মানুষের জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ের নিয়ম বাতলে দিয়েছে ইসলাম। সেই সূত্রে নবজাতকের জন্ম-পরবর্তীতে অভিভাবকের করণীয় সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা হলো সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে সন্তানের আকিকা করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং তার মার্জিত অর্থবহ সুন্দর নাম রাখা।
হাদিসে এসেছে, ‘সন্তান আকিকার সঙ্গে দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করবে, নাম রাখবে ও মাথা মুণ্ডন করে দেবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)
এ তিনটির কোনোটি অপরটির সঙ্গে শর্তযুক্ত নয়। তাই কারও আর্থিক সমস্যার দরুন যদি সপ্তমদিনে সন্তানের আকিকা করতে না পারে, তাহলেও ওই দিন মাথা মুণ্ডন করে দেবে এবং সুন্দর অর্থবহ নাম রাখবে। আকিকা করতে বিলম্ব হলেও এসব কাজে বিলম্ব করবে না। আর সামর্থ্যবান হলে, আকিকা করা আবশ্যক। অনেকের ধারণা, পঞ্চম দিনে মাথা মুণ্ডন করতে হয়। ধারণাটি সঠিক নয়। হাদিস শরিফে যেহেতু সপ্তম দিনে মাথা মুণ্ডন করতে বলা হয়েছে। মাথা মুণ্ডন করার পর চুলের ওজন পরিমাণ রুপা বা স্বর্ণ কিংবা সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণ বা রুপা থেকে যেকোনো একটির সমপরিমাণ মূল্য দান-সদকা করা মুস্তাহাব।
রাসুল (সা.) তার নাতি হাসান (রা.)-এর আকিকা দিয়ে ফাতেমা (রা.)-কে বলেন, ‘তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রুপা সদকা করে দাও।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৫১৯)
অন্য এক হাদিসে রুপা বা স্বর্ণ সদকা করার কথাও এসেছে। (মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস: ৬২০৪; ইলাউস সুনান: ১৭/১১৯)
প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবি (রহ.)-এর একটি কারণ এই লিখেছেন যে, ‘সন্তান যে চুলসহ ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, তা কেটে ফেলার মাধ্যমে সন্তান একটি অবস্থানে পদার্পণ করে। তাই এর শুকরিয়াস্বরূপ ওই চুলের বিনিময়ে সদকা করার হুকুম দেওয়া হয়েছে।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা: ২/১৪৫)।
কোনো কারণবশত বাচ্চার চুল যদি সপ্তম দিনে মুণ্ডানো সম্ভব না হয়, তাহলে সপ্তম দিনের চুলের ওজন অনুমানে রুপা বা স্বর্ণ সদকা করে দেবে।