স্যাটেলাইট প্রযুক্তির বিকাশে প্রয়োজন দক্ষ জনবল

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)। ২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। কৃত্রিম উপগ্রহটির পরিচালনা করে সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। উপগ্রহের আয়-ব্যয়, সেবার সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের মহাকাশ প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জনের নানা দিক নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানিতে কেমন কাটছে আপনার সময়?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যোগ দিয়েছি। এর মধ্যে কয়েক বছর কেটে গেছে। ভালোই আছি। আমাদের সহকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে কিছু সমস্যা ছিল। এর মধ্যে বিপণন ও বিক্রিতে নীতিগত কিছু সমস্যা ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুযোগ-সুবিধার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো ভাঙতে হয়েছে। নতুন গ্রাহক কীভাবে পাওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। বিপণন ও বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক কাজ করেছি। আর সেবার মান উন্নয়ন ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত ছয় মাসে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) কার্যত শতভাগ সময় স্যাটেলাইটের সেবা চালু ছিল।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার, দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করলে অবশ্যই উন্নতি হয়েছে। আমরা আয় বাড়ানোর জন্যও কাজ করেছি। এ ছাড়া আগে প্রতিষ্ঠানটিতে যে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল, বর্তমানে তা আর নেই। অতীতের এসব প্রভাবের বিষয়সহ টেলিযোগাযোগ খাতে গত ১৫ বছরের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্রে বিএসসিএলের পক্ষ থেকে সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেছি।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ১-এ বর্তমান সেবাগ্রহীতা কারা? কী ধরনের সেবা দিচ্ছে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : স্যাটেলাইটটির মেয়াদ ১৫ বছর ২০৩৩ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তা আরও প্রায় ১৬ মাস বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিএস-১ মূলত সম্প্রচার ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে দেশের সব টেলিভিশন সম্প্রচার নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় ফাইবার অপটিক সংযোগ (ইন্টারনেটের তার) নেই, অর্থাৎ দুর্গম পাহাড়ি বা চরাঞ্চলে আমাদের সেবা পৌঁছাচ্ছে। এর আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক আমাদের সেবা নিচ্ছে। যার ফলে শহর, নগরের সঙ্গে দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সফলতা পাচ্ছে এবং ব্যাংকের এটিএম বুথে সেবা পাচ্ছে গ্রাহকরা। এ ছাড়া আমরা কিছু বিশেষ সেবাও দিই, যেমন দুর্যোগের সময় যোগাযোগ সচল রাখা।

দেশ রূপান্তর :  বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানিতে বর্তমানে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : আমাদের স্যাটেলাইটের আওতা বাংলাদেশের বাইরে তাইওয়ান থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে স্যাটেলাইটের আওতাভুক্ত অঞ্চলে কীভাবে সেবা বিক্রি করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রকল্পটি গ্রহণের সময় স্যাটেলাইটের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বিদেশে সেবা বিক্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশে সেবা বিক্রির বিষয়ে ভারতের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ভারতে ল্যান্ডিং রাইটস না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নেপালে একজন সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেখা যাক, আলোচনা কতদূর এগোয়।

দেশ রূপান্তর : স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পর বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ১-এর ব্যবসা ও সেবার চাহিদায় কেমন প্রভাব পড়েছে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : বিএস ১-এর চাহিদায় কোনো প্রভাব পড়েনি। যে সেবাগুলো বিএসসিএল দিতে পারছে না সেগুলো স্টারলিংকের মাধ্যমে দিচ্ছে। তাদের (স্টারলিংকের) সঙ্গে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে, আর দেশে গ্রাহকদের কাছে সেই সেবা বিক্রি করছে বিএসসিএল। বিএস ১-এর মাধ্যমে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব না। কারণ এটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট (উচ্চ কক্ষপথে অবস্থিত), যা পৃথিবী থেকে অনেক উঁচুতে। এ কারণে এটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপলোড ও ডাউনলোডের গতি স্টারলিংকের তুলনায় অনেক কম থাকে। অন্যদিকে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো লো-আর্থ অরবিট বা নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে অবস্থান করায় পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি থেকে সেবা দিতে পারে।

দেশ রূপান্তর : জাতীয় নিরাপত্তায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ১-এর যোগাযোগব্যবস্থা কতটা নিরাপদ?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ১-এর যোগাযোগব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটির মাধ্যমে দেওয়া সেবা ইন্টারনেট-নির্ভর নয়। কোনো গ্রাহক বিএস ১-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ভি-স্যাট (স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণের যন্ত্র) ব্যবহার করলে, সেই সংযোগের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য প্রথমে স্যাটেলাইটে যায়। স্যাটেলাইট থেকে তথ্য পৌঁছায় গ্রাউন্ড স্টেশনে। এরপর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বিএসসিএলের নিজস্ব ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে তথ্য পাঠানো হয়। অর্থাৎ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য উন্মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। ফলে এ ব্যবস্থায় তথ্যের নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে বেশি নিশ্চিত করা সম্ভব।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত একটি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিএসসিএলের কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : মহাকাশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। সেখানে বহু ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে কিছু ধ্বংসাবশেষের গতিপথ নির্দিষ্টভাবে অনুমান করা সম্ভব। মহাকাশের বস্তু পর্যবেক্ষণকারী ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে সেগুলোর অবস্থান নির্ণয় করে জানা যায়, কোনো বস্তু কখন এবং কতটা কাছাকাছি চলে আসতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্যাটেলাইটের সঙ্গে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগব্যবস্থা চালু রয়েছে। মহাকাশের পরিস্থিতি এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে গতিপথসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : বিএসসিএলের সামনে আরও দুটি উদ্যোগ রয়েছে। সামুদ্রিক নজরদারির জন্য অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) স্যাটেলাইট এবং আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা। এআইএস স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি ও সামুদ্রিকসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলা যাবে।

বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কোন জাহাজ আসছে, কোনটি চলে যাচ্ছে এবং কোথায় কোন নৌযান চলাচল করছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের বর্তমানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সমুদ্রে মাদক, পণ্য ও মানুষ পাচারের মতো ঘটনাও ঘটে। এআইএস স্যাটেলাইট ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যাবে।

এআইএস ব্যবস্থা চালুর জন্য চারটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি স্যাটেলাইটের পৃথিবী একবার প্রদক্ষিণ করতে আনুমানিক ৯০ থেকে ৯২ মিনিট সময় লাগবে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে একটি স্যাটেলাইটের আনুমানিক ১১ থেকে ১২ মিনিট সময় লাগবে। চারটি স্যাটেলাইট থাকলে প্রায় ১০ থেকে ১২ মিনিট পরপর আরেকটি স্যাটেলাইট ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাবে। ফলে সামুদ্রিক এলাকায় নৌযানের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

দেশ রূপান্তর : আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কীভাবে কাজ করবে, সরকার এটা থেকে কীভাবে উপকৃত হবে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ওপর থেকে সরাসরি ভূমির ছবি তোলা যাবে। এর ব্যবহার ও সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, নগরায়ণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন খাতে এ স্যাটেলাইট কাজে লাগবে। উদাহরণ হিসেবে কৃষির কথা বলা যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রতি বছর ধানের উৎপাদনের পরিমাণ অনুমান করতে হয়। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে তুলনামূলক নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব, কোনো বছরে কত ধান উৎপাদিত হয়েছে বা হতে পারে। দুই-তিন মাস আগেই এ তথ্য পাওয়া গেলে সরকার আগাম পরিকল্পনা নিতে পারবে। উৎপাদন বেশি হলে রপ্তানির পরিকল্পনা করা যাবে। আর উৎপাদন কম হলে সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

দেশ রূপান্তর : স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে?

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান : স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে নিজেদের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। বাংলাদেশ যদি এ প্রযুক্তিতে জাতীয়ভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে চায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপযুক্ত স্নাতক তৈরি করতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি না করলে এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। বিএসসিএল এখন যেসব স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করছে, সেগুলোর প্রায় যন্ত্রাংশই বিদেশ থেকে কিনতে হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এখনো সবকিছু তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন হয়নি আমাদের। কিন্তু ১০ বছর পরও যদি সবকিছু কিনতে হয়, তাহলে এ সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য কোথায়? তাই লক্ষ্য থাকতে হবে, ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো স্যাটেলাইট তৈরি করতে না পারলেও অন্তত এর একটি বড় অংশ যেন বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি। এ জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ চালু করেছি। বেশ কিছু শিক্ষার্থীও বিএসসিএলে এসেছে। এর মাধ্যমে আমাদের তরুণদের কাছ থেকে নতুন ধারণা পাওয়া এবং তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়। তাই আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।