নিয়ে কাজ করবেন।’
সামনে সেমিফাইনালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত বা মালদ্বীপ যেই হোক না কেন, নির্দিষ্ট কোনো দলকে লক্ষ্য না করে ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায় বাংলাদেশ দল। ফরোয়ার্ড হিসেবে যেকোনো মূল্যে দলের জয়ে অবদান রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য।