খাবার তৈরির উপকরণে ময়লা, মেয়াদোত্তীর্ণ বাটার, পোড়া তেল, মাছি ও তেলাপোকার উপস্থিতিসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি পরিচিত খাদ্য প্রতিষ্ঠানে। একটি সুপারশপে খাদ্যপণ্যের পাশে রাখা ছিল ইঁদুর মারার ওষুধ। অন্যদিকে, একটি ক্যাফেতে কেকের ওপর পাওয়া গেছে মুরগির নখ। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।
আদালতের কার্যক্রমে ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে খাদ্য উৎপাদনে লেবেল ও মেয়াদবিহীন বাটার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ডালডার মধ্যে পাওয়া যায় পলিথিন ও ময়লা। টোস্ট পাউডার ও খামিতে ছিল মাছি। টোস্ট সংরক্ষণের স্থানে দেখা যায় তেলাপোকার বিচরণ। এ ছাড়া চানাচুর ও মটরভাজা তৈরিতে পোড়া তেল ব্যবহার, কেক ও রুটি তৈরির উপকরণে ময়লা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের চিত্রও পাওয়া যায়। মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
শপিং ব্যাগ সুপারশপেও পাওয়া গেছে একাধিক অনিয়ম। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল মেজবানি মাংস। রান্নায় ব্যবহৃত তেলে ছিল ময়লা। খাদ্যপণ্যের পাশে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল ইঁদুর মারার ওষুধ। শিশুদের খেলনা বিক্রির স্থানের পাশেই রাখা ছিল মেজবানি মাংসের গরম পাতিল। এ ছাড়া পচা মরিচ সংরক্ষণ এবং খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত কর্মী দিয়ে মসলা প্রস্তুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। আমদানি করা খাদ্যপণ্যে যথাযথ লেবেলও ছিল না।
এসব অনিয়মের দায়ে সুপারশপটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের খেলনা বিক্রির স্থান ও মাংসের পাতিল আলাদা জায়গায় রাখার প্রমাণ আগামী ১৫ নভেম্বর আদালতে সশরীর উপস্থিত হয়ে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, কাহওয়া ক্যাফেতে কেকের ওপর মুরগির নখ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে ময়লাযুক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ খামি, পচা বিটরুট ও মেয়াদোত্তীর্ণ পাতি সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ডাস্টবিনও ছিল খোলা ও অপরিচ্ছন্ন। এ ছাড়া ম্যাঙ্গো ফ্লেভার ড্রিংকসকে ম্যাঙ্গো ড্রিংকস হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের পরিচয়ে কারসাজি করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে ক্যাফেটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এসআরবি-৭ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল অংশ নেয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।