সংকট মোকাবিলায় ঐক্য ও দেশপ্রেমের বিকল্প নেই: এমরান সালেহ প্রিন্স

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ৭ নভেম্বরের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। সকলকে  দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন 'আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। আমাদের স্বার্থ একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থ। আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ'।  ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে আধিপত্যবাদ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের ঐতিহাসিক মাইলফলক।

২০২৪ এর ৫ আগস্টও জন প্রতিরোধের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের বিরুদ্ধে। ৪৯ বছরের ব্যাবধানে এই দুই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীদের পতন ঘটেছে। নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে তারা আর ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেম জাগ্রত হওয়ার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পাওয়ার দিন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হালুয়াঘাট ডিএস মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এই দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের এক ঐতিহাসিক প্রতীক ।

তিনি বলেন, সেই সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে আবির্ভূত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, উৎপাদনমুখী উন্নয়ন এবং সবার আগে বাংলাদেশ। আজকের পরিবর্তিত বিশ্বেও সেই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি জাতীয় ইতিহাসে নিজস্ব মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। কেউ এই দিনের গৌরব ম্লান করতে কিংবা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। যারা অন্য দেশের তাঁবেদারি করে, তারাই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ভয় পায়।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের শিক্ষা দেয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।

আজকের এই বর্ণাঢ্য মিছিল শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি আমাদের ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো কোনো নবীন রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হবে না কেন? এ ধরনের প্রশ্ন তুলে তাঁরা প্রকারান্তরে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের এই বয়ান ৭ নভেম্বরবিরোধী শক্তির বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, তাদের মনে রাখা উচিত, বিএনপির জন্মের আগেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি সেই স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করেছে। বিএনপি নতুন করে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লবের স্বীকৃতি দেয়নি।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান নিজ নিজ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। একটি অন্যটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও অবদানের আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

সমাবেশে‌ আরও বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ।

সমাবেশের পর একটি মিছিলের কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি হালুয়াঘাট ডিএস মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হালুয়াঘাট উত্তর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হয়। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স পালাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নাশকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাত করা হবে ।

তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থানের পূর্বে হাসিনা বলেছিলেন, ' শেখের বেটি পালায় না' কিন্তু তিনি পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি বলছেন, ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন। আসলে তিনি ফিরবেন না। ফিরবেন ফিরবেন বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যে কোন ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে নস্যাৎ করা হবে।