উদ্ভাবনী প্রকল্পে তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতা দেবে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে কুমিল্লা পুলিশ লাইনস কনভেনশন হলে কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উৎসব ‘উড়ান-৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ দেশটা আমার, আপনাদেরও। আপনারাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবেন। বর্তমান সরকার যুবসমাজকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আপনারা ভালো কোনো প্রকল্প নিয়ে আসতে পারলে সরকার ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা করবে।
 
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। এ খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আইটি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করা সম্ভব। এ জন্য তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউট পাঁচ বছর ধরে এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দক্ষতা অর্জন করছেন।
 
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, দেশের প্রতিটি খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে। কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
 
কৃষি খাতের আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। এর অন্যতম কারণ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। বাজারে কোনো পণ্যের চাহিদা কত, উৎপাদন কত হচ্ছে—এসব তথ্য কৃষক, ব্যবসায়ী ও সরকারের কাছে যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন। এ জন্য কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
 
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হোসেন মিয়া, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী আক্কাস, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জলিল, আইসিটি আইএসসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরেন্দ্র অধিকারী ও জেলা আইসিটি কর্মকর্তা বশির আহমেদ।
 
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির সিও হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা জয়ব্রত ঘোষ।