
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন চার দশকের বেশি সময়। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাব) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী
দেশ রূপান্তর : বায়ান্নতে পা দিল বাংলাদেশদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : গত ৫১ বছরে আমাদের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তলাবিহীন ঝুড়ির অবস্থান থেকে আমরা এখন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কভিড সংকটের সময়েও ৭ শতাংশের ধারেকাছে ছিল। গত দেড় দশক এই উন্নতি দ্রুত হয়েছে, তবে কভিড সংকট এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী যে বিশাল সংকট সৃষ্টি করেছে তার অভিঘাতে আমরা এখন বিপদে আছি।
উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু পাশাপাশি বৈষম্য বেড়েছে। এই বৈষম্য প্রকট করেছে দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, বিত্তবানদের লোভ এবং বিদেশে টাকা পাচারের চর্চা। কিছু মানুষের হাতে প্রচুর অর্থ, অথচ তৃণমূল পর্যায়ে কৃষক-শ্রমিক-খেটে খাওয়া মানুষের এখন তিন বেলা আহার জোটানো কঠিন। এ অবস্থার জন্য দায়ী নীতি ও কৌশলের দুর্বলতা, মন্ত্রণালয়গুলোর এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকান্ডে অস্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির অভাব। ব্যাংকের তহবিল লুটে নেওয়ার খবর আমরা শুনি, কিন্তু অপরাধীদের শাস্তি পেতে দেখি না। এসব ক্ষেত্রে সরকার যদি কঠোর হয়, আইন-আদালত কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটবে। এটি না হলে সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য মøান হয়ে যাবে।
সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, প্রধানত শিক্ষার বিস্তারের ফলে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং মিডিয়ার ইতিবাচক ভূমিকার কারণে। বড় কিছু এনজিও সামাজিক উন্নয়নে প্রভাব রেখেছে। তাদের কাজে দারিদ্র্য কমেছে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। সরকারের অনেক নীতি ও কর্মসূচি বিশেষ করে স্কুল-কলেজের মেয়েদের বৃত্তি দেওয়া, বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ ইত্যাদি সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। উল্টোপিঠে, সমাজে সাম্প্রদায়িকতা, হানাহানি এবং সংঘাত বেড়েছে। উগ্রবাদের প্রসার ঘটেছে। সংস্কৃতিচর্চা ক্রমশ অদৃশ্য হচ্ছে। এই নেতিবাচক প্রবণতাগুলো চলতে থাকলে সমস্যা আরও বাড়বে।
রাজনীতিতে সংঘাত এবং রক্তক্ষয় চিরস্থায়ী হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে নিয়ে যে রাজনীতিচর্চা হচ্ছে তাতে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। বড় দুই দল পরস্পরের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস পোষণ করে, এটি রাজনীতিতে সুস্থতা আনতে পারে না। ১৯৭১ সালকে অস্বীকার করার, এর প্রধান নায়কদের সম্পূর্ণভাবে আড়ালে ঠেলে ১৯৪৮ সাল থেকে চলা পাকিস্তানের নব্য ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশ বছরের আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে একটি পক্ষ। এই মানসিকতার অবসান না হলে রাজনীতি কখনো সংঘাতমুক্ত হবে না, একাত্তরে যারা স্বজাতি হত্যা করেছিল, তাদের শক্তিশালী করা হবে। দুঃখজনক সত্যটি হলো, ১৯৭১ নিয়ে ছড়ানো নানা বিভ্রান্তিও দেশের রাজনীতিকে দুর্বল করে রেখেছে।
দেশ রূপান্তর : আপনাদের বেড়ে ওঠার সময় বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ধরন কেমন ছিল? এখন কেমন দেখছেন?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আমি ১৯৬৮ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন বুদ্ধিজীবী শব্দটি সমীহ জাগাত। কারণ বুদ্ধিজীবী তাদেরই বলা হতো যারা তাদের চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধির চর্চা দিয়ে কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে আসতেন, যেগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যেতেন, অনেকে প্রত্যক্ষ সংগ্রামেও নেমেছেন যেমন সাম্য, মানবাধিকার, দেশের সম্পদে গরিবের ন্যায্য অধিকার, শোষণ-বঞ্চনার অবসান। তাদের প্রায় সবাই পেশাজীবী ছিলেন, কিন্তু নিজস্ব পেশার বাইরে গিয়ে দেশের কল্যাণে তারা নিবেদিত থাকতেন। এরা অবধারিতভাবে ছিলেন এস্টাব্লিশমেন্ট বিরোধী অনেকে কারাভোগও করতেন।
আমাদের এই সময়ে বুদ্ধিজীবী যারা আছেন, তারা প্রধানত নিজেদের পেশাতেই নিয়োজিত থাকেন, এবং পেশাজীবী হিসেবে হয়তো সুনামও কুড়িয়েছেন। কিন্তু পেশার বাইরে গিয়ে খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তরুণ এবং পরিবর্তনকামী মানুষের পক্ষে তারা কোনো সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেন না। মাত্র কয়েকজনই আছেন, যারা পুরনো ধারার বুদ্ধিজীবী, যারা ক্ষমতাকে ভয় না পেয়ে সত্য কথাটা বলে যান।
দেশ রূপান্তর : ৭০-এর দশকে প্রফেসর রাজ্জাক বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক প্রভাব রাখতেন, পরবর্তী সময়ে তেমন কাউকে পাওয়া যায়নি। সবশেষ, তরুণদের ভেতর আহমদ ছফার জনপ্রিয়তা দেখা গেছে। তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? নতুন কেউ আসছেন না কেন, নাকি আমরা দেখতে পারছি না নতুনদের?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এদের দুজনই এস্টাব্লিশমেন্ট যেদিকে চলত, তার বিপরীতে ছিলেন। প্রফেসর রাজ্জাক মানুষের নিজস্বতাকে মূল্য দিতেন, কোনো আদেশ-নির্দেশকে পরোয়া করতেন না, প্রকৃত জ্ঞানকে আত্মস্থ করতে সবাইকে উৎসাহ দিতেন। ফলে প্রতিবাদী এবং পরিবর্তনকামী তরুণদের কাছে তিনি প্রিয় ছিলেন। আহমদ ছফা শুধু তার চিন্তাচেতনা নয়, জীবনযাপনেও এক প্রচলবিরোধী মানুষ হিসেবে নন্দিত হয়েছিলেন। তিনিও চিন্তার স্বাধীনতা এবং সক্রিয়তাকে, পুরনোকে প্রশ্ন করতে এবং হায়ারার্কি অথবা সমাজের মোড়লদের দ্বিমুখী চরিত্র এসবের বিরুদ্ধে সংগ্রামমুখর হতে তরুণদের বলতেন। নতুনরা যে আসছেন না, তা নয়, কিন্তু এখন সমাজটাই তো বদলে গেছে। এখন আহমদ ছফার মতো মানুষ যদি দলনির্বিশেষে রাজনীতিকে তার অন্তঃসারশূন্যতার জন্য প্রশ্ন করতে থাকেন, তাকে অনেক তরুণের বাধার সামনে পড়তে হবে।
এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শাসিত গুজব আর মেকি খবর এবং দৃশ্য মাধ্যমের তারল্যের যুগে এবং মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার সময়ে প্রফেসর রাজ্জাক এবং আহমদ ছফার মতো মানুষকে সহজে গ্রহণ করার মতো তরুণদের সংখ্যাই তো কম।
দেশ রূপান্তর : বলা হয়ে থাকে গত ৫০ বছরে দেশের সাংস্কৃতিক অবনমন ঘটেছে, এক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের দায় কতটুকু বা আদৌ তাদের কোনো দায় আছে কি না?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : গত পঞ্চাশ বছরে সংস্কৃতিবিরোধী শক্তি সংগঠিত হয়েছে, দীর্ঘদিন তারা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পেয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা এবং উগ্রবাদ বেড়েছে, সংস্কৃতিকে একেবারে প্রান্তিক অবস্থানে নিতে এরা তৎপর। এখন রাষ্ট্র সত্যিকার বুদ্ধিজীবীদের বিপদ ভাবে। এসব কারণে মুক্তচিন্তার মানুষেরা একদিকে এই সংস্কৃতিবিরোধী শক্তির আঘাত, অন্যদিকে সরকারের সমর্থনের অভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ফলে প্রকৃত বুদ্ধিজীবীরাও যেমন সংখ্যায় নিতান্ত কম, সমাজও তাদের আর খোলা মন নিয়ে গ্রহণ করতে রাজি নয়। সংস্কৃতির অবনমনের কারণ যদি হয় সমাজের অবস্থান পরিবর্তন (উদারনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক থেকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল, এবং অনেক সময় সংস্কৃতিবিরোধী), দায়টা তো সবার।
দেশ রূপান্তর : একসময় বদরুদ্দীন উমর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীদের আদর্শিক বুদ্ধিজীবিতার যে চর্চা তার একটা প্রভাব ছিল। এখন সেটা তেমন দেখা যাচ্ছে না। আদর্শিক বুদ্ধিজীবিতার প্রয়োজন কি শেষ?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আদর্শিক বুদ্ধিজীবিতার প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না। কিন্তু সমাজের অসহিষ্ণু, সাম্প্রদায়িক চিন্তায় আচ্ছন্ন, জাগতিক লোভের কাছে আত্মসমর্পিত অংশটির যেরকম শক্তি বাড়ছে, তাতে আদর্শের কথাটা এখন অচল হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে আছে। বুদ্ধিজীবীরা তখনই তাদের কাজের প্রভাব দেখেন যখন মানুষ নিজেদের অধিকারের (যার মধ্যে সাংস্কৃতিক অধিকার অন্যতম, যেমন ছিল ৫০-৬০ এর দশকে) জন্য সংগ্রামে নামে। সেই পরিবেশ এখন নেই। সেজন্য আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটাই প্রথমে করতে হবে, কিন্তু যেখান থেকে এই সংগ্রাম শুরু হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারসেখানেই তো দুর্বলতা প্রকট।
দেশ রূপান্তর : ইন্টারনেটের প্রসারে অনলাইনে একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার দাবি করা হয়। এ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : পশ্চিমা বিশ্বে, এশিয়ার অনেক দেশে, এমনকি ভারতেও ইন্টারনেটে জ্ঞানচর্চার একটা শক্তিশালী ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। কভিডের দুই-আড়াই বছরে আমি পশ্চিমের দু’তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুম-আলোচনায় অংশ নিয়েছি, ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও দেখেছি, যেখানে জ্ঞানের নানা অঞ্চলে আলো ফেলে কেউ লেকচার দিয়েছেন, বক্তব্য দিয়েছেন অথবা প্রশ্নোত্তরে তাদের কথাগুলো বলেছেন। ইউটিউবে আমাদের দেশের সেরকম ভিডিও আমি খুব কমই পেয়েছি। ইউটিউবে (এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) একবার ঘুরে এলে দেখবেন কীরকম হিংসা, বিদ্বেষ, অসূয়া, নারীকে নিয়ে কটূক্তি, মানুষকে অপমান করার নিরন্তর চর্চা সেখানে হয়। ইন্টারনেটে বুদ্ধিবৃত্তির যে সত্যিকার চর্চা এখানে হয়, তা এতই সীমিত যে আঠারো কোটি মানুষের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তা সত্যিই দুঃখজনক।
ইউটিউবে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর যদি কোনো বক্তৃতা পান, দেখবেন, সেই বক্তৃতা শুনেছে খুব বেশি হলে ৫ হাজার মানুষ। অথচ গালিগালাজ করা, বিদ্বেষ আর উগ্রতা ছড়ানো হয় যেসব ভিডিওতে, সেগুলো শোনে লাখ লাখ মানুষ।
ইন্টারনেটকে আমরা হয়তো একদিন জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের একটা মাধ্যম হিসেবে পাব, কিন্তু সেজন্য অনেক সময় লাগবে। ততদিনে হয়তো ইন্টারনেটই প্রাচীন হয়ে যাবে। নতুন কোনো প্রযুক্তি আসবে।
দেশ রূপান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।
যে কোনো সমাজে বসবাস করাই একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। নিজ, পরিবার ও সমাজকে নিয়ে ভাবাই রাজনীতি। সার্বিকভাবে কোনো সমাজে মানুষের সার্বিক অগ্রগতির প্রচেষ্টাই হচ্ছে সেই সমাজের রাজনীতির মোদ্দা কথা। তবে উন্নতি ও অগ্রগতি সবসময়ই আপেক্ষিক। এসব স্থান, কাল ও পাত্রের আলোকে বিবেচিত হয়। এর যেমন বস্তুগত দিক রয়েছে একই সঙ্গে রয়েছে নৈতিক প্রেক্ষাপট যেটা আচার-আচরণের সঙ্গে যুক্ত। অনেক সময় কোনো সমাজের বেশিরভাগ মানুষের আচার-ব্যবহার সেই সমাজের মধ্যকার বৈষম্য সৃষ্টির জন্য দায়ী। সমাজের কেউ কেউ মনে করেন সামাজিক ব্যবহারবিধির ভিত্তি হওয়া উচিত ইতিমধ্যে স্বীকৃত কোনো মোরাল কোড এবং অবশ্যই এর ভিন্ন কিছু নয়। যদিও বস্তুগত সংস্কৃতি ও ব্যবহারবিধি দুটিই পরিবর্তনশীল এবং একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ও একে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাইরের প্রভাবে বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা ব্যবহারবিধি পরিবর্তিত হয়ে থাকে। তবে নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই হচ্ছে মূল চালিকাশক্তি। কারণ এই সমাজে কোনো একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ছাড়া টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। যদিও হয় তা অনুগ্রহ নির্ভর এবং তাতে সামাজিক ক্ষমতা কাঠামোতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। যেমন আমাদের সমাজের বেশিরভাগ নারী সারা দিন গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর কোনো অর্থনৈতিক মূল্যায়ন না থাকার কারণে তাদের অবস্থান ক্ষমতা কাঠামোর নিম্ন স্তরে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে এটাও কি রাজনীতির অংশ? কেন না? অর্থনৈতিক কাঠামো যদি রাজনীতির অংশ হয় তাহলে এর সম্পর্ক নির্ভর ক্ষমতাকাঠামোর সবকিছু রাজনীতিরই অংশ।
রাজনীতিকে আমরা যেভাবেই দেখি না কেন, এতে একটি বৃহত্তর ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষমতা সম্পর্কযুক্ত থাকে আর এর সহজাত জটিলতার কারণেই সহজে একে ব্যাখ্যা করা কঠিন। রাজনীতির মাধ্যমে সামাজিক অগ্রগতির একটি সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে এই ক্ষমতা সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্যমূলক পরিবর্তন এবং সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকল্প সমাধান। রক্ষণশীল রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান বা সাবেকি ধারণার চাষবাস এবং সেটাকে ক্রমাগত শুদ্ধতার মাপকাঠিতে দেখা, আপাতদৃষ্টিতে যার কোনো চূড়ান্ত পরিসীমা নেই। বিপরীতে, প্রগতিশীল রাজনীতির মূল বিষয় হচ্ছে নতুন চর্চা ও ব্যবস্থাকে আহ্বান করা, যার সবকিছু নিজস্ব হওয়ার ব্যবস্থা নেই, তবে নিজস্ব ভাবধারার আলোকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুযোগ আছে।
আজকের দিনে আমরা অনেকেই সাধারণ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিস্পৃহতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে থাকি। প্রচলিত অভিযোগ যে, এখন আমরা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক এবং এখানে সমাজ নিয়ে ভাববার অবকাশ নেই। তাই সামাজিক সমস্যা সমাধানে সামষ্টিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আজকের দুনিয়ার সামাজিক সমস্যা সমাধান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেন্দ্রিক এবং অনেকটাই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। বেশিরভাগ মানুষই যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিমধ্যে তাদের অংশগ্রহণ যে আছে তা বলাই বাহুল্য; তা হোক প্রান্তে বা কেন্দ্রে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ক্ষমতার প্রান্তে যারা আছে তাদের আমরা সত্যিকার অর্থে কেন্দ্রে আনতে চাই কি না?
আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর রাজনীতি প্রথাগত কেতাবি রাজনীতি থেকে যে ভিন্ন তা সহজেই অনুমেয়। এখানে রাজনীতির একটি বড় ইস্যু হচ্ছে প্রচলিত ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা ও পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখানো। তবে এই সময়ের রাজনীতির বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে প্রচলিত ক্ষমতা সম্পর্কে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হওয়া। অন্যকথায় সমান্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, ক্ষমতার চর্চা ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ বা সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি নিশ্চিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। আর এই ধরনের সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মাঝে মাঝে বা একটি নির্দিষ্ট বিরতিতে পাত্র-পাত্রীর পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন হয় না, সেখানে কাঠামোগত অগ্রগতির লক্ষ্য অর্জন একটি দুরূহ বিষয়।
আর রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখানেই যেন থমকে গেছে। সাধারণ মানুষ এখান থেকে নতুন কিছু পাচ্ছে না, যেমন পাচ্ছে না বিকল্প উন্নয়ন মডেলের প্রস্তাবনা যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম। অন্যথায় সাধারণ জনগণ কেন ব্যবস্থা ঠিক রেখে শুধু পাত্র-পাত্রী পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে যদি না এতে তাদের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতির কোনো বিকল্প নেই এবং এ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি উদ্যোগই প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থার পরিবেশ তৈরি ও চর্চা ছাড়া শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ কামনা নিছক আবদারের পর্যায়ে পড়ে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত আচরণবিধি ও প্রথাগত নৈতিকতার দোহাই দিয়ে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা থাকছে সেক্ষেত্রে মানুষকে সাময়িক উদ্বুদ্ধ করতে পারলেও সংকীর্ণ গোষ্ঠীগত স্বার্থের বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ জনগণ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে পারে না। প্রচলিত রাজনৈতিক এস্টাবলিশমেন্টই তাদের এই প্রক্রিয়া থেকে বের করে দেয়।
এই অবস্থায় সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে এবং তাদের মাধ্যমে ক্ষমতাকেন্দ্রিক চর্চার পরিবর্তন করতে চাইলে তাদের বঞ্চনাগুলোকে রাজনীতির সামনে নিয়ে আসতে হবে এবং পাশাপাশি রাজনীতিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে উদ্ধার করাটাও আবশ্যক। বর্তমান এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কি এরকম কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে যেখানে জনগণ কাঠামোগত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে পারে? সত্যিকার অর্থে তারা কি এমন কোনো কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পেরেছে যে কর্মসূচি ক্ষমতাবান ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যকার ব্যবধান বা পার্থক্য কমিয়ে আনতে চায়, ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়? বা প্রকৃতপক্ষেই সমস্যার সমাধান করতে চায়? তারা কি জাতিকে এমন একটি সমাজ কাঠামোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে যা বিভেদ ও বিদ্বেষকে দূরে ঠেলে দিয়ে সমতা ও সাম্যের বার্তা সামনে নিয়ে আসছে?
প্রথাগত রাজনীতিতে শুধু পক্ষ বা বিপক্ষ সমর্থন করা আমাদের দেশের রাজনীতির একটি বড় সীমাবদ্ধতা। কারণ শুধু এই পক্ষ-বিপক্ষ চর্চার মাধ্যমে নতুন পথের সন্ধান তো পাওয়া যায়ই না, বরঞ্চ সজ্ঞানে একই ভুল বারবার করা। ভুল জেনেও পুরনো পথকে সমর্থন করতে বাধ্য হওয়া। এ যেন একই চক্রে বারবার ঘুরপাক খাওয়া, যে চক্রের প্রান্তে সাধারণ জনগণ আর কেন্দ্রে ঘুরেফিরে প্রায় সেই তথাকথিত একই শক্তি। তাই সাধারণভাবে রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণের নিস্পৃহতার দায় সাধারণের নয়, বরঞ্চ এখানো যারা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন তাদেরই। জনগণকে তারা কতটুকু আস্থায় নিয়ে আসতে পারছেন সেটাই মুখ্য। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না প্রগতিশীলতা ও পরিবর্তনকামিতা ছাড়া যে রাজনীতি সেটা সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। এই পরিবর্তন শুধু পাত্র-পাত্রীর পরিবর্তন না এই পরিবর্তন হচ্ছে ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোর পরিবর্তন যা সবসময় গণমানুষের পক্ষে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
লেখক : উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট
রবীন্দ্রনাথ তার ‘কালান্তর’ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘ধর্ম যদি অন্তরের জিনিস না হইয়া শাস্ত্রমত ও বাহ্য আচারকেই মুখ্য করিয়া তোলে, তবে সেই ধর্ম যত বড়ো অশান্তির কারণ হয়, এমন আর-কিছুই না।’ কথাটির নিহিত তাৎপর্য আজ আমরা দুনিয়াজুড়ে উপলব্ধি করতে পারছি। রবীন্দ্রনাথের মতো অতটা হয়তো তীব্রভাবে নয়, কিন্তু তার পরও বলি, সেদিনে পিছিয়ে-পড়া মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে একজনকে অন্তত পাই, যার লেখালেখির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ-কথিত কঠিন সত্যিটাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই লেখক মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী। আজ যাকে আমরা বলতে গেলে ভুলেই গিয়েছি। কেন ভুলে গিয়েছি সেইটা বুঝতে পারা কঠিন হবে না, যদি আমরা তার চিন্তার চৌহদ্দিটা খানিকটা হলেও পরিমাপ করতে পারি।
২. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরীর প্রথম গ্রন্থ ‘ধর্মের কাহিনী’ প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। সেই গ্রন্থের ‘পূর্বাভাস’-এ তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হইয়াছে সৎ হওয়াই বুঝি মানব-জীবনের প্রধান কাজ। বাল্যকালের সেই অস্পষ্ট ধারণা বয়সের সহিত ক্রমে স্পষ্ট হইয়াছে।’ ধর্মের সঙ্গে সততার ধারণাকে যুক্ত করে এক দিন তার মনে হয়েছিল, ‘ধর্মই বুঝি মানুষের সবেধন এক নীলমণিসাত রাজার ধন এক মানিক।’ শুধুই এইটুকুই নয়, তার এ-ও মনে হতো, ‘ধর্মই বুঝি মানুষের জীবনের সাধ, সাধের সুখ, সুখের স্বপ্ন। সকলেই বুঝি কেবল ধর্ম পথেরই পথিক।’ কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গে বাস্তব জগতের দিকে তাকিয়ে তিনি ঠিক এর বিপরীত চিত্রটাই দেখতে পেয়েছেন। আর স্বপ্নভঙ্গের সেই বেদনা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আজ ভীত স্তম্ভিত হইয়া দেখিতেছি, ধর্ম কোথায়ও নাই। বৈশাখ মাসের বাতাসে শুষ্ক পাতা যেমন করিয়া উড়িয়া যায়, আজ জনসমাজ হইতে ধর্মও তেমনিভাবে উড়িয়া গিয়াছে।’ শুধু এইটুকু যোগ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি; ক্ষুব্ধতায় নিজের বেদনাবোধকে এসবের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘সত্য, সাধুতা, ন্যায়, দয়া ও পরোপকার আজ স্বপ্নের কাহিনী।’
এই অংশটুকু পাঠ করতে গিয়ে আমাদের কারও-কারও মনে পড়বে কবি জীবনানন্দ দাশের কথা। এয়াকুব আলীর এই প্রবন্ধটি প্রকাশের অনেকগুলো বছর পরে আমাদের সাহিত্যের ‘নির্জনতম’ কবি বলবেন তার চৈতন্য আর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এসব নিষ্ঠুর অথচ বাস্তব একপর্যায়ের কথা, যা আমাদের সমাজ জীবনের সঙ্গে তো বটেই, ব্যক্তিগত জীবনেও মিলেমিশে একাকার হয়ে আমাদের প্রতিদিনকার জীবনকে জখম করে রাখে প্রতিনিয়ত। কী বলেছিলেন জীবনানন্দ? তিনি লিখেছিলেন‘চারিদিকে বিকলাঙ্গ অন্ধ ভিড়অলীক প্রয়াণ।/ মন্বন্তর শেষ হলে নতুন যুদ্ধের নান্দীরোল;/ মানুষের লালসার শেষ নেই/ উত্তেজনা ছাড়া কোনো দিন ঋতু ক্ষণ/ অবৈধ সংগম ছাড়া সুখ/ অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া ছাড়া প্রিয় সাধ/ নেই।’
৩. দয়া-দান-অতিথি-সেবা নিত্যদিনের কর্মযজ্ঞ এবং সেই সঙ্গে মানুষের আচার-ব্যবহারের কথা বলতে গিয়ে এয়াকুব আলী চৌধুরী নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝি-বা লিখেছিলেন, ‘দেখিয়াছি মফঃস্বলের কোন লোক কলিকাতায় গিয়া জুয়াচোরের হাতে পড়িয়া সর্বস্ব খোয়াইলে তাহার মরণ নিশ্চিত।’ কেন এই কথা? প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন, ‘তিন দিন ধরিয়া কলিকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়া বেড়াইলেও কেহ তাহাকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করে না।’ শুধু তা-ই নয়; এয়াকুব আলী আরও লিখেছেন, ‘বড় বড় ধপ্ধপে দালানে উঁকি দেওয়ারও তাহার কোন অধিকার নাই।’ অবশেষে তিনি বলেছিলেন, ‘ধর্মের এক অতি প্রিয় অনুষ্ঠান (“অতিথি-সেবা”) এইরূপে আমাদের ধর্মের সংসারে শুকাইয়া মরিতেছেভ্রুক্ষেপ করিবার কেহ নাই।’
বিচিত্রভাবে চারপাশের বিভিন্ন দিকের প্রতি দৃষ্টিপাত করে গ্রন্থের উপসংহারে এসে লেখক বলেছেন, ‘এইরূপে মানবসমাজের যেদিকে ও যে স্তরেই দৃষ্টিপাত করি, সেইদিকে কেবল অধর্মেরই পূর্ণ প্রসার দেখিতে পাই’ আর তারই পরিণামে লেখকের ভাষায়, ‘ধর্মকে কোথায়ও খুঁজিয়া পাই না।’ ধর্মকে খুঁজে পাননি তিনি, শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিনকার জীবনযাপনের যে-আনুষঙ্গিক আচরণবিধি, যার মধ্যে একটি সুসংগত জীবনবোধের পরিচয় পাই আমরা, সেই পরার্থপরতা, পরোপকার, জীবসেবা, একটু দয়া, মমত্ববোধ, প্রাণের সহানুভূতি পর্যন্ত লেখক কোথায়ও খুঁজে পাননি। তার পরিবর্তে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, ‘ধর্মবোধ এমনিভাবে লুপ্ত হইয়াছে যে, যে-লোক একটুকু সরল ব্যবহার ও সরল বিশ্বাসী হয়, পাঁচ পয়সা দিব বলিয়া দুই পয়সা দিতে না জানে, বিবিধ কলাকৌশলে...পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গিয়া’ খাইতে না জানে, সেই লোক এই সমাজে ‘নিতান্ত অকর্মণ্য, বোকাচন্ডী বলিয়া স্থির হয়।’
৪. এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মেও বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু মনুষ্যধর্মকে তার থেকে বিযুক্ত করতে চাননি কখনো। এটি চাননি বলেই মানুষ সম্পর্কে তিনি বিশ্বাস করতেন, সে শুধুই জড়পদার্থ নয়, সে চৈতন্যস্বরূপ। আর ‘চৈতন্য মানেই যে আধ্যাত্মিকতা’ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েও, ভারতীয় দর্শনের এই তত্ত্বটিকে তিনি একেবারেই অস্বীকার করেননি। মানুষকে উদ্দেশ করে সে-কারণেই তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি গরু নও, বানর নও, ব্যাঘ্র নওতুমি মানুষ। এই জড়দেহ তাহার ক্ষুদ্র সীমার পরপারে, হে পুণ্য ও চৈতন্যস্বরূপ! তোমার তরে স্বর্গের ও বিভু মিলনের অপার শান্তি, তৃপ্তি ও আনন্দ সঞ্চিত রহিয়াছে। কেন ভুলিবে, কেন ডুবিবে, কেন মরিবে?’ প্রতিটি মানুষকে এয়াকুব আলী একটা মর্যাদাবান সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সময়ের বিচারে তিনি যে একজন অগ্রসর মানুষ ছিলেন, সেটি প্রমাণিত হয় তার চিন্তার অভিব্যক্তিতে, যা কি না এইসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ অবাক হতে হয় এ কারণেই যে মানুষটি জন্মেছিলেন ফরিদপুরের পাংশা থানার মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে, ১৮৮৮ সালে (১৮ই কার্তিক, ১২৯৫ বঙ্গাব্দ)। চোখের অসুখে ভুগতেন বলে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়াশোনাটাও শেষ করতে পারেননি।
৫. এয়াকুব আলী চৌধুরীর জীবন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম লিখেছেন, মাত্র ‘৪৭-৪৮ বৎসর বয়সে তিনি ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হন। জীবনের শেষ কয়েকটি বৎসর তাকে প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে দিন কাটাতে হয়।’ তিনি নিজে একজন আত্মসচেতন ও প্রতিভাধর মানুষ ছিলেন বলেই, সমাজের ইসলাম ধর্মানুসারী মানুষকে এইভাবে বলতে পেরেছিলেন, ‘প্রতিভা তোমার মনুষ্যত্বের স্পর্ধা, জ্ঞান ও চৈতন্য তোমার মানবতার গরিমা! কেন ভুলিবে, কেন ছোট হইবে, কেন পাপ করিবে?’ আমরা বুঝতে পারি নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে তিনি কতিপয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, দেখতেও চাননি। সেটিকে গোটা মানবসমাজের স্পর্ধা ও গরিমার সঙ্গে সে-কারণেই যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রচলিত অর্থে ধার্মিক ছিলেন ঠিকই, আর তার ধর্মচর্চার মধ্যে আমরা সক্রিয়তার মনোভাব নানাভাবে দেখতে পাই। যে-সক্রিয়তা সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যেও বলিষ্ঠভাবে ছিল বলে মনে করি। বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘সম্প্রতি সুশিক্ষিত বাঙ্গালিদিগের মধ্যে হিন্দুধর্মের আলোচনা দেখা যাইতেছে। অনেকেই মনে করেন যে, আমরা হিন্দুধর্মের প্রতি ভক্তিমান হইতেছি। যদি এ কথা সত্য হয় তবে আহ্লাদের বিষয় বটে।’ কেন আহ্লাদের বিষয়, সেটি খোলাসা করতে গিয়ে ভাববাদী বঙ্কিম তার দৃঢ় বিশ্বাসের কথা এইভাবে আমাদের জানিয়েছিলেন, ‘জাতীয় ধর্মে পুনর্জীবন ব্যতীত ভারতবর্ষের মঙ্গল নাই।’ কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি এটিও বলতে দ্বিধা করেননি, ‘হিন্দু হাঁচি পড়িলে পা বাড়ায় না, টিকটিক ডাকিলে “সত্য সত্য” বলে, হাই উঠিলে তুড়ি দেয়।’ এগুলোকে তিনি ধর্ম বা ধর্মীয় আচার হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তার মতে, ‘এ সকল হিন্দুধর্ম নহে। মূর্খের আচার মাত্র। যদি ইহা হিন্দুধর্ম হয়, তবে আমরা মুক্তকণ্ঠে বলিতে পারি যে, আমরা হিন্দুধর্মের পুনর্জ্জীবন চাহি না।’ অন্যদিকে তার রচিত ‘ধর্মের কাহিনী’ গ্রন্থটি সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এই পুস্তক সংসারে সর্বজনীন পাপ-স্রোতের বিরুদ্ধে ধর্মের এক স্বাভাবিক আর্তনাদ।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘মানুষকে সংসারে ধর্মের নামে ধর্মকে ফাঁকি দিয়া নিত্যনিয়ত অধর্ম করিতে দেখিয়া অন্তরে যে দারুণ বেদনা অনুভব করিয়াছি, এই ক্ষুদ্র পুস্তক তাহারই প্রকাশ মাত্র।’ এয়াকুব আলীর এই কথাগুলি পাঠ করতে গিয়ে ধর্ম প্রসঙ্গে কার্ল মার্কসের কয়েকটি কথা মনে না-পড়ে পারে না। এটিও তার চিন্তার অগ্রসরতারতাই আরেকটি নমুনা।
৬. অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম তার প্রবন্ধে এয়াকুব আলীর ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে আমাদের আরও কিছু তথ্য জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ ছিল তার জীবন। পক্ষান্তরে তার জীবনও অনেক দুঃখ-কষ্টে পরিকীর্ণ। সাংবাদিক হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল এবং এ-সময়ই তিনি বিভিন্ন সাময়িকপত্র ও সাহিত্য-সমিতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন।’ এই তথ্য জেনে আমরা বিমর্ষ বোধ করি যে, ‘দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে হয় বলে তার গ্রন্থ-সংখ্যা খুব বেশি নয়।’ শ্রদ্ধেয় আবদুল কাইয়ুম ঠিকই বলেছেন। এয়াকুব আলীর প্রকাশিত গ্রন্থ-সংখ্যা মাত্র চারটি। ব্যঞ্জনাময় গদ্যে রচিত ‘ধর্মের কাহিনী’ নিয়ে আমরা সামান্য আলোচনা করেছি। এ ছাড়া রয়েছে‘নূরনবী’ (১৯১৮), ‘শান্তিধারা’ (১৯১৯) ও ‘মানব-মুকুট’ (১৯২২)। তার অপ্রকাশিত রচনার একটি সংকলন ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
৭. রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন যে, ব্যক্তি মানুষের ‘সর্বজনীন মনকে উত্তরোত্তর বিশুদ্ধ করে উপলব্ধি করাতেই মানুষের অভিব্যক্তির উৎকর্ষ।’ অভিব্যক্তির সেই উৎকর্ষের অনেকখানি আমরা মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরীর রচনায়, চিন্তায়, তার অটল সাধনার মধ্যে দেখতে পাই। লেখাই বাহুল্য যে, সেই সাধনারই প্রকাশিত মর্ম-মাধুরী হচ্ছে তার রচনাকর্ম। ১৯৪০ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই সাধক-লেখক প্রয়াত হন। আমরা তার স্মৃতির গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রেললাইনে একের পর এক লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এই লাশ কেবল দেশব্যাপী রেলপথে দুর্ঘটনায় কাটা পড়া লাশই নয় রেললাইন আর লাইনের পাশের জমিতে পড়ে থাকছে লাশ। অনেক ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব লাশের মধ্যে যেমন অসতর্কতার কারণে ট্রেনে কাটা পড়া কিংবা আত্মহত্যায় মৃত্যুর লাশ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ডাকাতির সময় ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা ব্যক্তির লাশও। আবার অন্য কোথাও কাউকে হত্যা করে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বলে চালানোর জন্য লাশ ফেলে রাখা হয় রেললাইনে। বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেলেও বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে রাজধানী ঢাকার লাগোয়া গাজীপুরের কিছু নির্দিষ্ট রেলপথ নিয়ে। দেশ রূপান্তরে রবিবার ‘গাজীপুরে এক বছরে রেললাইনে ৬০ লাশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগের কথা। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, চলতি ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত গাজীপুর জেলার ধীরাশ্রম থেকে শ্রীপুরের কাওরাইদ এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর আউটার সিগন্যাল পর্যন্ত রেললাইন ও এর আশপাশ থেকে ৪৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এছাড়া ধীরাশ্রম থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এবং টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জের আড়িখোলা পর্যন্ত রেলপথ থেকে আরও অন্তত ১৫টি লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেলওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠছে গাজীপুরে রেলপথের এমন নির্দিষ্ট এলাকাতেই কেন বারবার লাশ পাওয়া যাচ্ছে?
খেয়াল করা দরকার, রেলপথে মৃত্যুর মিছিল এমনিতেই বেশ দীর্ঘ। কেবল ২০২১ সালেই রেলপথে ২৭০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন, আহত হয়েছেন ৪২ জন। এর ওপর কেবল এক জেলাতেই এক বছরে রেলপথে ৬০টি লাশ পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান জরুরি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অসতর্কতার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর অন্যতম কারণ রেললাইনের ওপর অবৈধ রেলক্রসিং এবং রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজার ও অস্থায়ী দোকান বসানো। টঙ্গীর বনমালা ও আরিচপুরে রেললাইনের ওপর মানুষের ভিড় থাকে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত। আরিচপুরে রেললাইনের ওপর অবৈধ বাজার থাকায় সেখানে টঙ্গী ও উত্তরার মানুষ বাজার করতে আসেন। কিন্তু হুটহাট ট্রেন চলে এলে লাইন থেকে সরে দাঁড়ানোর তেমন জায়গা না থাকায় ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিছু কিছু এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রেললাইনের ওপর ভিড় জমায় তরুণ-তরুণীরা। অনেক সময় লাইনের ওপর হাঁটাহাঁটি ও টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ঘটে দুর্ঘটনা। এই এলাকায় প্রায়ই রেলে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি অরক্ষিত রেললাইনের সুরক্ষা নিয়ে। রেললাইনের ওপর কিংবা রেললাইন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বাজার বসানো এবং দোকানপাট সারা দেশের সাধারণ বাস্তবতা হলেও এমন কর্মকা- নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না কেন? রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ উদ্যোগের পাশাপাশি এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয়া হওয়া জরুরি।
রেলপথে এমন লাশ পড়ে থাকা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, নদীতে লাশ ভেসে থাকার কথা। মাত্র কিছুদিন আগেই দেশ রূপান্তরে ‘২২ মাসে ৭১৫ লাশ নদীতে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে নদীতে লাশ পাওয়ার এক নির্মম বাস্তবতা সামনে উঠে এসেছিল। প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল হত্যাকারীরা লাশ নিশ্চিহ্নের উদ্দেশ্যে হত্যার পর নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিচ্ছে। ওই ৭১৫ লাশের মধ্যে ২১৬টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনও করা হয়েছে। সারা দেশেই এমন ঘটনা ঘটলেও শুধু রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী থেকেই গত ১০ মাসে উদ্ধার করা হয়েছিল ৯০টি লাশ। তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে, নদীতে উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর বেশিরভাগই হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে আশঙ্কা তাদের। আর সেসব হত্যাকান্ডের বেশিরভাগই ডাঙায় ঘটলেও লাশ ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর বেশকিছু নির্জন স্থানকে অপরাধীরা লাশ ফেলার নিরাপদ এলাকা হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, রাজধানী ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে লাশের ডাম্পিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। একই কারণে এই সন্দেহ করার অবকাশ আছে যে, গাজীপুর জেলার ওই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর রেললাইনকেও অপরাধীরা লাশের ডাম্পিং জোন হিসেবে ব্যবহার করছে কি না। এমন এক সময়ে দেশের রেলপথ আর নদী থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেখছি যখন গুম-খুন-নিখোঁজের রহস্য উন্মোচন ক্রমশই দুরূহ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে রেলপথে পড়ে থাকা আর নদীতে ভাসা লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে বিশেষভাবে আমলে নিয়ে রেলপথে লাশ উদ্ধারের বিষয়ে বিশদ তদন্ত জরুরি।
কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দবিশারদ ও সম্পাদক আবদুল কাদিরের জন্ম কুমিল্লার আড়াইসিধা গ্রামে ১৯০৬ সালের ১ জুন। তার বাবার নাম হাজি আফসারউদ্দীন। ১৯২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা মডেল হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯২৫ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করেন। ১৯২৯ সালে কলকাতার মাসিক সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে যোগ দেন। ১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, তিনি ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক ‘শিখা’ পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন। তিনি কিছুকাল কলকাতা করপোরেশনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি মাসিক জয়তী পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ (১৯৩০-১৯৩৩) করেন এবং সাপ্তাহিক নবশক্তি, যুগান্তর, দৈনিক নবযুগ, সাপ্তাহিক মোহাম্মদী ও সাপ্তাহিক পয়গম পত্রিকায়ও বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ১৯৫২ সালে ঢাকায় এসে মাসিক মাহে নও পত্রিকা সম্পাদনা করেন (১৯৫২-১৯৬৪)। তিনি কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রকাশনা কর্মকর্তা (১৯৬৪-১৯৭০) পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ দিলরুবা, উত্তর বসন্ত, ছন্দসমীক্ষণ, বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত, যুগকবি নজরুল ইত্যাদি। তিনি বাংলা ছন্দ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করেছেন। এ ছাড়া কাব্যমালঞ্চ, এয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলি, নজরুল রচনাবলি, শিরাজী রচনাবলি, কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলি, রোকেয়া রচনাবলিসহ নানা গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
ভাড়া করা বিমানে উড়িয়ে নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রথম ম্যাচে একাদশে রাখল না দিল্লি ক্যাপিটালস। আসরে তাদের শুরুটাও ভালো হলো না। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারল মোস্তাফিজবিহীন দিল্লি।
ঘরের মাঠে ৫০ রানের জয়ে আসর শুরু করল লক্ষ্ণৌ। ১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি থামে ৯ উইকেটে ১৪৩ রানে। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে লক্ষ্ণৌয়ের জয়ের নায়ক মার্ক উড।
এদিন দিল্লির ব্যাটিং ছিল পুরো ফ্লপ। দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ৪৮ বলে ৫৬ রান করেছেন। পাশাপাশি রাইলি রোশো ২০ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু বাকিরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে যা হরার তাই হলো ম্যাচের ফল।
এর আগে স্বাগতিক দলের হয়ে ঝড় তোলেন কাইল মেয়ার্স। এই ক্যারিবীয়ান ৩৮ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। ২টি চারের সঙ্গে হাঁকান ৭টি ছক্কা। এ ছাড়া নিকোলস পুরান ২১ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন। সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৩ রানের পুঁজি গড়ে লক্ষ্ণৌ।
গত অক্টোবরের পর আর্সেনালের জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পেলেন গাব্রিয়েল জেসুস। তার আবার জোড়া গোল। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের জ্বলে ওঠার দিনে লিডস ইউনাইটেডকে উড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ফের আট পয়েন্টে এগিয়ে গেল আর্সেনাল।
ঘরের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতে আর্সেনাল। স্পট কিকে দলকে প্রথম এগিয়ে দেন জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেন হোয়াইট ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর খানিক পরই জোড়া গোল পূর্ণ করেন জেসুস।
এরপর লিডস একটি গোল শোধ করলেও গ্রানিত জাকার গোলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে ফেরার পর এটিই প্রথম ম্যাচ ছিল আর্সেনালের। বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজেদের মাঠে একই ব্যবধানে তারা হারিয়েছিল ক্রিস্টাল প্যালেসকে।
এই জয়ে ২৯ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল গানাররা। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্সেনাল। তাদের সঙ্গে গত লিগের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ব্যবধান ৮।
গানারদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিটি। একই দিন তারাও নিজেদের মাঠে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তাকে প্রায়ই বিভিন্ন ভাইরাল ইস্যু নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলতে দেখা যায়। যুবলীগে পদ পেয়েও পরে অব্যাহতি পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেশ রূপান্তরের সাথে মুখোমুখী হয়েছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল।
সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে আপনি যে ভিডিও আপলোড করেন এর প্রধান উদ্দেশ্য কি টাকা ইনকাম করা?
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে টাকা ইনকামের সুযোগ আসার কয়েক বছর আগে থেকেই আমি ভিডিও আপলোড করি। আমার প্রথম যে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল তখন মনিটাইজেশন নামে কোন শব্দের সাথে আমরা পরিচিত ছিলাম না। আমার ফেসবুক থেকে যে ইনকাম হয়, ব্যারিস্টারি থেকে যে আয় হয় এবং বিদেশে থাকা আমার পরিবারের মানুষেরা যে টাকা পাঠান তার সব আমি মানুষের জন্য খরচ করি। এর প্রমাণ হিসাবে দেশে বিদেশে আমার নামে কিংবা আমার পরিবারের কারও নামে কোন ফ্ল্যাট নেই।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া স্যার ইস্যু নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
স্যার ম্যাডাম মহোদয় এইগুলো নাম নাম মাত্র। আমার প্রশ্ন হচ্ছে কাজে কতটুকু এগোলাম আমরা। একজন মানুষ যে কাজে সরকারী অফিসে যান সেই কাজ টা যদি ঠিক মত হয় তাহলে কি নামে ডাকলেন সেটা কোন সমস্যা বলে আমার কাছে মনে হয়না। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কেবল সময়ের অপচয় মাত্র।
আপনি নমিনেশন চাইবেন আওয়ামী লীগ থেকে?
আমি আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন চাইব। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় আমি নির্বাচন করব। না হলে দল যাকে নমিনেশন দেবে আমি তার হয়ে কাজ করব।
যুবলীগ থেকে আপনাকে বহিষ্কারের পর আপনার কেমন লেগেছিল, আপনার অবস্থানে কি আপনি অনড়?
আমার কাছে একদম খারাপ লাগেনি। নেতা যাকে ইচ্ছে নিতে পারেন, আবার প্রয়োজন না হলে ফেলে দিতে পারেন। আমাকে যখন যুবলীগে নেওয়া হয়েছিল, তখন হয়তো আমাকে প্রয়োজন ছিল, এখন মনে হয় হয়তোবা আমি যেভাবে কাজ করি তা উনাদের পছন্দ না। তবে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম সে বিষয়ে আমি অনড়। একজন ওসি কখনো নির্দিষ্ট এমপি কে খুশি করার জন্য স্লোগান দিতে পারেন না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আপনাকে কথা বলতে কম দেখা যাচ্ছে কেন ?
দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি তা বিশ্ব পরিস্থিতির অংশ। শ্রীলংকা, পাকিস্তানের মত দেশ দেউলিয়া হয়ে গেছে। আমরা টিকে আছি। আমাদের অধিকাংশ জিনিস আমদানি করতে হয়। তাই এ সমাধান আমাদের হাতে নেই। তবে আমি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি নিয়ে কথা না বললেও দুর্নীতি নিয়ে কিন্তু প্রতিদিন কথা বলতেছি। দুর্নীতি আর টাকা পাচার যদি বন্ধ করা যেত তাহলে জিনিস পত্রের দাম এত বাড়ত না। তাই বলতে পারেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা আমার অন্য সবকিছুকে কাভার করে।
শোনা যায় অনেকেই রাজনীতি করে কানাডায় বাড়ি কিনছেন, এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
রাজনীতিকে এখন ওনারা ধারণ করেন না। এমপি পদ টাকে তারা আরও সম্পদ উপার্জনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওনারা মনে করেন পরেরবার এমপি মন্ত্রী হতে পারেন বা না পারেন টাকা বানিয়ে ফেলি যাতে আর অসুবিধা না হয়।
আব্দুস সালাম মুর্শেদিকে নিয়ে বানানো ভিডিও সরিয়ে ফেলতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন।এটা কি আপনার পরাজয়?
সালাম মুর্শেদিকে নিয়ে আমি অনেকগুলো ভিডিও বানিয়েছি। এর মধ্যে মাত্র ২টা ভিডিও সড়াতে হয়েছে। মামলা চলাকালীন সময়ে মামলার মেরিট যেন নষ্ট না হয় এর জন্য ভিডিও সড়াতে বলা হয়েছে। এটাকে আমি পরাজয় মনে করি না।
বর্তমান সরকারকে অনেকে অনির্বাচিত বলেন, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?
সংবিধান মেনে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে। রাজনৈতিক বিষয়ে যা ঘটেছে বা ঘটছে তা সবাই দেখতে পাচ্ছেন। এ নিয়ে আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে আপনার অবস্থান কি?
পারস্পরিক আস্থার অভাব হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর বিশ্বাস কতটুকু সেটাও ভেবে দেখতে হবে। একটা সময় আওয়ামী লীগ এই দাবিতে আন্দোলন করেছিল তখন কিন্ত বিএনপি এই দাবি মেনে নেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বিষয়টা এমন নয়।
রাজনীতির চেয়ে সামাজিক ইস্যুতে আপনাকে বেশি কথা বলতে দেখা যায়। এটা কি সুবিধাজনক অবস্থান?
একজন সাধারণ মানুষ হিসাবেই আমার রাজনীতিতে আসা। আমার বাবা বা অন্য কেউ এমপি মন্ত্রী নয়। যে আমি এমনি এমনি রাজনীতিতে আসছি। আমি সামাজিক কাজ করতে করতে এ জায়গায় আসছি। আমি যদি রাজনীতিতে পুরোদমে প্রবেশ করি তখনও দেখবেন আমি সামাজিক বিষয় নিয়ে কথা বলব কাজ করব।
সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আপনার অবস্থান?
একটা ভিডিওতে তিন লাখ টাকা সাকিবকে দেওয়া নিয়ে আমার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সোনারগাঁ হোটেলের লবিতে সাকিব আমাকে মারতে আসেন। আমি মনে করি, সাকিবকে কোটি মানুষ অনুসরণ এখন তিনি যদি জুয়ার এম্বাসেডর হন টাকার লোভে মার্ডারের আসামীর দাওয়াতে যান তাহলে আমাদের দুর্ভাগ্য।
ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
আমি সরাসরি বলব বাংলাদেশের ফুটবল ধ্বংস করার কারিগর কাজী সালাউদ্দীন ও আব্দুস সালাম মোর্শেদি। তারা ফুটবল কে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলেও নিজেরা এগিয়ে গিয়েছেন। ফুটবলকে সিঁড়ি করে তারা নিজেকে সমৃদ্ধ করছেন।
ফুটবল নিয়ে অনেক আগ্রহ আপনার , অগ্রগতি কতদূর?
আমার ক্লাবের অগ্রগতি অনেক। গত দেড় বছরে ১২ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন লীগে খেলছেন। ৩ জন খেলোয়ার ব্রাজিলে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি সি টিমে থাকা ২/৩ জন ( যাদের বয়স ১২-১৩) আগামীতে জাতীয় দলে খেলবেন এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে দিতে পারি।
বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় বিদ্যুৎ বিভাগের ১২টি প্রতিষ্ঠান নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের ‘ইনসেনটিভ বোনাস’ প্রদান করলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ক্ষেত্রে এ সুবিধা দিতে অপারগতা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কী কাজ করবে তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে অন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা দলিল হলো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ চুক্তি করা হয়।
সূত্রমতে, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানির ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য গত ২৯ ডিসেম্বর এক সভায় ইনসেনটিভ বোনাসের সুপারিশ করা হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তা অনুমোদন দেয়। গত ২ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী সচিব মোহাম্মদ লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এপিএ অর্জনের সামগ্রিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ইনসেনটিভ বোনাস প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শতকরা ৯৯ দশমিক ৩২ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটিকে তার কর্মীদের ১ দশমিক ৫টি ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ডিপিডিসি এবং ওজোপাডিকোকে ১ দশমিক ৫টি ইনসেনটিভের সুপারিশ করা হয় যাদের প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৯৬ দশমিক ৬৯ এবং ৯৫ দশমিক ২৩। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং পিজিসিবি এ চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১ দশমিক ২৫টি ইনসেনটিভ বোনাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১টি ইনসেনটিভ বোনাসপ্রাপ্তরা হলো বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ড (৯২.০৮), নেসকো (৯২.২৫) এবং আরপিসিএল (৯৩)। এ ছাড়া ডেসকো, ইজিসিবি এবং বি-আর পাওয়ারজেন শূন্য দশমিক ৫টি ইনসেনটিভ বোনাসের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে সুপারিশ অনুযায়ী কর্মীদের বোনাস প্রদান করে। তবে পিডিবির কর্মীরা এখনো ইনসেনটিভ বোনাস পাননি। আদৌ তা পাবেন কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইনসেনটিভ বোনাস পরিশোধের অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ২ জানুয়ারি পিডিবির সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, ১টি ইনসেনটিভ বোনাস হিসেবে পিডিবির প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পিডিবির রাজস্ব বাজেটে সংস্থান আছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পর গত ২১ মার্চ তা নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগ তাদের চিঠিতে বলেছে, এপিএ অর্জনের জন্য কর্মসম্পাদন সূচক রয়েছে, যা সরকারের প্রতিটি সংস্থার ‘রুটিন’ কাজ। রুটিন কাজের জন্য ইনসেনটিভ বোনাস দাবি করা যৌক্তিক নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশে অনেক সংস্থা আছে, যাদের বেতনভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকারের অনুদানে পরিচালিত হয়। এসব সংস্থা বা দপ্তরগুলো এপিএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে থাকে। এখন যদি পিডিবিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বোনাস দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিটি সংস্থা থেকে একই দাবি আসবে। এতে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বিঘিœত হতে পারে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবির ২০২১-২২ অর্থবছরের এপিএর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে ইনসেনটিভ বোনাস প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা হলো।
বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ফাওজুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি সন্তোষজনক না। তারপরও এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কোম্পানি বা সংস্থাকে ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া যেতে পারে তাদের কাজের পারফরম্যান্স বিবেচনায়। শুধু পুরস্কার দিলেই হবে না। পাশাপাশি কেউ যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় তাহলে শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কাজের গতি বাড়বে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে যদি ইনসেনটিভ বোনাসের কথা উল্লেখ থাকে তাহলে তারা যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে তবে এটা তাদের প্রাপ্য।
এ বিষয়ে পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগেও তারা এপিএর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বোনাস পেয়েছেন। এবারও বোনাসের আশায় বাড়তি কাজ করেছেন। হঠাৎ বোনাস না পাওয়ার খবর শুনে সবার ভেতর চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সব কোম্পানি এমনকি পিডিবির সমমনা প্রতিষ্ঠান আরইবি তাদের পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্তে অন্তত এক মাস আগে এ বোনাস প্রদান করেছে। তাদের কর্মীদের ওই টাকা খরচও হয়ে গেছে। আর আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমোদন চাওয়ার নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছি। অন্যরা পেলেও পিডিবির কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে? সবার জন্য একই নিয়ম থাকা দরকার।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অনেক সময় অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কাজ করতে হয়। এ জন্য অনেক সময় পরিবারকে সময় দিতে পারি না। এরপরও যদি বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হয় তাহলে কর্মীরা বাড়তি কাজ করতে উৎসাহ হারাবে।’
ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভাড়া ৫৩ হাজার টাকা। এ রুটের অন্যসব এয়ারলাইনস আরও কম দামে যাত্রী বহন করলেও বিমান করে না। খালি যাবে, তাও কম ভাড়ায় যাত্রী নেয় না বিমান।
ঢাকা থেকে বিমান কত বেশি ভাড়া নেয় তা স্পষ্ট বোঝা যায় নিকটতম প্রতিবেশী শহর কলকাতার দিকে চোখ বোলালে। কলকাতার নেতাজি সুভাষ বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের তিন ভাগের এক ভাগ ভাড়া দিয়ে কুয়ালালামপুর যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে উড়ে যাওয়া এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া বেশি। বিমানের ভাড়া শুধু বেশিই নয়, এই এয়ারলাইনস ভাড়া বাড়ানোর নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে বিমান ভাড়া বাড়ায় পরে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য এয়ারলাইনসগুলো সেই সুযোগ নেয়।
অন্য এয়ারলাইনসের তুলনায় বিমানের ভাড়া বেশি এ অভিযোগ ছিল মূলত জনশক্তি রপ্তানিকারক ও ট্রাভেল এজেন্টদের। তাদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। কুয়ালালামপুর, রিয়াদ বা জেদ্দার মতো বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রবণ শহরগুলোতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দেশের বেসরকারি টেলিভিশন এমনকি খবরের কাগজগুলোতে যেচে এসে বলে যাচ্ছেন বিমান অনেক বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
কীভাবে বিমান ভাড়া বাড়ায় জানতে চাইলে একজন জনশক্তি রপ্তানিকারক জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে কী ভূমিকা রাখে তা নতুন করে বলার দরকার নেই। তাদের কর্মস্থলে পাঠাতে বা ফিরিয়ে আনতে বিমানের বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। বিমান কোনো দিন কোনো ঘোষণায় বলেনি ‘এ উদ্যোগটি শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য’। এই শ্রমজীবীদের জন্য বিমানের কোনো ছাড় নেই। বরং যখন যে ‘আদম বাজার’ চাঙ্গা হয় তখন সেখানে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় বিমান। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রচুর শ্রমিক যাচ্ছে। সেখানে ভাড়া বাড়িয়েছে সংস্থাটি। শ্রমিক এবং ওমরাহর কারণে জেদ্দার টিকিটই পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও তা অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।
এ অবস্থা থেকে বিমান কীভাবে বের হয়ে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিমান নানা পলিসি নিতে পারে। বিকল্প রুট চালু করতে পারে। ট্রানজিট দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে নিতে পারে। এতে যাত্রীরা কম দামে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ যাত্রী যেহেতু শ্রমজীবী তাই তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। কত সময় ট্রানজিট নিয়ে গেল তা মুখ্য নয়। ঠিক এ জায়গাটিতেই এগিয়ে আছে আমাদের নিকটবর্তী শহর কলকাতা। ঢাকার তুলনায় অনেক কম দামে কলকাতার যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। সেখান থেকে পরিচালিত এয়ারলাইনসগুলো সরাসরি বা এক-দুটি ট্রানজিট দিয়ে অনেক কমে যাত্রী বহন করে। বিমান কেন পারে না সেই প্রশ্নটি কেউ তুলছে না।
এক সপ্তাহ পর আগামী ৪ এপ্রিল ফ্লাই (যাত্রা) করার জন্য গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা কুয়ালালামপুর রুটের বিমান টিকিটের দাম ছিল ৫৩ হাজার ২৭ টাকা। থাই এয়ারওয়েজ ৪১ হাজার ৭৬ টাকায়, ইন্ডিগো এয়ার ৪৩ হাজার ৬৪৪, ইউএস-বাংলা ৪৭ হাজার ১৯, এয়ার এশিয়া ৪৯ হাজার ৪৪৫, মালিন্দো এয়ারওয়েজ ৫৯ হাজার ১৯০ এবং মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ভাড়া ছিল ৬১ হাজার ৪৭২ টাকা।
অথচ কলকাতা থেকে এয়ার এশিয়া একই দিনে একই গন্তব্যে নন-স্টপ ফ্লাইটে মাত্র ১৭ হাজার ৩৭৯ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার অফার ছিল অনলাইনে। এয়ারক্রাফটের মানভেদে একই দিনে বিভিন্ন সময়ে টিকিটটির দাম ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। ইন্ডিগো এয়ার চেন্নাইয়ে একটি স্টপেজ দিয়ে ২০ হাজার ৩৩৭ টাকায় অফার দেয়। কলকাতা থেকে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটের দাম ছিল ২৯ হাজার ৬৩৯ টাকা। মুম্বাই এবং সিঙ্গাপুরে দুই স্টপেজ দিয়ে এয়ারলাইনসটি এ ভাড়া নির্ধারণ করে। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস মুম্বাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে কলকাতা থেকে ৫৪ হাজার ৩২৬ টাকায় যাত্রীদের নিয়ে যায় কুয়ালালামপুর।
ঢাকা রিয়াদ রুটে আগামী ৩ এপ্রিলের এয়ার অ্যারাবিয়ার ভাড়া ৫৪ হাজার ৯৫১ টাকা। শারজায় একটি স্টপেজ দিয়ে তারা যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কলম্বোতে একটি স্টপেজ দিয়ে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস রিয়াদ নিয়ে যাবে ৫৬ হাজার ৫৪৫ টাকায়। জাজিরা কুয়েত সিটিতে এক স্টপেজ দিয়ে ৬৫ হাজার টাকায়, গালফ এয়ার বাহরাইনে এক স্টপেজ দিয়ে ৬৭ হাজার ৬৭৭ টাকায়, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৭১ হাজার ৭১১ টাকায় সরাসরি, কুয়েত এয়ারওয়েজ কুয়েত সিটিতে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৩ হাজার ২৪৭ টাকায়, ওমান এয়ার মাস্কটে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৪ হাজার ২৩২ টাকায়, ফ্লাই দুবাই দুবাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৪ হাজার ২৬৩ টাকায়, কাতার এয়ারওয়েজ দোহায় এক স্টপেজ দিয়ে ৮২ হাজার ৫৫৭ টাকায়, এমিরেটস দুবাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে ৮৪ হাজার ২৩১ টাকায় রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে। আর ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ভাড়া ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৭ টাকা। ৩ এপ্রিল কলকাতা থেকে রিয়াদ যাওয়ার ভাড়াও ঢাকা রিয়াদের তুলনায় অনেক কম।
কলকাতা থেকে মাত্র ৩৫ হাজার ৩২৪ টাকায় রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। মুম্বাইতে মাত্র একটি স্টপেজ দিয়ে তারা যাত্রীদের সেখানে পৌঁছে দিচ্ছে। ওইদিন সময়ভেদে তাদের ভাড়া ৪১ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এক স্টপেজ দিয়ে ফ্লাই দুবাই নিয়ে যাচ্ছে ৪১ হাজার ৫৬০ টাকায়। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ভাড়া ৪১ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা। এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লিতে একটি স্টপেজ দিয়ে ভাড়া নিচ্ছে ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা। গালফ এয়ার মুম্বাই এবং বাহরাইনে দুই দফা স্টপেজ দিয়ে নিচ্ছে ৪৫ হাজার ৫৮৭ টাকা। ইন্ডিগো এয়ার দিল্লিতে এক স্টপেজ দিয়ে ভাড়া নিচ্ছে ৪৮ হাজার ১৮৭ টাকা। দুবাইতে এক দফা বিরতি দিয়ে এমিরেটস কলকাতা থেকে রিয়াদের ভাড়া নিচ্ছে ৫৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। কাতার এয়ারওয়েজ ৫৯ হাজার ১৩৮ টাকায় এবং এমিরেটস ৬০ হাজার ১০৮ টাকায় একটি বিরতি দিয়ে কলকাতা থেকে রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে।
এসব রুটে বিমানের উচ্চমূল্য নির্ধারণই ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এর সঙ্গে আছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট কমানো এবং উচ্চ দামের সুযোগ নিতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং ২০২৩ সালে ডলারের বর্ধিত বিনিময় দর। জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিও টিকিটের দাম বৃদ্ধির কারণ।
বিমানের এমডি শফিউল আজিম বিমান ভাড়া বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি না মানলেও রিক্রুটিং এজেন্ট, ট্রাভেল এজেন্ট বা হজ এজেন্সির তরফ থেকে বরাবরই এ অভিযোগ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সাবেক মহাসচিব মাজহার ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, যখন বিমান ভাড়া বাড়ায় তখন অন্য এয়ারলাইনসগুলোও ভাড়া বাড়ায়। বিমান যখন বাড়ায় তখন কোনো সীমা মানে না। তারা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ায়।
৩৫ বছরের পেশাজীবনের কথা উল্লেখ করে মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিমানের ভাড়ার সঙ্গে কুলাতে পারছি না। একজনকে বাইরে পাঠানোর সব খরচ অনুমান করা যায়, বিমান ভাড়া ছাড়া। কারণ ৫ ডলারের ভিত্তিভাড়া তারা ৩০ ডলার থেকে শুরু করে। বিমান ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কথা বলে। কিন্তু জ্বালানি খরচ কমছে। যখন কমে তখন বিমান ভাড়া কমায় না। বিমান যেভাবে ভাড়া বাড়ায় তাতে ব্যবহারকারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ অবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার বলে তিনি মনে করেন।
বিমানের ভাড়া প্রায় মহামারীর সময়ের মতো অবস্থায় চলে গেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্টরা । বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে শ্রম আমদানিকারক দেশের গন্তব্যগুলোতে ভাড়া বেড়েছে। ঢাকা-জেদ্দা রুটে টিকিট পাওয়াই সৌভাগ্য। এ মাসের শুরুতে যে ভাড়া ছিল ৫০ হাজার তা এখন ৮০ হাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিমান ভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি খেসারত দিচ্ছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি)-ওয়েবসাইট তথ্য দিচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ২ লাখ ১৩ হাজার শ্রমিক বিদেশে গেছে। যাদের বেশিরভাগই গেছেন মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
গত বছরের শেষদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা হয়। বাজার নতুন করে শুরু হওয়ার পর ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে টিকিটের দাম আকস্মিকভাবে বেড়েছে। ব্যাংকক, কলম্বো বা অন্যান্য শহরে ট্রানজিট ফ্লাইট দিয়েও অনেক এয়ারলাইন কুয়ালালামপুরে যাত্রী বহন করছে। এতে টিকিটের দাম কমেছে ৩০-৪০ হাজার টাকা।
এবার হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ টাকা বাড়িয়ে হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হজযাত্রী এবং হাবের ধারাবাহিক বিরোধিতা উপেক্ষা করে বিমান ভাড়া বাড়িয়ে যচ্ছে। এবারও বাড়িয়েছে। গত ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হজবিষয়ক এক সভায় হাবের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াকুব শরাফতি হজে বিমান ভাড়া কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বিমানের এমডি ভাড়া কমানোর সুযোগ নেই বলে জানান। বৈঠকে হজে কেন বিমান ভাড়া বাড়নো হলো তার যৌক্তিকতা জনসমক্ষে তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয় এমডিকে।
ইয়াকুব শরাফতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি হজের বিমান ভাড়া কমানোর জন্য। বিমান কোনোভাবেই কমাতে রাজি হয়নি।’
বিমানের বর্ধিত ভাড়ার সুযোগে সৌদিয়া দেশ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কারণ বিমান যে ভাড়া নির্ধারণ করে সৌদিয়াও একই ভাড়ায় হজযাত্রী বহন করে। হজের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অর্ধেক বহন করবে সৌদি আরবের এয়ারলাইনস।
আটাবের সাবেক মহাসচিব মাজহার ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রধান এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি এয়ার অ্যারাবিয়ান, ফ্লাই দুবাই, সালাম এয়ারের মতো বাজেট ক্যারিয়ার বলে পরিচিত সংস্থাগুলো তাদের প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের তুলনায় কম ভাড়া নেওয়ার কথা। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে বেশি নিচ্ছে। বাজেট ক্যারিয়ার বলে পরিচিত সংস্থাগুলোও তাদের প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের চেয়ে মাত্র ৫০০ বা ১০০০ টাকা কম নিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। অথচ সরকারের কাছে তাদের প্রজেকশন ছিল তারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে অর্ধেক মূল্যে যাত্রী নেবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং কম থাকায় তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। একাধারে উপস্থাপিকা, নায়িকা এবং সংগীতশিল্পীও। সিনেমার বাইরে তিনটি গান প্রকাশ পেয়েছে তার। সে ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে নতুন গান নিয়ে আসছেন তিনি।
গানের শিরোনাম ‘বুঝি না তো তাই’। বাঁধনের লেখা এ গানটির সংগীতায়োজন করেছেন বলিউড র্যাপার মুমজি স্ট্রেঞ্জার। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফারিয়া। বাবা যাদবের কোরিওগ্রাফিতে ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন ফারিয়া ও মুমজি। আসছে ঈদে উন্মুক্ত হবে গানটি। গানটি প্রকাশ করবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।
সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে গানটির টিজার, যা দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এরমধ্যে সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে গান ভিডিওর দৃশ্যের একটি ছবি পোস্ট করেন এ গায়িকা। সেখানে ক্যাপশনে লিখেন, মাই হাইট ইজ ৫' ৩'' বাট অ্যাটিচিউড ৬' ১''।
গানটি প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছিলেন, ‘নতুন এ গানটি বেশ আনন্দের সঙ্গে করেছি। আমার আগের তিনটি গানের মতো এটিও বেশ মজার। আমার বিশ্বাস এটি সবার পছন্দ হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ‘পটাকা’ গানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঘরানার গানে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন নুসরাত ফারিয়া। এরপর ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রকাশ পায় ‘আমি চাই থাকতে’ ও ‘হাবিবি’। আসছে ঈদুল ফিতরে এ অভিনেত্রী গায়িকা হিসাবে চতুর্থবার হাজির হচ্ছেন দর্শক শ্রোতাদের সামনে।
দেশে ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। অন্য অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক একই সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সব মোবাইল অপারেটরই দেশের বেশিরভাগ স্থানে ফোরজি সেবা চালু করেছে। আর সে হিসেবেই তারা ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু গ্রাহকরা ফোরজি ইন্টারনেট কিনলেও দেশের অনেক এলাকায় টুজি-থ্রিজি’র সেবা পাচ্ছেন। তারা অপারেটর কোম্পানিগুলোকে এ ব্যাপারে বারবার অভিযোগ জানালেও এর সুরাহা হচ্ছে না।
জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে মোটামুটিভাবে গ্রাহকরা ফোরজি সেবা পাচ্ছেন। তবে এসব এলাকায়ও অনেক সময় ফোরজি থাকে না, থ্রিজিতে নেমে আসে নেটওয়ার্ক। তবে জেলা পর্যায়ে বেশিরভাগ সময়েই থাকে থ্রিজি। আর মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ সময় সেই থ্রিজিও থাকে না, তখন টুজি নেটওয়ার্কই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ইন্টারনেট প্যাকেজ যথাযথভাবে থাকার পর তা কাজ করে না, বাফারিং হয়। এতে গ্রাহকরা ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো সারা দেশের ব্যবসা একত্রে হিসাব না করে এলাকাভিত্তিক ব্যবসার হিসাব-নিকাশ করার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দেখেন, কোন এলাকায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা কত, সেখানে কত সিমে ইন্টারনেট চালু আছে। যদি দেখা যায়, তাদের হিসাব মতে তা সন্তোষজনক আছে তাহলে সেখানে ফোরজি সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বহাল রাখে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক টাওয়ার নির্মাণ করে। কিন্তু যদি দেখে সন্তোষজনক গ্রাহক নেই তাহলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় না, এতে সেই এলাকায় ফোরজি পাওয়া যায় না। অথচ শহর এলাকাগুলোতে তারা বেশি ব্যবসা করলেও সেটাকে হিসাবে ধরে না। কিন্তু মফস্বল এলাকা থেকে কল বাবদ প্রয়োজনের বেশি ব্যবসা হলেও তা ইন্টারনেটের সঙ্গে সমন্বয় করে না।
মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর ফেসবুক পেইজে প্রতিনিয়ত অসংখ্য অভিযোগ জানান গ্রাহকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেটরদের মধ্যে টেলিটকের নেটওয়ার্কই বেশি দুর্বল। টেলিটকের ফেসবুক পেজের এক পোস্টে মো. ফয়জুল ইসলাম লেখেন, ‘ভাই, নেটওয়ার্ক পাই না সকাল থেকে। মিরপুর-২ নম্বরে বাসা স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে। আর আমার গ্রামের কথা না হয় বাদ দিলাম।’ আরাফাত আলী লেখেন, ‘২জিবি নেট কিনলে দেড় জিবি নষ্ট হয়। মেয়াদ ১৫ দিন তাও ফুরাতে পারি না। তাহলে বুঝেন নেটওয়ার্ক কত ভালো।’ কার্জন চাকমা লেখেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় ফোরজি নিশ্চিত করুন। আমাদের পার্বত্য এলাকাগুলোতে টেলিটকের গ্রাহক সবচেয়ে বেশি, কিন্তু শুধু থ্রিজি-টুজিতে সীমাবদ্ধ।’ রাসেল আহমেদ লেখেন, ‘গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাংগা গ্রামে থ্রিজি নেটওয়ার্ক তো নেই-ই। মাঝেমধ্যে টুজি’ও নেই। বুঝুন অবস্থাটা। আমাদের থ্রিজি সেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন।’
টেলিটকের মহাব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) নুরুল মাবুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ফাইভজি রেডিনেস প্রজেক্ট শুরু করেছি। যা শেষ হতে এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় লাগতে পারে। এর ফলে আমাদের কাভারেজ এলাকাগুলোতে ফোরজি সেবা নিশ্চিত হবে। এছাড়া আমাদের কাভারেজ বাড়ানোরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাংলালিংকের পেজের একটি পোস্টে মাহাদী হাসান তালহা লেখেন, ‘আমার এলাকায় আপনাদের সিম ব্যবহার করতে হলে ফোন গাছের ডালে বেঁধে লাউডস্পিকার দিয়ে কথা বলা লাগে। এত্তো ফাস্ট কেন আপনাদের নেটওয়ার্ক।’ আকরাম হোসাইন লেখেন, ‘ভাই আপনাদের সবই ঠিক, তবে নেটওয়ার্ক সেøা।’
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অফিসার তৈমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফোরজি সেবার জন্য ২৩০০ মেগাহার্জের স্পেকটার্ম প্রয়োজন হয়। কিন্তু টুজিতে তা লাগে মাত্র ৯০০ মেগাহার্জ। আমরা ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ কাভারেজ এলাকায় ফোরজি সেবা নিশ্চিত করেছি। তবে আমাদের আরও বেশি সাইট লাগবে। যদি সব অপারেটর মিলে আমরা টাওয়ার শেয়ার করতে পারি, তাহলে সব গ্রাহকের কাছে ভালো সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।’
রবির পেজে এক পোস্টে তানভীর আহমেদ লেখেন, ‘কলাপাড়া থানা শহরে যদি থ্রিজি নেটওয়ার্ক না পাওয়া যায়, এরচেয়ে দুঃখজনক কিছুই হতে পারে না।’ এইচএমএম ইসমাঈল লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার চম্পকনগর ইউনিয়নে রবি সিমের থ্রিজি নেই। অথচ অনেক বছর আগে রবি টাওয়ার বসানো হয়েছে। আমরা রবি সিম দিয়ে ইন্টারনেট চালাতে অক্ষম।’
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলটরি অফিসার শাহেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাভারেজ এলাকায় ফোরজি সেবা রয়েছে। তবে দেখা যায়, অনেক ফোন ফোরজি সাপোর্ট করে না। আর কাভারেজ এলাকা থেকে যতদূরে যাওয়া যাবে, নেটওয়ার্ক তত কমতে থাকবে। এছাড়া আমাদের কিছু জায়গায় নেটওয়ার্কের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন কিছু টাওয়ার তৈরির কাজও আমাদের চলছে।’
গ্রামীণের পেইজে একটি পোস্টে রহিদুল ইসলাম লেখেন, ‘ভাই আমি যখন গ্রামে যাই তখন নেটওয়ার্কের ঝামেলা হয়।’ সাইদুর রহমান লেখেন, ‘এমন সার্ভিস হলে চলবে? কলরেট, ইন্টারনেটের দাম তো ঠিকই বেশি আপনাদের, বাকি সব অপারেটরদের থেকে।’
গত বছরের ২৮ এপ্রিল টেলিকম অপারেটররা বহুল প্রতীক্ষিত ‘আনলিমিটেড’ ও ‘মেয়াদবিহীন’ ইন্টারনেট ডাটা প্যাক চালু করেছে। তবে এতে গ্রাহকদের খুব বেশি সুবিধা হচ্ছে না। কারণ এজন্য প্যাকেজের দাম বাড়িয়েছে অপারেটররা। আর মেয়াদহীন ইন্টারনেট পেতে প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাকেজ চালু করতে হবে। কিন্তু গ্রাহকের সব সময় একই ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে অব্যবহৃতই থেকে যাচ্ছে গ্রাহকের কেনা ইন্টারনেট। এছাড়া মেয়াদবিহীন হিসেবে মোবাইল অপারেটররা যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে গ্রাহকদের।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সচল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার। এরমধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার, রবির ৫ কোটি ৫০ লাখ ১৪ হাজার, বাংলালিংকের ৪ কোটি ৮৫ হাজার এবং টেলিটকের ৬০ লাখ ৬৭ হাজার। আর গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৫০ লাখ। এরমধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১১ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি ও পিএসটিএন)-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১১ লাখ ৮৭ হাজার গ্রাহক।