আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন তথা ভারতের প্রগতিশীল চলচ্চিত্র আন্দোলনের দৃঢ়, সংবেদনশীল ও মানবিক কণ্ঠস্বর নন্দিতা দাশ। এই অভিনেত্রী কেবল পরিচালক সমাজকর্মীই— তিনি এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ধারক, যিনি চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করেছেন সমাজ ও মানুষের গল্প বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। আজ এই আলোকিত নারী স্পর্শ করেলেন জীবনের আটান্ন বসন্ত।
১৯৬৯ সালের ৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা প্রখ্যাত শিল্পী যতীন দাস, মা বর্ষা দাস একজন লেখিকা। ওড়িয়া পরিবারে বেড়ে ওঠা নন্দিতা পড়াশোনা করেছেন দিল্লির সর্দার প্যাটেল বিদ্যালয়ে, এরপর মিরান্ডা হাউস থেকে ভূগোলে স্নাতক এবং দিল্লি স্কুল অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক থেকে সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
নন্দিতা দাস ২০১৪ সালে ছিলেন ইয়েল ওয়ার্ল্ড ফেলো, যেখানে ৪,০০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হন মাত্র ১৬ জন উদীয়মান বিশ্বনেতার একজন হিসেবে। তিনি দশটি ভিন্ন ভাষায় ৪০টিরও বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে ফায়ার (১৯৯৬), আর্থ (১৯৯৮), বাওন্দর (২০০০), কান্নাথিল মুথামিট্টাল (২০০২), আজাগি (২০০২), কমলি (২০০৬), বিফোর দ্য রেইনস (২০০৭) উল্লেখযোগ্য। ২০০৮৯ সালে‘ফিরাক’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। গুজরাট দাঙ্গার পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শিত হয় এবং বিশ্বের ৫০টিরও বেশি উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২০টিরও বেশি পুরস্কার অর্জন করে।
নন্দিতার দ্বিতীয় পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মন্তো’ (২০১৮), চলতি শতাব্দীর বিখ্যাত ভারত-পাকিস্তানি গল্পকার সাদত হাসান মন্তোর জীবন অবলম্বনে নির্মিত। পরের বছর ২০১৯ সালে তিনি ‘India’s Got Colour’ নামে একটি সংগীতধর্মী জনসচেতনতামূলক ভিডিও প্রযোজনা করেন, যা ভারতের ত্বকের বর্ণবৈচিত্র্যকে উদযাপন করে এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক বার্তা দেয়। বরেন্য এই তারকার মতে, শিল্প শুধু বিনোদনের জন্য নয়, তা সমাজের প্রতিচ্ছবি ও পরিবর্তনের মাধ্যম।