
তরুণ প্রজন্মের শিল্পী এন আই সোহাগ। পাশাপাশি এন আই মিউজিকের কর্ণধার ও গীতিকার। গতকাল বিকেলে তার কথায় ‘ও প্রবাসীর বউ’ গানটি প্রকাশ পেয়েছে। গানটি গেয়েছেন গগন সাকিব, সুর করেছেন পলক হাসান সুমন। মিউজিক করেছেন অনিম খান। এন আই সোহাগ বলেন, ‘এটি বাস্তবমুখী কথার গান। আমার প্রত্যেকটা কাজে স্ত্রী তুষা যথেষ্ট সাপোর্ট করে। তাই তাকেই গানটি উৎসর্গ করেছি। সবার দোয়া চাই, যেন আরও ভালো গান উপহার দিতে পারি। আশা করি ‘ও প্রবাসীর বউ’ গানটি সাড়া জাগাবে দর্শকের মাঝে।’ গানটি দেখতে চোখ রাখুন এন আই মিউজিক ইউটিউব চ্যানেলে।
আজ ঢালিউডের সর্বকালের সেরা নায়ক রাজ্জাকের জন্মদিন। প্রায় অর্ধযুগ হয়ে গেল তিনি এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তার অসামান্য শিল্প সৃজন আজও তাকে অমর করে রেখেছে। নায়করাজের ৮২তম জন্মদিনে তার সঙ্গে প্রথম স্মৃতির ডালা মেলে ধরেছেন তার তিন জনপ্রিয় নায়িকা। কথা বলেছেন মাসিদ রণ
‘বেহুলা’ না হলে নায়করাজ
হতে সময় লাগত
সুচন্দা
আমার সঙ্গেই রাজ্জাক সাহেবের সিনেমার পথচলা। জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমা দিয়ে তিনি নায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আমি অবশ্য তার কয়েক বছর আগেই সিনেমা জগতে এসেছি। ততদিনে বেশ নামডাকও হয়েছে। এখনো মনে আছে, বেহুলার প্রথম দিনের শ্যুটিংয়ে যখন রাজ্জাক সাহেব সেটে এলেন, সেদিন তিনি খুব নার্ভাস ছিলেন। আমার সঙ্গে খুব একটা সহজ হতে পারছিলেন না। আমি সেটা বুঝতে পারি। একটা সময় আমিও তো নতুন ছিলাম। শুধু আমি কেন? প্রতিটি শিল্পীর ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে শ্যুটিং অভিজ্ঞতা এমনই হয়। যাই হোক, শ্যুটিংয়ের আগে উনাকে আমি কাছে ডাকি। এরপর আমরা এটা ওটা নিয়ে গল্প করি। একটা সময় তিনি কিছুটা সহজ হয়ে ওঠেন। এরপর আমরা শ্যুটিং করি। ‘বেহুলা’ মুক্তির পর তো বাকিটা ইতিহাস। সুজাতা আপার ‘রূপবান’, কবরীর ‘সুতরাং’, আমার ‘বেহুলা’ ও ‘আনোয়ারা’ ছবিগুলোর আকাশছোঁয়া সফলতাই তো বাংলা সিনেমার ভিত মজবুত করে। এসব ছবি দিয়ে আমরা রীতিমতো পাকিস্তানি শাসক ও উর্দু ছবির প্রভাবের সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলাম। রাজ্জাক ভাইয়ের প্রসঙ্গে ফিরি। তার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ২০টির মতো সিনেমা করেছি। তবে বেহুলা না হলে নায়করাজ হতে সময় লাগত। দর্শকের মতে, আমার সঙ্গেই প্রথম সফল জুটি গড়ে ওঠে তার। দর্শকরা খুব চাইত যেন আমরা বিয়ে করি (হা হা হা)। আমার সেরা ছবি, ইনফ্যাক্ট বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সেরা ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’তেও আমি আর রাজ্জাক সাহেব একসঙ্গে কাজ করেছি। সেই ছবির জন্য প্রথম এবং একমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে আমি মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাই। আজও মাঝেমধ্যে তাকে মনে পড়ে। তার স্ত্রী লক্ষী ভাবি ফোন করেন। আমরা সুখ-দুঃখের সঙ্গী।
একসঙ্গে ৩০টির বেশি ছবি করেছি
অঞ্জনা
রাজ্জাক ভাই সিনেমা জগতে আমার অন্যতম শিক্ষক। তবে দর্শক জানে আমরা রোমান্টিক জুটি। একসঙ্গে ৩০টি বেশি ছবি করেছি, ইটস নট এ ম্যাটার অব জোক। তারমধ্যে প্রথম সিনেমাটিই ছিল সুপার ডুপার বাম্পার হিট। প্রয়াত পরিচালক আজিজুর রহমানের ছবিটিরি নাম ‘অশিক্ষিত’। এর আগে আমি কয়েকটি ছবি করলেও প্রথম সারির নায়িকার দৌড়ে পিছিয়ে ছিলাম। রাজ্জাক ভাইয়ের বিপরীতে অশিক্ষিত ছবিতে আমাকে নির্বাচন করেন পরিচালক, মিউজিক ডিরেক্টর সত্য সাহা এবং গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। পরে রাজ্জাক ভাইকে আমার কথা বলার পর তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, অঞ্জনাই আমার সঙ্গে ছবিটি করবে। শুনলাম সে সেতু ছবিতে ভালো কাজ করেছে।’ তিনি তখন সুপারস্টার। তার সঙ্গে কাজ করা মানে আর পেছনে ফিরতে হবে না। আমার ক্ষেত্রেও তাই হলো, আমি সৌভাগ্যবান। উল্লেখ করে রাখি, সেতু ছবিতেও রাজ্জাক ভাই ছিলেন, তবে তার নায়িকা ছিলেন শাবানা আপা। আমার বিপরীতে ছিলেন বুলবুল আহমেদ। রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় ওই অশিক্ষিত ছবিতেই। আর প্রথম শ্যুটিং ছিল কালজয়ী গান ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে’র। ফার্মগেটে শ্যুটিং শুরু হয় সন্ধ্যার পর। আমি তো ভয়ে কুঁকড়ে আছি। বিষয়টি জানতে পেরে রাজ্জাক ভাই আমাকে তার কাছে ডাকলেন। তার কাছে যেতেই আমাকে হাগ করলেন। সেই আলিঙ্গনের মধ্যে কী যে একটা নির্ভরতা ছিল বলতে পারব না। পরে বললেন, কী আমাকে দেখে মনে হচ্ছে যে আমি অনেক সিনিয়র নায়ক? তুমি নেচে বাংলাদেশ মাতিয়েছ, আর আমাকে ভয় পাচ্ছ? পেছনের সব ভুলে যাও। মনে করো আমি তোমার প্রেমিক। ব্যস ভয় কেটে গেল। ফজরের আজানের আগেই পুরো গানের শ্যুটিং শেষ করলাম। তার পরিচালনায় ‘অভিযান’ ছবিতেও কাজ করেছি। সেই ছবির ‘বাবা রে বাবা কই দিলা বিয়া’ গানটিও এখনো মানুষের মুখে ফেরে।
তিনি ছিলেন শিক্ষকের মতো
রোজিনা
শিল্পী হিসেবে রাজ্জাক ভাই কেমন সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে নিয়ে বলার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না। তবে এটুকু বলতেই হয়, তিনি আমার একজন শিক্ষক। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সত্যিকার কিংবদন্তি, নায়কদের রাজা। তার মতো মানুষের অবদানেই আজকের এই ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি। যতদিন বাংলা সিনেমা থাকবে ততদিন তিনি থেকে যাবেন দর্শকের মনে। শাবানা-কবরীকে দেখেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন জাগে। স্কুল পালিয়ে সিনেমা হলে তাদের ছবি দেখতাম। আর সেই সব ছবিতে নায়ক থাকতেন রাজ্জাক ভাই। পরে যখন সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত হলাম তখন শুরুতে তার বোনের চরিত্রে কাজ করেছি। সব মিলিয়ে ১২টির মতো ছবি একসঙ্গে করেছি। এরমধ্যে তার পরিচালিত দুটি ছবিও রয়েছে ‘অভিযান’ আর ‘রাজা মিস্ত্রী’। এছাড়া সিদ্ধান্ত, আয়নাসহ বেশ কিছু ব্যবসাসফল সিনেমা রয়েছে। প্রথম যেদিন তার সঙ্গে শ্যুটিং করি, সেদিন কাজ হয়েছিল এফডিসির ১ নম্বর ফ্লোরে। একদিনেই তার সঙ্গে আমার চারটি সিকোয়েন্স ছিল। আমি নতুন শিল্পী হিসেবে সাধ্যমতো রিহার্সেল করেছি। কিন্তু যখনই তার সঙ্গে ক্যামারের সামনে দাঁড়ালাম সব সংলাপ ভুলে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তখন রিলে শ্যুটিং হয়, অনেক খরচের ব্যাপার। তারমধ্যে রাজ্জাক ভাইয়ের মতো সুপারস্টারের সময়ের অনেক দাম। কিন্তু তিনি একটুও রাগ করলেন না, বিরক্তও হলেন না। আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে সাধারণ অনেক কথাবার্তা বললেন। আমাকে সহজ করে ফেললেন। এরপর আমরা কাজটি ভালোভাবে শেষ করি। এই যে তার শিক্ষকসুলভ আচরণ, এটা পরে আমিও নতুন শিল্পীদের সঙ্গে অ্যাপ্লাই করেছি।
৯ দিনব্যাপী একবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল গতকাল। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হয়। এবারের উৎসবে দেখানো হয়েছে ৭১টি দেশের ২৫২টি সিনেমা। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে বরাবরের মতোই এবারের উৎসবেও এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। রবিবার জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অতিথি, জুরি ও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নির্মাতা, প্রযোজকদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করা হয় এবারের উৎসবে বিজয়ী ছবি, তথ্যচিত্র, নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রী ও চিত্রগ্রাহকের নাম।
শ্রেষ্ঠ শিশু চলচ্চিত্র (বাদল রহমান পুরস্কার)-মার্টিন অ্যান্ড দ্যা ম্যাজিকাল ফরেস্ট (চেকপ্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, জার্মানি)।
এশিয়ান চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগ : পোডেলনিকি (রাশিয়া); চলচ্চিত্রটির জন্য সেরা সিনেমাটোগ্রাফি পুরস্কার বিজয়ী হন মিস্টার আর্টিওম আনিসিমভ। অপরাজিত (ভারত); চলচ্চিত্রের জন্য সেরা স্ক্রিপ্ট রাইটার মি. অনিক দত্ত। প্রপেদা (ভারত); চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রী কেতকী নারায়ণ। নাকোডো-ম্যাচমেকারস (জাপান); চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা মিস্টার ইক্কেই ওয়াতানাবে। জেন্দেগি ভা জেন্দেগি (ইরান); চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালক আলী ঘাভিতান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পান মাদারলেস (ইরান)।
বিশেষ অডিয়েন্স পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র হল জে কে ১৯৭১ (বাংলাদেশ)।
অডিয়েন্স পুরস্কার : হাওয়া (বাংলাদেশ)।
স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশনে সেরা তথ্যচিত্র মহাত্মা হাফকাইন (রাশিয়া)।
উইমেন ফিল্মমেকারস সেকশনে সেরা তথ্যচিত্র : আওয়ার মাদার-গ্র্যান্ডমাদার, প্রাইম মিনিস্টার। এভরিবডি ওয়ান্ট লাভ (জার্মানি) চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালক ক্যাথেরিনা ওল। সেরা ফিচার ফিল্ম : লিসেন।
সেরা ফিকশন ফিল্ম : ঘরে ফেরা (বাংলাদেশ)।
বাংলাদেশ প্যানোরমা সেকশনে ফিপরেস্কি জুরিপ্রাইজ সেরা চলচ্চিত্র : সাতাঁও।
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : কাজী আরেফিন আহমেদের ‘কুড ইউ বি ফ্রি ইয়েট লকড ইন?’ ক্যাশ অ্যাওয়ার্ড ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রথম রানারআপ জয়তু সুশীল জিকুর ‘হাঘরে’ ক্যাশ অ্যাওয়ার্ড ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় রানার আপ মৃত্তিকা রাশেদের ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ক্যাশ অ্যাওয়ার্ড ১ লাখ টাকা।
গতকাল ছিল আলোচিত তারকা দম্পতি পরীমনি ও শরিফুল রাজের প্রথম বিয়ে বার্ষিকী। নায়ক তার ফেইসবুকে সাগরের পানিতে নিজের সঙ্গে স্ত্রীর গর্ভবতী অবস্থার একটি রোমান্টিক ছবি দিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছেন। তিনি পরীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের এই এক বছরকে একইসঙ্গে ঘটনাবহুল, আনন্দের, খুনসুটির, চড়াই-উতরাইয়ের সর্বোপরি উদযাপনের বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে মিরপুরের ডিওএইচএস কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত হয়েছিলেন হালের এই দুই আলোচিত নায়ক-নায়িকা। তাদের হাত ধরেই স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড বায়োজিনের নতুন শাখার যাত্রা শুরু করল। সাংসারিক জীবনের টানাপড়েন পেরিয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তারা। এ নিয়ে প্রশ্নে পরীমনি খানিকটা মেজাজ হারিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি সংসারেই এমন হয়ে থাকে। যা হয়েছে তা আমরা ভুলে নতুনভাবে শুরু করেছি। আমরা দারুণ আছি। আপনাদের তাতে কেন সমস্যা হচ্ছে?’ এদিন তারা নিজেদের প্রথম বিয়েবার্ষিকী উদযাপনের জন্য পরীর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানান সাংবাদিকদের। সেখানে বিশেষ সারপ্রাইজেরও ইঙ্গিত দেন।
‘ডিসকভার ইওর ট্রু বিউটি’ স্লোগানে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট এবং ঢাকার বেশ কয়েকটি আউটলেটের পর মিরপুরের ডিওএইচএসে বায়োজিনের ১৩তম ব্রাঞ্চ চালু হলো। নেচে দর্শক মাতান ঢালিউডের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। গানে মঞ্চ মাতান প্রিতম হাসান ও চিরকুট ব্যান্ড। আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী- নির্মাতা-গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন।
গাজীপুরের দ্বিধা-বিভক্ত রাজনীতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই দফায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ভোটে পরাজিত করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী, দক্ষ, মেধাবী ও ভাবমূর্তি সম্পন্ন আজমত উল্লাকে বরং আরও ওপরে রাখতে চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতি টের পেয়েছেন মেয়র প্রার্থী আজমত হারেননি, তাকে গাজীপুরের দলীয় রাজনীতিতে জোর করে হারানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে পাঠান। আজমতের সঙ্গে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চক্রান্তের ব্যাপারগুলো শেখ হাসিনা জানেন এবং জানান। গণভবনে পরাজিত প্রার্থী আজমতকে বোঝান পরাজয়ের কারণ আমরাই। বিএনপি-জামায়াত তাদের প্রার্থী দেয়নি গাজীপুরের সিটি ভোটে। তারা নৌকা হারাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জাহাঙ্গীর আলম। এর সঙ্গে দলেরও কেউ কেউ রসদ জুগিয়েছে। এতে রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে এমন নয়।
গণভবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজমত উল্লা খানকে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) গত ১৫ মে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় ওই শূন্য আসনে আজমতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
এই নিয়ে ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভিন্ন কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের যেকোনো আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে গাজীপুর সিটির ভোটে যে সংসদ সদস্য দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার তথ্য মিলবে তাকেই বাদ দেওয়া হবে। এ সিটি ভোটে হারের কারণ জানতে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব একটি সংস্থাকে নির্ভুল তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারেন আজমত, ওই সূত্র দাবি করে। সূত্রটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী যার ওপর ক্ষুব্ধ হন তার যেমন শাস্তি দেন যার ওপর সন্তুষ্ট ও যিনি ধৈর্য ধারণ করেন তাকে একই সঙ্গে সব দেন। গত ১৫ বছরে বহুজন এর উদাহরণ। গাজীপুরে মেয়র পদে আজমতকে হারা বা হারানোয়, প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীরের ভোটকে ঘিরে যে নাটকীয় আচরণ করেছেন সে সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজমতকে নিয়ে যে খেলাধুলায় মেতেছে সে আজমতকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন আরও ওপরে।
প্রয়াত সংসদ সদস্য নায়ক ফারুক গাজীপুরের কালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আজমতও টঙ্গী কালিগঞ্জের। তা ছাড়া ঢাকা লাগোয়া এই জেলার বাসিন্দা আজমত। গাজীপুরের অনেক মানুষ ওই আসনে বসবাসও করেন। এসব মিলিয়ে আজমত প্রায়োরিটি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে।
আজমতের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠজনেরা এসব তথ্য দিলেও আজমত উল্লা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব ব্যাপারে তার কোনো কিছুই জানা নেই। চিন্তাও করেন না তিনি।
নানা অব্যবস্থাপনায় এগোচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষা। প্রায় শতভাগ শিশু ভর্তির আওতায় এসেছে অনেক আগে। এরপর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের কাজ অনেকটাই আটকে আছে। খোদ সরকারি সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে প্রাথমিকে চরম দুরবস্থার কথা। গবেষয়ণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাক্সিক্ষত মানের চেয়ে শিশুরা অনেক পিছিয়ে আছে। কিছু শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা স্বউদ্যোগে কিছু কাজ করার চেষ্টা করলেও কথায় কথায় তাদের ওপর নেমে আসছে শাস্তির খড়গ। মানের উন্নয়ন না হলেও ঠিকই অধিদপ্তরে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সম্প্রতি এই গবেষণা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেখানে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণের আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গড়ে ইংরেজি বিষয়ে যতটা শিখত, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে তা সাড়ে ১২ শতাংশ কমে গেছে। একই শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিখন অর্জনের হার কমেছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। আর তৃতীয় শ্রেণির বাংলায় কমেছে ১৫ শতাংশের মতো।
গবেষণার তথ্য বলছে, করোনার আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে শিখন অর্জনের গড় হার ছিল প্রায় ৪৯ শতাংশ। করোনাকালে বন্ধের প্রভাবে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশ। একই শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ^পরিচয় বিষয়ে শিখন অর্জনের গড় হার ৫১ শতাংশের বেশি, যা আগে ছিল ৬৮ শতাংশের মতো। পঞ্চম শ্রেণির বাংলা, গণিত ও বিজ্ঞানেও ক্ষতি বেড়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতি পূরণে এ ধরনের গবেষণার দরকার ছিল। আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখেই তা করা হয়েছে। আমরা এই গবেষণা প্রতিবেদন দু-এক দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আমরা অন্তত এক বছরের জন্য রেমিডিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছি। মন্ত্রণালয় সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা দিন দিন পিছিয়ে পড়লেও সেদিকে তেমন একটা নজর নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। তারা ব্যস্ত আছে লাখ লাখ শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নিয়ে। কেউ কথা বললেই তার ওপর নেমে আসছে শাস্তি। ফলে শিক্ষকরাও দিন দিন তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন; কোনো রকমে দিন পার করছেন।
জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষায় উদ্ভাবনী ও অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন রাজবাড়ী জেলার স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম। একই বছর রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিক নির্বাচিত হন। সাধারণত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব শিক্ষকের হাতে পদক তুলে দেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি সেরা শিক্ষার্থীদের পদক দেওয়া হয় একই অনুষ্ঠানে। কিন্তু করোনাকালে তাদের হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষক পদক তুলে দেওয়া যায়নি। গত ১২ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তাই অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে স্বাভাবিকভাবে তারা দাবি তুলেছিলেন, দেরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তারা পদক নেবেন; যা তাদের সারা জীবনের স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঠিকই পদক নেন। তবে এর ৬৮ দিনের মাথায় এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার দাবি তোলায় চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই ঘটনায় জয়পুরহাটের হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারণ তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এ পদক নিতে ১১ মার্চ ঢাকা এসেছিল। ওই শিক্ষকও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তাদের কাউকে শোকজ করা হয়নি; যা বিধিবহির্ভূত বলছেন শিক্ষকরা।
জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল আজিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্তের পরবর্তী যে প্রক্রিয়া আছে, সেদিকেই আমরা যাব।’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সঙ্গে এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য গতকাল একাধিকবার চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেওয়া একজন শিক্ষকের জীবনে সেরা প্রাপ্তি। এ জন্য শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। শিক্ষকদের যেভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা মোটেও ঠিক হয়নি বলে আমার মনে হয়। এর প্রভাব অন্যান্য শিক্ষকের মধ্যেও পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।’
শুধু তা-ই নয়, করোনাকালে বন্ধ থাকা প্রাথমিক শিক্ষা চালু রাখতে কিছু শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা স্বউদ্যোগে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেন; যাতে অনলাইন ক্লাস, শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনাসহ নানা কাজ করা হয়। এতে প্রতিটি ফেসবুক গ্রুপে লাখ থেকে হাজারো শিক্ষক যুক্ত হয়েছেন। এখনো সেসব গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু সেই গ্রুপগুলোকেই এখন শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের অজুহাত দেখিয়ে অনলাইনে যুক্ত থাকা অনেক শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকেই দেওয়া হচ্ছে কারণ দর্শানো নোটিস (শোকজ)। সরকার যেখানে শিক্ষকদের ডিজিটালি আপডেট হওয়ার কথা বলছে, সেখানে প্রায় অনেকটাই উল্টো পথে হাঁটছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষকরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আসন গেড়ে বসেছেন কিছু কর্মকর্তা। অনেকেই ৬ থেকে ১২ বছর ধরে একই দপ্তরে চাকরি করছেন। তাদের যে দায়িত্বই থাক না কেন যত লাভজনক কাজ আছে, সেগুলোতেই তারা হাত দিচ্ছেন। যোগ্য কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরে আনলে তাদের সরে যেতে হবে, এ জন্য তারা নানাভাবে ঊর্ধ্বতনদের ভুল বুঝিয়ে মাঠপর্যায়ে শাস্তি দিয়ে সবাইকে ভীত করে তুলছেন। এতে পিছিয়ে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার মান।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত মার্চ-এপ্রিলে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি করা হয়। যদিও নিয়ম ছিল, অনলাইনে নির্দিষ্ট মানদন্ড পূরণ ছাড়া কেউ বদলি হতে পারবেন না। কিন্তু তা মানেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিয়ম ভেঙে কয়েক শো শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করা হয়। আর এই বদলি-পদায়নে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের; যা ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে। আবার অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বদলিতেও সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে। কাউকে ক্ষোভের বশবর্তী হয়েও অনেক দূরে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন।
জানা যায়, চলতি বছর থেকে প্রথম শ্রেণিতে চালু হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। আর আগামী বছর থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ২০২৫ সাল থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। কিন্তু তা পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেই অধিদপ্তরের। শিক্ষকদের নামমাত্র প্রশিক্ষণেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। আসলে এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীরা কতটুকু আত্মস্থ করতে পারছে বা এ জন্য আর কী করা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে তেমন নজর নেই।
এ ছাড়া এখনো প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকরা পান ১৩তম গ্রেডে। দুই ধরনের প্রায় চার লাখ শিক্ষকই ১০ম গ্রেডে বেতনের দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারাও দীর্ঘদিন ধরে নবম গ্রেডের দাবি করছেন। আর মাঠে কাজ করা এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদোন্নতিও নেই বললেই চলে। কিন্তু এগুলো সমাধানেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের; যা প্রাথমিকের মান উন্নীতের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রবীণ শিক্ষক নেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এখনো মফস্বলে বা দুর্গম অঞ্চলের অনেক স্কুলেই এক-দুজন শিক্ষক। অনেক স্কুলে শিক্ষকের পদ তিন-চার বছর ধরে শূন্য। শিক্ষক না থাকলে এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিকে সাধারণত দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা আসে। তাদের একটু আলাদা যতœ নেওয়া প্রয়োজন। সেগুলোও হচ্ছে না। শিক্ষকরাও তাদের বেতন-ভাতায় সন্তুষ্ট নন। সব মিলিয়ে আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় কাক্সিক্ষত মান অর্জন করতে পারছি না।’
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে।
গণভবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজমত উল্লা খানকে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) গত ১৫ মে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় ওই শূন্য আসনে আজমতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
গাজীপুরের দ্বিধা-বিভক্ত রাজনীতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই দফায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ভোটে পরাজিত করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী, দক্ষ, মেধাবী ও ভাবমূর্তি সম্পন্ন আজমত উল্লাকে বরং আরও ওপরে রাখতে চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতি টের পেয়েছেন মেয়র প্রার্থী আজমত হারেননি, তাকে গাজীপুরের দলীয় রাজনীতি জোর করে হারানো হয়েছে।
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে পাঠান। আজমতের সঙ্গে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চক্রান্তের ব্যাপারগুলো শেখ হাসিনা জানেন এবং জানান। গণভবনে পরাজিত প্রার্থী আজমতকে বোঝান পরাজয়ের কারণ আমরাই। বিএনপি-জামায়াত তাদের প্রার্থী দেয়নি গাজীপুরের সিটি ভোটে। তারা নৌকা হারাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জাহাঙ্গীর আলম। এর সঙ্গে দলেরও কেউ কেউ রসদ জুগিয়েছে। এতে রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে এমন নয়।
সূত্রটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী যার ওপর ক্ষুব্ধ হন তার যেমন শাস্তি দেন তেমনি যার ওপর সন্তুষ্ট ও যিনি ধৈর্য ধারণ করেন তাকে একই সঙ্গে সব দেন। গত ১৫ বছরে বহুজন এর উদাহরণ। গাজীপুরে মেয়র পদে আজমতকে হারা বা হারানোয়, প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীরের ভোটকে ঘিরে যে নাটকীয় আচরণ করেছেন সে সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজমতকে নিয়ে যে খেলাধুলায় মেতেছে সে আজমতকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন আরও ওপরে।
প্রয়াত সংসদ সদস্য নায়ক ফারুক গাজীপুরের কালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আজমতও টঙ্গী কালিগঞ্জের। তা ছাড়া ঢাকা লাগোয়া এই জেলার বাসিন্দা আজমত। গাজীপুরের অনেক মানুষ ওই আসনে বসবাসও করেন। এসব মিলিয়ে আজমত প্রায়োরিটি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে।
আজমতের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠজনেরা এসব তথ্য দিলেও আজমত উল্লা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব ব্যাপারে তার কোনো কিছুই জানা নেই। চিন্তাও করেন না তিনি।
দুই দশকেরও বেশি ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক-টেলিছবি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন, উপহার দিয়েছেন হিট প্রোডাকশন। নিজেকে শুধু রোমান্টিক জনরায় আটকে না রেখে কাজ করেছেন বহুমাত্রিক ঘরানায়। নিজেকে প্রমাণ করেছেন সব্যসাচী নির্মাতা হিসেবে। নিজেকে শুধু টেলিভিশনেই আটকে রাখেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও পাল্টেছেন প্লাটফর্ম এবং সেখানেও দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা।
সর্বশেষ গেল ঈদে তুমুল সাড়া ফেলেছে তার নির্মিত স্পিন অফ সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’। সাফল্যের পর কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এর সাকসেস পার্টি যেখানে উপস্থিত ছিলেন টিমের কলাকুশলী থেকে শুরু করে অন্যান্য নির্মাতা ও শিল্পীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নিয়ে আসছেন সিরিজটির সিক্যুয়াল। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে একাধিক সিরিজ ও ফিল্ম নিয়ে আসছেন জনপ্রিয় নির্মাতা।
শিহাব শাহীন বলেন, ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ নিয়ে এতটা প্রত্যাশা ছিল না কিন্তু সে সাড়া পেয়েছি তা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। দর্শকরাই কাজটিকে গ্রহণ করেছেন আর তাই এখন এর সিক্যুয়াল নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি। স্পিন অফে দেখিয়েছি অ্যালেন স্বপনের পেছনের গল্প। সিন্ডিকেটে তাকে আমরা দেখিয়েছিলাম ২০২২ সালে, সে ঢাকায় আসার পর এর মাঝের সময়টার গল্পই থাকবে সিক্যুয়ালে। যেটার সংযোগ থাকতে পারে ‘সিন্ডিকেট ২’-তে। ঈদের পরপর এটার শুট করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিক্যুয়াল ছাড়াও আরও বেশ কিছু সিরিজ ও ফিল্ম নিয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান এ নির্মাতা। তিনি বলেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকির তত্ত্বাবধানে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ সিরিজের একটা কনটেন্ট করবো। এখনও কাস্টিং চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া হইচইয়ের একটি সিরিজ ও বিঞ্জের একটি ফিল্ম করা হবে। নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুটোতেই জিয়াউল ফারুক অপূর্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঝে শোনা গিয়েছিল, আফরান নিশোকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট ২’ নাকি হবে না, এটা কতটুকু সত্য? এমন প্রশ্নে শিহাব শাহীন বলেন, এটা ভূয়া তথ্য। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ‘সিন্ডিকেট ২’ করবো তার আগে সেপ্টেম্বরে শুরু করবো ‘রসু খাঁ’।
জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন শিহাব শাহীন। দেশে ফিরবেন মাসের শেষ নাগাদ এরপর কাজে নামবেন।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৩ ধরনের জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। অন্যদিকে উৎপাদন পর্যায়ে তরল করা পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে ১৩ দশমিক ৭৫ টাকা করে শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ ছাড়া অন্যান্য জ্বালানি জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, লুব বেইজ অয়েল, কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এত দিন এসব জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল।
আমদানি করা পণ্যের যথাযথ মূল্য নির্ধারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্যের ট্যারিফ মূল্য ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে পেট্রোলিয়াম ও এর উপজাত দুটি হেডিংয়ের আওতায় ১২টি এইচএস কোডের বিপরীতে ট্যারিফ মূল্য এবং একটি হেডিংয়ের আওতায় একটি এইচএস কোডের বিপরীতে ন্যূনতম মূল্য বহাল আছে।
পেট্রোলিয়াম ও এর উপজাতগুলোর মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করার কারণে অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডারের বিষয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামাল ইস্পাতের পাত (স্টিল শিট) ও ওয়েল্ডিংয়ের তার আমদানির করছাড় সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদনকারীরা কাঁচামালে শুল্ককর ছাড় ১২ বছর ধরে ভোগ করে আসছে। তাই রাজস্ব আহরণের স্বার্থে শুধু দুটি উপকরণে ছাড় তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য করছাড়ের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে।
পেট্রোলিয়াম তেল এবং বিটুমিনাস খনিজ থেকে প্রাপ্ত তেলের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ৫ শতাংশ। নতুন বাজেট অনুযায়ী এসবের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ হাজার ১১৭ টাকা (লিটার প্রতি ৭.০২ টাকা) হতে পারে। প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের সুনির্দিষ্ট শুল্ক ৯ হাজার ১০৮ টাকা (লিটার প্রতি ৯.১০ টাকা) করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।