খুলনায় নতুন করে আঁকা হলো রবীন্দ্রনাথের মুখাবয়ব

খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী রেলস্টেশনসংলগ্ন দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখাবয়ব নতুন করে আঁকা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে তার প্রতিকৃতি পুনরায় আঁকা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা গুণীজনদের প্রতিকৃতির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালো কালি লেপে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় খুলনার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্রটি আঁকা হয়েছিল। সেটিতে কালি লেপনের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানান খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য কবির প্রতিকৃতিতে কালি লেপন অসম্মানজনক ও বিদ্বেষমূলক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিকৃতিটি আবারও আঁকার ঘোষণা দেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বিকৃত করা দেয়ালচিত্রটি পরিদর্শন করেন কেসিসি প্রশাসক। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে দেয়ালে খুলনার ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও রয়েছে। কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করা হবে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসম্মানজনক।

ওই দিন রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির মুখমণ্ডল কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টারও সাঁটানো হয়। সাংস্কৃতিক কর্মীদের ধারণা, দেশের স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী এ কাজের সঙ্গে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে বিভিন্ন গুণীজনের গ্রাফিতি আঁকা হয়। রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতির পাশে দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতিও রয়েছে। তবে সেগুলো অক্ষত থাকলেও শুধু রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় খুলনার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরের দিন গভীর রাতে অথবা ভোরে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায়। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় খুলনার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খুলনায় এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে এসব প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লাগানোর ঘটনাটি দুঃখজনক। অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।