কুবিতে পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগ

সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের দুই সদস্য ও তাদের একজন সোর্স কুমিল্লা নগরের একটি গলিতে দুই তরুণকে তল্লাশি করেন। এ সময় তরুণরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেন। তল্লাশি শেষে ওই তিনজনের পরিচয়পত্র দেখতে চান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় এবং তাদের আচরণে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এ সময়ে পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে প্রক্টোরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির মীমাংসা হয়।

ওই তিনজনের একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শ্যামল সাহা। অপর দুজনের একজন একই থানার কনস্টেবল হানিফ এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পুলিশের দাবির, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তারা সাদা পোশাকে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় সন্দেহভাজন মনে হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে আরও শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ না দিয়ে জোর করে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার সময় সিফাত হোসেন সিয়াম ও তার বন্ধু অর্পের পথ আটকান তিন ব্যক্তি। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা তল্লাশি শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিচয় জানতে চাইলেও তারা তা দিতে রাজি হননি; পরিচয়পত্র দেখাতে বললে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আরও শিক্ষার্থী এলে দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি হয়।

এরপর ওই তিনজনের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে তাদের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, পরিচয় দেওয়ার পরপরই তাদের একজন পকেটে হাত দেন। এভাবে সরাসরি কারও পকেটে হাত দেওয়ার অধিকার তাদের নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তল্লাশির নামে কারও পকেটে কিছু ঢুকিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী বাসে ওই তিনজনকে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা।

এএসআই শ্যামল সাহা বলেন, দুই শিক্ষার্থীকে দেখে পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। কুবির শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরিচয় জানতে চাইলে আমরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখাই, আর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করারও পরামর্শ দিই। কিন্তু তা না করে জোর করে বাসে তুলে আমাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস ওই তিনজনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, থানা, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিতেন, তাহলে বিষয়টি সেখানেই মিটে যেত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরা পরিচয় দিতে চাননি এবং তাদের কাছে আইডি কার্ডও ছিল না। শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল; বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রক্টোরিয়াল বডিকে জানালেই ভালো হতো। জোর করে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের কথা শুনে আমরা একটি যুক্তিসংগত সমাধানে পৌঁছেছি, যা সবাই মেনে নিয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে অনেক পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদস্যদের বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধরে নিয়ে যাওয়ার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।