আর ঐক্যফ্রন্টে নয়
বিএনপি নেতাকর্মীদের একটাই দাবি
উম্মুল ওয়ারা সুইটি ও রেজাউল করিম লাবলু | ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও প্রচারে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ না করায় এবং নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের জন্য বিএনপি নেতারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে দুষছেন।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের এখন একটাই দাবিÑ দ্রুত ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসা।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে ঐক্যফ্রন্টের যে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল তা থাকেনি। তাছাড়া মির্জা ফখরুল দলের সিনিয়র নেতাদের এড়িয়ে পুরোটা সময় ড. কামালের পরামর্শ নিয়েছেন। ফলে বিএনপি দিনে দিন একটি ছোট দলের ‘ইমেজে’ চলে যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা চান বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত হোক। দলটির এক ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে কেন বিএনপি থাকবে? ওই নেতা গণফোরামকে একক নির্বাচনে একটি আসন দিতে পারেননি। বরং বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট এবার দুটি আসন পেয়েছে। তাই বিএনপির এখন নিজেদের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে।’
বিএনপি নেতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান নিজের ফেইসবুকে লিখেছেন, বিএনপি নিজেদের মতো করে দল গোছাবে এটাই নেতাকর্মীরা চায়। বিএনপির এখন ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে আসা উচিত।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীদের কাছে ভোট কারচুপির কী তথ্য-প্রমাণ আছে তা নিয়ে প্রার্থীদের আজ বৃহস্পতিবার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব তথ্য-প্রমাণ একত্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ নেই বললেই চলে।
তারা বলেছেন, যেহেতু দলের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে সেহেতু তারা যাবেন। নির্বাচনে কারচুপির তথ্য-প্রমাণ এই মুহূর্তে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এজন্য সময় লাগবে। প্রার্থীদের কেউ কেউ বলেছেন, কারাগারে থাকা নেতাদের জামিন করানো, আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা করানোর জন্য এলাকায় থাকতে হবে।
বৈঠকের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে যশোর-৪ আসনের (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকার নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় বিপর্যস্ত। অনেক নেতাকর্মী জেলে রয়েছে। তাদের না দেখে ঢাকায় এসে তিনি কী করবেন?
খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় কাজ আছে। নেতাকর্মীদের জামিন করাতে হবে। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা করাতে হবে। তাই এই মুহূর্তে ঢাকা যাওয়া সম্ভব নয়।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী নাজিমউদ্দিন আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের পক্ষ থেকে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সে বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
তার নির্বাচনী এলাকায় ভোট কারচুপির কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ নেই। শুধু রেজাল্ট শিট নিয়ে যাব।
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কমলাকান্দা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তবে নির্বাচনে কারচুপির তথ্য-প্রমাণ আজকের বৈঠকেই লাগবে এমনটা নয়। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে জমা দেওয়ার জন্য।
যখন প্রয়োজন ছিল তখন দলের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন ইসিতে গিয়ে কী লাভ হবে? ইসিতে যাওয়ার আগেই তো প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ করানো হবে।’
শেয়ার করুন
বিএনপি নেতাকর্মীদের একটাই দাবি
উম্মুল ওয়ারা সুইটি ও রেজাউল করিম লাবলু | ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও প্রচারে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ না করায় এবং নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের জন্য বিএনপি নেতারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে দুষছেন।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের এখন একটাই দাবিÑ দ্রুত ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসা।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে ঐক্যফ্রন্টের যে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল তা থাকেনি। তাছাড়া মির্জা ফখরুল দলের সিনিয়র নেতাদের এড়িয়ে পুরোটা সময় ড. কামালের পরামর্শ নিয়েছেন। ফলে বিএনপি দিনে দিন একটি ছোট দলের ‘ইমেজে’ চলে যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা চান বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত হোক। দলটির এক ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে কেন বিএনপি থাকবে? ওই নেতা গণফোরামকে একক নির্বাচনে একটি আসন দিতে পারেননি। বরং বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট এবার দুটি আসন পেয়েছে। তাই বিএনপির এখন নিজেদের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে।’
বিএনপি নেতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান নিজের ফেইসবুকে লিখেছেন, বিএনপি নিজেদের মতো করে দল গোছাবে এটাই নেতাকর্মীরা চায়। বিএনপির এখন ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে আসা উচিত।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীদের কাছে ভোট কারচুপির কী তথ্য-প্রমাণ আছে তা নিয়ে প্রার্থীদের আজ বৃহস্পতিবার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব তথ্য-প্রমাণ একত্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ নেই বললেই চলে।
তারা বলেছেন, যেহেতু দলের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে সেহেতু তারা যাবেন। নির্বাচনে কারচুপির তথ্য-প্রমাণ এই মুহূর্তে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এজন্য সময় লাগবে। প্রার্থীদের কেউ কেউ বলেছেন, কারাগারে থাকা নেতাদের জামিন করানো, আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা করানোর জন্য এলাকায় থাকতে হবে।
বৈঠকের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে যশোর-৪ আসনের (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকার নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় বিপর্যস্ত। অনেক নেতাকর্মী জেলে রয়েছে। তাদের না দেখে ঢাকায় এসে তিনি কী করবেন?
খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় কাজ আছে। নেতাকর্মীদের জামিন করাতে হবে। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা করাতে হবে। তাই এই মুহূর্তে ঢাকা যাওয়া সম্ভব নয়।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী নাজিমউদ্দিন আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের পক্ষ থেকে যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সে বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
তার নির্বাচনী এলাকায় ভোট কারচুপির কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ নেই। শুধু রেজাল্ট শিট নিয়ে যাব।
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কমলাকান্দা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তবে নির্বাচনে কারচুপির তথ্য-প্রমাণ আজকের বৈঠকেই লাগবে এমনটা নয়। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে জমা দেওয়ার জন্য।
যখন প্রয়োজন ছিল তখন দলের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন ইসিতে গিয়ে কী লাভ হবে? ইসিতে যাওয়ার আগেই তো প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ করানো হবে।’