লো-স্কোরিং থ্রিলারে ভারতকে জেতাল বৃষ্টিভাগ্য 

বৃষ্টির কারণে জমে ওঠা কম রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। ওয়েলিংটনে আজ বৃষ্টির কারণে ৪৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় পেসারদের তোপে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। 

আপাতদৃষ্টিতে ১৩৫ রানের লক্ষ্যটি সহজ মনে হলেও ম্যাচটিকে শ্বাসরুদ্ধকর নাটকে রূপ দেয় কিউই পেসাররা। ভারতীয় মিডল অর্ডারের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচনে দল যখন ১১৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে মারাত্মক বিপদে, ঠিক তখনই আবারও বৃষ্টির আগমন ঘটে। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে পার স্কোরের চেয়ে ৪ রানে এগিয়ে থাকায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই পিচে ট্র্যাম্পোলিনের মতো বাউন্স এবং উইকেটের চরিত্র ছিল পেসারদের পুরোপুরি অনুকূলে। টস জিতে বল হাতে নিয়ে শুরু থেকেই কিউই ব্যাটারদের কোণঠাসা করে ফেলেন ভারতের তরুণ পেসাররা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং উপহার দিয়ে ১০ ওভারে ৩০ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করেন তরুণ পেসার গুরুনুর ব্রার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে আকিব নবি ও আনশুল ২টি করে উইকেট তুলে নেন। 

কিউইদের পক্ষে কেবল ড্যারিল মিচেল (৫৫) ও মিচেল স্যান্টনার (৩১) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে পঞ্চম উইকেটে ৫৯ রান যোগ করতে সক্ষম হন। ৪১ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূচনাতেই চরম বিপর্যয় দেখা দেয় ভারতীয় শিবিরে; শুভমান গিল গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন, বিরাট কোহলি ৭ ও রোহিত শর্মা ২৩ রানে বিদায় নিলে বাড়ে চাপ।

সহজ রান তাড়ায় ভারতীয় ব্যাটারদের শট নির্বাচনের দুর্বলতা আবারও ফুটে ওঠে। শ্রেয়াস আইয়ার (৩০) ও কে এল রাহুল কিছুটা চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ম্যাচ যখন যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারত, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেই মুহূর্তে ২৬ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১১৩ রান, যা ডিএলএস নিয়মে নির্ধারিত পার স্কোর ১০৯ থেকে ৪ রান বেশি ছিল। এতে বাকি সময়ে কোনো বল মাঠে না গড়ালেও নিয়মানুযায়ী জয়ী ঘোষিত হয় ভারত।