গালি দেওয়া জঘন্য পাপ

গালি দেওয়া নিন্দনীয় স্বভাব। রাগ, ক্ষোভ কিংবা বিরোধের কারণে কেউ কেউ অন্যকে গালি দেন। কেউ কথায় কথায় অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। আবার কেউ ঠাট্টা বা হাসির ছলেও অন্যকে অপমান করেন। অথচ ইসলামে মানুষের সম্মান রক্ষা এবং সুন্দর ভাষায় কথা বলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলমানের কথাবার্তায় শালীনতা, ভদ্রতা ও সংযম থাকা ইমানের পরিচয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে, তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজুরাত ১১)

এ আয়াতে অন্যকে অপমান করা, বিদ্রূপ করা এবং মন্দ নামে ডাকার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ কারও দুর্বলতা নিয়ে ঠাট্টা করা কিংবা তাকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করা ইসলামের শিষ্টাচারবিরোধী।

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলো, তারা যেন এমন কথা বলে, যা উত্তম। নিশ্চয়ই শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।’ (সুরা ইসরা ৫৩)

এ নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, কথাবার্তায় উত্তম শব্দ নির্বাচন করা জরুরি। কারণ অসংযত কথা মানুষের মধ্যে শত্রুতা, দূরত্ব ও বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

গালির ভয়াবহতা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি।’ (সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া গুরুতর পাপের কাজ। অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও নির্লজ্জ হয় না।’ (জামে তিরমিজি)

এ হাদিসে মুমিনের চরিত্রের সঙ্গে গালির অসংগতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ একজন মুসলমানের কারণে অন্য কেউ যেন কথা বা কাজে কষ্ট না পায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

গালি দেওয়ার অভ্যাস পরিবার, সমাজ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সন্তানদের সামনে অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে তারা সেখান থেকে অসুন্দর আচরণ শিখতে পারে। তাই রাগের সময়ও জিহ্বা সংযত রাখা জরুরি। কেউ অপমান করলে পাল্টা গালি না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করা উত্তম।

যারা গালির অভ্যাসে অভ্যস্ত, তাদের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, এ অভ্যাস পরিত্যাগ করা এবং যাকে কষ্ট দিয়েছেন, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। কারণ একজন মুমিনের পরিচয় তার কথাবার্তা ও আচরণে প্রকাশ পায়। সুন্দর ভাষায় কথা বলা যেমন উত্তম চরিত্রের পরিচয়, তেমনি অশ্লীলতা ও গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকা ইমানি দায়িত্ব।