বিষাক্ত ম্যানশিনিল গাছ

বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত গাছ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে ‘ম্যানশিনীল’। গাছটিকে স্থানীয়ভাবে ‘মৃত্যুগাছ’ নামে ডাকা হয়। মূলত ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, মেক্সিকো উপসাগর, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলীয় অঞ্চলে এই গাছ জন্মায়। গাছটি দেখতে বেশ সুন্দর এবং এর ফল আপেল বা পেয়ারার মতো। তবে ভুল করে কেউ খেলে তীব্র যন্ত্রণা হয়, মুখ ও খাদ্যনালি ফুলে যায় এবং শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে। এই গাছের পাতা, বাকল এবং সাদা রঙের কষ চরম বিষাক্ত। কষে

থাকা ‘ফরবল’ নামক উপাদান ত্বকের সংস্পর্শে এলে, তীব্র রাসায়নিক ক্ষতের মতো জ¦ালা ও ফোস্কা তৈরি করে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির দিনে এই গাছের নিচে আশ্রয় নিলেও বিপদ। কারণ গাছের পাতা থেকে ধুয়ে পড়া বিষাক্ত পানি গায়ে লাগলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি এই গাছের বাকল বা কাঠ পোড়ানো হলে যে ধোঁয়া বা গ্যাস উৎপন্ন হয়, তা চোখে গেলে তীব্র জ¦ালা এমনকি কেউ দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। গাছটির উচ্চতা ৫০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। গাছটি এতটা বিষাক্ত যে, এর সংস্পর্শে এলে দেহের ত্বক পুড়েও যেতে পারে। গিনেস বুকে বিশে^র সবচেয়ে বিপজ্জনক গাছ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে ম্যানশিনীলের নাম। স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে গাছটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্রের পানি থেকে মাটিক্ষয় রোধ করে এই গাছ। ম্যানশিলীন সাধারণত ১০০ বছরেরও বেশি সময় বাঁচে। এটি দীর্ঘজীবী বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।