সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালটা মিশ্র অনুভুতিতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। একদিকে উইকেটে বুক চিতিয়ে লড়াই করে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়; অন্যদিকে একই ধরনের শট খেলে সাজঘরে ফিরে গেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সফট ডিসমিসালের খেসারত দিয়ে বিপদে পড়েছে স্বাগতিকরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫৮ ওভার শেষে ৫ উইকেটের বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৬৮ রান। এতে এখনো ১৮৮ রানে পিছিয়ে আছে শান্তরা। উইকেটে থিতু হৃদয় অপরাজিত আছেন ৬৮ রানে। আর নতুন ব্যাটার মিরাজ ব্যাট করছেন ১৪ রানে।
দিনের শুরুটা বেশ দেখেশুনে করেছিলেন আগের দিন অপরাজিত থাকা হৃদয় ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের রান একশ পার করে নিরাপদ এগোচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে ছন্দপতন ঘটে। জোমেল ওয়ারিক্যানের রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা অফ স্টাম্পের বাইরের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কভারে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। ৩৪ রান করে তাঁর এই বিদায়ে ভাঙে ৭৩ রানের জুটি। একই সঙ্গে টেস্টে ৭ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষাটা আরও একটু বাড়ল এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের।
এদিকে মুশফিকের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও। উইকেটে এসে দুটি চার মেরে ভালো শুরু আশা জাগিয়েছিলেন ঠিকই, তবে দলীয় ১৪১ রানের মাথায় ঠিক যেন মুশফিকের আউটেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি। ওয়ারিক্যানের ধীরগতির ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে আবারও একইভাবে কাভারে সেইকিংয়ের হাতে ক্যাচ লিটন। ৭ বল খেলে ফেরেন ৮ রান করে।
মুশফিক ও লিটন যখন উইকেটের এক প্রান্তে সাজঘরের পথ ধরছেন, তখন অন্যপ্রান্তে ঠিকই নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন হৃদয়। মিরপুর টেস্টে বাজে শটে আউট হয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়া এই ব্যাটার সিলেটে ব্যাট করছেন দারুণ দৃঢ়তায়। ১০৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।