নোবিপ্রবিতে নাহিদ ইসলাম

ডিসেম্বরে দেশে এলে হাসিনার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ডিসেম্বরে কোনো আপার এই দেশে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। আর যদি আসেন, তবে তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে, ইনশাআল্লাহ।

গতকাল শনিবার বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ২০২৫-২৬ সেশনের নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির নেতা সারজিস আলম, হান্নান মাসউদ এমপি, নিজাম উদ্দিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি। আপনাদের সেটার প্রমাণ দিতে হবে।’

আগামী ডিসেম্বরে সম্ভাব্য কারও দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে।’

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিকতার চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বমঞ্চের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু নোয়াখালী বিভাগ চাই বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ ও বিশ্ব নিয়ে ভাববেন। এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বে কোথায় কী ঘটছে তা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সবকিছু সম্পর্কে জানতে হবে। চাকরির বাজার এখন আর শুধু দেশে সীমাবদ্ধ নেই, গ্লোবাল মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।’

৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, ‘আমরা ৭ নভেম্বরকে ধারণ করি এবং একে বিপ্লব মনে করি। কিন্তু বর্তমান সরকারের কাছে যেটি তাদের পক্ষে যায় কেবল সেটিই বিপ্লব। আর যেটি তাদের পক্ষে যায় না বা যেটিতে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটাকে তারা বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়। আমরা ৭ নভেম্বর এবং জুলাই বিপ্লব দুটোকেই বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দিই।’

বিগত দুবছরে হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার ক্ষোভপ্রকাশ করে বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছিলাম। আমরা ওসমান হাদির ভাষায় বলেছিলাম শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করব। কিন্তু গত দুবছরে আমরা ওসমান হাদি হত্যা বা জুলাইয়ের শহীদ ভাই-বোনদের হত্যার কোনো বিচার পাইনি। জনগণ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে।’