ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি স্মরণীয় করে রেখেছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার ব্যক্তিগত অর্জনে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়েছেন। ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে গড়েন দেশের পেসারদের মধ্যে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড। অথচ দিন শেষে হাসানের ব্যক্তিগত সাফল্যের আনন্দে পুরোপুরি মেতে ওঠার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ৩৫৬ রানে অলআউট করলেও পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। তবে তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
ঘরের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়ার আনন্দটা লুকাননি হাসান, ‘নিজেদের মাঠে ৫ উইকেট পাওয়া সবসময় আমার জন্য খুবই বিশেষ।’ এ অর্জনকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘আমি অবশ্যই চেষ্টা করে যাব, সামনে যেন আরও পাই। ৫ উইকেট পাওয়াটা বিশেষ। যতবার টেস্ট ক্রিকেটে থাকব, খেলব সবসময় এভাবেই চেষ্টা করতে থাকব।’
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সকালে জাস্টিন গ্রিভস ও আমির জাঙ্গুর ব্যাটে আরও শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে সফরকারীরা। প্রথম ১১ ওভার বাংলাদেশের বোলারদের সামাল দেন দুজন। এরপর নতুন বল হাতে নিয়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হাসান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই মাত্র ৩৭ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। দিনের শুরুতে হাসানের সবচেয়ে বড় শিকার জাঙ্গু। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা তার ভেতরে ঢোকা বলের গতিপথ বুঝতে না পেরে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। ১৩৩ রানের করেন তিনি। পরের বলেই একই ধরনের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেস। যদিও হ্যাটট্রিকটা পাননি হাসান।
এরপর জশুয়া বিশপ ও গ্রিভসের প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি হাসান। তার বলে লিটন দাসের ক্ষিপ্র স্টাম্পিংয়ে ফেরেন বিশপ। সেই উইকেটের মধ্য দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ হয় হাসানের। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার একার। এর আগে ৩৮ টেস্টে চারবার এই কীর্তি আছে শাহাদাত হোসেনের। হাসান মাত্র ১৯ টেস্টেই ৫ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন। তবে এখানেই থামেননি তিনি। শামার জোসেফের স্টাম্প উপড়ে দিয়ে তুলে নেন ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট পেলেন হাসান। বাংলাদেশের আর কোনো পেসার একাধিকবার এই কীর্তি গড়তে পারেননি। তার এই ৫ উইকেটের আরেকটি বিশেষত্ব, প্রতিবারই এসেছে ভিন্ন দেশে। এতে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৫টি ৫ উইকেট ভিন্ন ভিন্ন দেশে নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন এ পেসার।
হাসানের বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। তার পাশাপাশি একটি উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৯ ওভার বোলিং করেও উইকেটের দেখা পাননি অফ ফর্মে ভোগা বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
বোলিংয়ের এই সাফল্যের পর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল ব্যাট হাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করার। কিন্তু ইনিংসের শুরুতেই সেই সম্ভাবনায় ধাক্কা লাগে। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ইনিংস শুরু করেন নাঈম হাসান। ক্যারিয়ারে আগে কখনো ৮ নম্বরের ওপরে ব্যাট না করা এই অফ স্পিনার প্রথমবার এই দায়িত্ব পালন করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি। জেইডেন সিলসের বলে সিøপে ক্যাচ দিয়ে ছয় বলে পাঁচ রান করে ফেরেন তিনি।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসানও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৩ বলে ১৬ রান করেন তিনি। মাত্র ২২ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও হৃদয় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত সাবধানী হতে গিয়ে উল্টো বিপদ বাড়িয়ে ১৮ রানে ফেরেন শান্ত। ৩ উইকেট হারিয়ে চাপ আরও বাড়লেও দিনের শেষ ভাগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয় ও মুশফিক। হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করবেন। প্রথম ইনিংসে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ জুটিতেই এখন আশা দেখছে বাংলাদেশ। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হাসান বলেন, ‘এখন যে জুটি হচ্ছে, যদি মুশফিক ভাই এবং হৃদয় চালিয়ে যেতে পারে, আমার মনে হয় আমরা ওদের রান পেরিয়ে যেতে পারব।’