
ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রুপিতেও বাণিজ্যিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি অনুমোদনও দিয়েছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশে কার্যত দুটি তফসিলি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নস্ট্র (ভারত থেকে বিদেশি বাণিজ্যিক লেনদেনের হিসাব) অ্যাকাউন্টও খুলেছে। এখন গ্রাহক পেলেই রুপিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করা যাবে। তবে এ বাণিজ্য হবে শুধু ব্যাংকগুলোর কাছে ভারতে রপ্তানির মাধ্যমে আহরণ করা রুপি দিয়ে। এ ক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে রুপি ক্রয় করে বাণিজ্য করা হবে না। এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই রুপিতে আমদানি-রপ্তানির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও ইস্টার্ন ব্যাংক রুপি লেনদেনে বিশেষ ভস্ট্রো (বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বাণিজ্যক লেনদেনের হিসাব) অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) থেকে অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে সোনালী ব্যাংক। এখন গ্রাহক পেলেই যেকোনো মুহূর্তে রুপিতে এলসি খোলা যাবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে রুপিতে লেনদেন হলে বাংলাদেশ তেমন কোনো লাভ পাবে না। কারণ আমাদের আমদানি ও রপ্তানিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এজন্য রুপিতে লেনদেনে ডলার সংকট কমবে না। উল্টো আমরা আগে যেই দুই বিলিয়ন ডলার পেতাম সেটাও এখন ভারত রুপিতে পরিশোধ করবে। এই পদক্ষেপে বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই। এতে বাংলাদেশে ভারতীয় রুপির ডিমান্ড বাড়বে। আর ভারতে মুদ্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী হবে।
দেশের কোনো ব্যাংক অন্য দেশের কোনো ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের উদ্দেশে হিসাব খুললে সে হিসাবকে নস্ট্র হিসাব বলা হয়ে থাকে। একইভাবে বিদেশের কোনো ব্যাংক যদি বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকে একই উদ্দেশ্যে হিসাব খোলে, তবে তাকে বলা হয় ভস্ট্র হিসাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডকে (ইবিএল) স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে আইসিআইসিআই ব্যাংকের হিসাব খুলতে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সপ্তাহে আরবিআই অনুমোদন দিয়েছে। এখন আর লেনদেন করতে সমস্যা থাকল না। গ্রাহক পেলেই যেকোনো সময় লেনদেন শুরু হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, ভারতীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা চালু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের মাধ্যমে রুপিতে এলসি খোলার খবর পাওয়া যায়নি। দুই দেশের মধ্যে সম্মত লেনদেনের পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ জুলাই থেকে রুপিতে রপ্তানি আয় পেতে এবং এর সমমূল্যের অর্থে আমদানি বিল নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবে। হজের কার্যক্রম শেষে আগামী রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেবেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। আগামী ১১ জুলাই তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত রুপিতে দুই দেশের লেনদেন শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ এবং প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া গত বছর তাদের রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশের সঙ্গে ডলার এবং অন্যান্য প্রধান মুদ্রায় লেনদেন এড়িয়ে যেতে বলেছিল। বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে যাওয়া রোধ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি থাকায় রুপিতে লেনদেনে ঝুঁকিও আছে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি শুরু হলে পণ্য বাণিজ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও হবে।
এদিকে ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরে দেশে টাকা-রুপিভিত্তিক ডেবিট কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৮ জুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি উপস্থাপনকালে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার এ ঘোষণা দেন। কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টাকা দিয়ে যেমন দেশের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন, তেমনি একই কার্ড দিয়ে ভারতে রুপিতেও কেনাকাটা করতে পারবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ডাবল কারেন্সি এক্সচেঞ্জের প্রয়োজনীয়তা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে টাকাকে ডলারে এবং এরপর ডলারকে রুপিতে রূপান্তর করতে ৬ শতাংশ বিনিময় লোকসান সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি আরও বলেন, যেসব বাংলাদেশি পর্যটক ঘন ঘন ভারত ভ্রমণে যান তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের ভ্রমণের প্রধান গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, অবসর ও চিকিৎসা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, রুপিতে লেনদেন কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরিতে সাহায্য করবে না, যতক্ষণ না সংস্থাটি তার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) বাস্কেটে এ মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত করে। এসডিআর বাস্কেটে অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো, মুদ্রাটি একটি আন্তর্জাতিক রূপান্তরযোগ্য মুদ্রা হিসেবে গণ্য হবে। মার্কিন ডলার, ইউরো, জাপানিজ ইয়েন এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের পাশাপাশি ২০১৬ সালে পঞ্চম মুদ্রা হিসেবে ইউয়ানকে এসডিআর বাস্কেটে অন্তর্ভুক্ত করে আইএমএফ।
পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে ২৫৫টির মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) করেছে সরকার। এসবের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রণীত ২৫০টি পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ গেজেট প্রকাশের আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাঁচটি পৌরসভার গেজেট মেয়াদের মধ্যেই হয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানের গেজেট প্রকাশের পর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়ে থাকে। এটাই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যানের ডকুমেন্টসের গেজেট হওয়ার আগেই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ৩১ কোটি টাকা।
কোনো অঞ্চল বা শহর সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে মাস্টারপ্ল্যান করতে হয়। অর্থাৎ কতটুকু জায়গায় বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ, সবুজ অঞ্চল, জলাশয় ও শিল্প-কারাখানার হবে তা নির্ধারিত থাকে মাস্টারপ্ল্যানে। ওই নির্দেশনা অনুসরণ করেই জায়গার উন্নয়ন করা হয়।
এভাবে উন্নয়ন হলে ওই অঞ্চল বা শহরের সৌন্দর্য বাড়ে এবং এর পরিবেশ ও বাসযোগ্যতা বজায় থাকে। শহরবাসীকে যানজট, জলজট, বায়ুদূষণ প্রভৃতি দুর্যোগ-দুর্ভোগের কবলে পড়তে হয় না।
মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট অঞ্চল বা শহরের ভূমির শ্রেণি, উন্নয়নের ধরন, মানুষের জীবনাচরণ ও চাহিদা বিবেচনা করে ‘নির্দিষ্ট’ সময়ের জন্য মাস্টারপ্ল্যান ডকুমেন্টস তৈরি করা হয়।
২৫৫ পৌরসভার জন্য প্রণীত এলজিইডির মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। বেশ আগেই এসবের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের আগে তার আইনগত ভিত্তি দিতে গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যানগুলোর গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন মাস্টারপ্ল্যানগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে আবার মাঠপর্যায়ের কাজ করে সংশোধন করতে হবে। এ কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে।
জানা গেছে, এলজিইডি ‘জেলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২২টি পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এসবের জন্য খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্ল্যানগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে করা হয়েছে। এসবের বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছিল পাঁচ বছর। সাড়ে তিন বছর আগে প্ল্যানগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ‘উপজেলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২১৫টি উপজেলা পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। এসবের খরচ হয়েছে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্ল্যানগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে করা হয়েছে। এসবের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে।
জানা গেছে, এলজিইডির ‘দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় একটি পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সরকারের খরচ হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে এ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ হয়েছে। এর মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ‘ভোলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণীত হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মেয়াদও শেষ হয়েছে।
‘তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ১৬টি পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। খরচ হয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে এ মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। এসব মাস্টারপ্ল্যানেরও মেয়াদ শেষ হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে ব্যর্থতায় জর্জরিত এলজিইডি আবারও ১৪৪টি নন-মিউনিসিপ্যাল উপজেলা শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৮ সালে ১২টি উপজেলা শহরের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। গত জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯২ কোটি টাকা। সম্প্রতি নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১০০ কোটি টাকা খরচে ৬১টি উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে তারা।
সরকারের বিপুল অর্থ খরচে তৈরি হওয়া এসব মাস্টারপ্ল্যানও আলোর মুখ দেখবে কি না সন্দেহ।
এলজিইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১৮ মে স্থানীয় সরকার বিভাগে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোর জন্য মহাপরিকল্পনাসংক্রান্ত একটি সভা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
ওই সভায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘পাঁচ থেকে দশ বছর আগে প্রণীত মহাপরিকল্পনা প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সংশোধন বা হালনাগাদ করা সম্ভব হবে। উপজেলা শহরের (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলাগুলোর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংশোধন করতে হবে।’ এর মানে আবার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং আবার এসবের জন্য অর্থ খরচ হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলজিইডি পৌরসভা নিয়ে যেসব মাস্টারপ্ল্যান করেছে সেসবের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নতুন করে এগুলোর গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে তেমন কোনো কাজ হবে না।’ তার অভিমত, ‘মাস্টারপ্ল্যান তৈরি এলজিইডির কাজ নয়। প্রকল্পের সুবিধা নিতে তারা এ কাজ করে থাকে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে অথচ সুফল মিলছে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নিজের সাফল্যের পাল্লা ভারী করতে পৌরসভা মাস্টারপ্ল্যানের গেজেট প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা করেও কোনো লাভ হবে না। পরিকল্পনাগুলো সংশোধন করে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নিতে হবে।’
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন পৌরসভা গঠনের পাঁচ বছরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর পুরাতনগুলোর ক্ষেত্রে পৌরসভা আইন হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান করতে বলা হয়েছে। সে বিবেচনা করেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। এলজিইডির ব্যর্থতায় তা আলোর মুখ দেখল না। যার যে কাজ করার কথা তা অন্যকে দিয়ে করালে এমনই হয়। দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত এলজিইডিকে দিয়ে আর কোনো মাস্টারপ্ল্যান না করানো। স্থানীয় সরকারের আওতায় একটি পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ কাজ করা দরকার। বাস্তবায়নকারী সংস্থার হাতে পরিকল্পনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। তাহলে ২৫০ পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানের ব্যর্থতার মতো আরও ব্যর্থতার চিত্র দেখতে হবে।’
এলজিইডির নগর উন্নয়ন ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোল্লা মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানগুলোর বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সেগুলো সংশোধন করে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার চাইলে এখন গেজেট করতে পারে। তা সংশোধন করতে অসুবিধা হবে না। এটা নিয়ে একটি সভা হয়েছে। আশা করা যায়, জটিলতার নিরসন ঘটবে।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলজিইডির ২৫০ পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানের গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে এ বিষয়ে একটা সভাও হয়েছে। দ্রত গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও মাস্টারপ্ল্যানগুলোর গেজেট প্রকাশের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে মাস্টারপ্ল্যানগুলো কিছুদিন আগে করা হয়েছে।’ এসবের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টির খোঁজ নেব।’
রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি এবং সরকার পতনসহ বেশ কিছু দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু দাবি আদায়ের জন্য রাজনীতির মাঠে যে ধরনের আন্দোলন প্রয়োজন তার অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত রয়েছে। তবে দলটির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নেতারা মনে করছেন তাদের কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্য এসেছে। এ কারণে সারা বিশে^র নজর এখন বাংলাদেশের দিকে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে তা বিএনপির পক্ষে গেছে। একই সঙ্গে ১৪ বছর ধরে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন তা যথাযথভাবে তুলে ধরার কারণে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ‘বিএনপি কী দাবি করল তাতে দেশের ও দেশের মানুষের কিছু যায়-আসে না। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ব এখন কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমান বিশ্বে বহু মাত্রিকতা রয়েছে। আমেরিকার বাইরে রাশিয়া, চীন রয়েছে। এর বাইরে আমাদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিবেশী ভারত রয়েছে। তাই কে কী বলল তাতে কিছু যায়-আসে না। দেশের অতীত ইতিহাস তাই বলে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো পরিবর্তন করতে হলে লাখ লাখ জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে। জনগণকে তাদের দাবি তুলে ধরতে হবে। জনগণ তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামলে তখনই কেবল পরিবর্তন সম্ভব। জনগণ রাস্তায় নামলে ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজসহ অন্য অংশীদাররা তখন সিদ্ধান্ত নেবে পরিবর্তনের। তারপরই পরিবর্তন আসবে। একাডেমিকভাবে এটাই প্রমাণিত। জনগণের বাইরে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।’
বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকারসহ সংবিধান স্বীকৃত সব অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের মতের যাতে প্রতিফলন ঘটে তার ব্যবস্থা করতে চাই। জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেলে তারা যাকে ভোট দেবে তারা ক্ষমতায় যাবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আমরা জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝিয়ে দিতে চাই। এ জন্য আমরা দেশে কিংবা বিদেশে কাউকে বলিনি আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিন। সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। নির্বাচনের প্রকৃত পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হবে, যাতে জনগণ তাদের মতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।’
বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির একঝাঁক তরুণ নেতাদের কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে সারা বিশে^র নজর এখন বাংলাদেশে। দেশে গণতন্ত্র না থাকা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের খুন, গুম, হামলা, মামলা, নির্যাতন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার না থাকার বিষয়টি বিশ^ দরবারে তুলে ধরার কারণে আজকে বিশে^র গণতন্ত্রিক দেশগুলো সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে; বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার আহ্বানে আমেরিকায় গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে। তা ছাড়া শুধু বিরোধী রাজনীতি করার জন্য গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের স্বজনদের বিচার পাওয়ার আকুতি বিশে^র দরবারে তুলে ধরায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দেশ সফর করেন কমিটির সদস্যরা। বর্তমানে আমাদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাইরে রয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, প্রতিবেশী ভারত, চীনের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মহাসচিবের নেতৃত্বে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমাদের নির্বাচনী ভাবনা জানতে চেয়েছেন তারা।’
২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি ভেঙে দেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ২১ সদস্যের বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, রিয়াজ রহমান, ড. এনামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন, তাবিথ আউয়াল, জেবা খান প্রমুখ।
পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা কাজ করি। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেন তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তার কাছে ফলাফল রিপোর্ট করতে হয়। এ ছাড়া ভার্চুয়ালি সার্বক্ষণিক নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয় কোথায় কে কী দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে সবাই সবার সাধ্যমতো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ঢাকায় অবস্থানকালে ২০২৩ সালের জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের (ইউএনপিকেএম) প্রস্তুতিমূলক আলোচনায় ঢাকায় এসেছিলেন। তার এই সফর সামনে রেখে গত ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।’
পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিএনপিকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে; বিশেষ করে আন্দোলনের সময়ে নিজেদের লোক দিয়ে যাত্রীবাহী গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা করে তার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে নানা কল্পকাহিনি প্রচার করেছে। আজ খোদ আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কাছে ধরনা দিচ্ছে তাদের অধীনে নির্বাচনে নিতে। বিষয়টি এখন দেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ^বাসী জেনে গেছে এবং তারা দেখছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। প্রতিটি আন্দোলনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন হামলা, মামলা, নির্যাতন করছে। এরপরও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিষয়টি বিভিন্ন দূতাবাস, হাইকমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেখছেন। দেশ-বিদেশের সবাই দেখছে কীভাবে শত উসকানির মুখেও বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশ, পদযাত্রা কিংবা অন্যান্য কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছে।’
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৬৬ ও মৃত্যু ৬ জন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত রোগী বেড়ে ১০ হাজার ৪৫৫ ও মৃত্যু ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে গত সাত মাসে রোগী বেড়েছে ১৮ ও মৃত্যু ১০ গুণ।
যদিও মাসের হিসাবে এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৫৬ ভর্তি ও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে গত মাসে, যা মোট ভর্তি রোগীর ৫৭ ও মৃত্যুর ৫৫ শতাংশ। কিন্তু ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় এ মাসের প্রথম পাঁচ দিন গত জুনের প্রথম পাঁচ দিনকে ছাড়িয়ে গেছে। জুনের প্রথম পাঁচ দিনে রোগী ভর্তি হয়েছিল ৪৫৫ ও মারা গেছে ৪ জন, সেখানে গত পাঁচ দিনে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৪৭৭, যা জুনের পাঁচ দিনের তুলনায় সাড়ে পাঁচগুণ বেশি এবং মারা গেছে ১৫ জন, যা প্রায় চারগুণ বেশি।
রাজধানীর চারটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ বছর অন্য বছরের তুলনায় রোগীর জটিলতা বেশি। পূর্ণবয়স্ক মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে তরুণ শ্রেণি বেশি। বিশেষ করে বেশিরভাগ রোগীই এবার দেরিতে হাসপাতালে আসছে। সে কারণে জটিলতা ও মৃত্যু বাড়ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকেই সতর্ক করে আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবারও রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের’ ইনডোর চালু উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মশা নিধনে দায়িত্বরতদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। আমাদের হাসপাতালগুলো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। রোগীদের ব্যবস্থাপনাটা আমরা দেখছি, এখন মশাটা যাতে নিধন হয় সেই ব্যবস্থাটা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোগীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যথাসময়ে হাসপাতালে আসতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির এক থেকে তিন দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছে ৮০ শতাংশ রোগী। বাকি ১৪ শতাংশ ৪-১০ ও ৬-১১ শতাংশ রোগী ৩০ দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছে।
এ বছর সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মৃত্যুও এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩৩১ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে এ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এখন আগের চেয়ে খারাপ অবস্থা। আরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন রকম জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। কেউ পেটব্যথা, কেউ বমি, কেউ মাথাব্যথা, কারও রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, কারও প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে এসব উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
এ চিকিৎসক জানান, বেশিরভাগ রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছে, একেবারে শেষ মুহূর্তে। এজন্য জটিলতা বেশি। মৃত্যুর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক। সব বয়সী রোগীই আসছে। পূর্ণবয়স্ক রোগী বেশি আসছে। যারা দেরি করে আসে ও শকসিনড্রোম দেখা দেয় ও যাদের অন্যান্য রোগও আছে, তাদের মৃত্যু বেশি। তবে এবার শিশুদের মৃত্যু কম।
‘আমাদের পরামর্শ হলো, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে, জ¦রসহ শরীরে যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখলেই নিজেরা ফার্মেসির ওষুধ না খেয়ে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ডেঙ্গু আছে কি না’ বলেন এ পরিচালক।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯১১ রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে মারাও গেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭১ জন। এ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মঙ্গলবার তার হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৪০ রোগী ভর্তি ছিল। প্রতিদিনই রোগী বেড়ে যাচ্ছে। গত ২ জুন রোগী ছিল ১২ জন। সেটা ৪ জুলাই ১৪০ জন হয়েছে। তার মানে ১০ গুণ বেড়ে গেছে।
এ চিকিৎসক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ, ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, আমরা তাদেরই ভর্তি করি। শকসিনড্রোম বা শকসিনড্রোমের কাছাকাছি এমন রোগীই বেশি। মোট রোগীর ৬৫-৭০ শতাংশই ৩০ বছরের নিচে। এর মধ্যে শিশুও আছে। রোগী যদি এত বাড়তে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু রোগীর পেছনেই মনোযোগ বেশি দিতে হয়। তখন অন্য রোগীদের চিকিৎসায় কিছুটা বিঘœ ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি বিঘœ ঘটবে না। আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৭৬ রোগী ও মারা গেছে ৩৫ জন। এ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ঈদের পর রোগী আরও বাড়ছে। বেশিরভাগ রোগী তরুণ, ২০-৪০ বছর বয়সী। শিশু রোগীও আছে। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ রোগী জটিলতা নিয়ে আসছে। খেতে পারছে না, বমি, পেটব্যথা, অচেতন হয়ে পড়ে গেছে এরকম বেশি। ডেঙ্গু রোগীর শুধু জ¦র আছে এমন ভর্তি করি না, ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দিই। যাদের জ¦রের সঙ্গে বিভিন্ন উপসর্গ থাকে, তাদের ভর্তি করি। গতবারের তুলনায় এবার রোগীদের জটিলতা বেশি। এবার রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জ¦র হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যে রোগী অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে ও হাসপাতালে আসছে। অথচ আগে জ¦রের পাঁচ-সাত দিন পর অবস্থা খারাপ হতো।’
‘আমাদের পরামর্শ হলো এখন ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে। তাই জ¦রকে ভাইরাল মনে না করে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে তার ডেঙ্গু হয়েছে কি না। ডেঙ্গু হলে যদি প্রথম থেকেই সতর্ক থাকে, প্রচুর তরল খাবার খেয়ে বিশ্রামে থাকে, তাহলে অবস্থা খারাপ কম হয়। কিন্তু যারা জানে না ডেঙ্গু আছে কি না, তাদের জ¦র হলে অবহেলা করে। যখন অবস্থা খারাপ হয় তখন হাসপাতালে আসে। এ ধরনের রোগীরা হাসপাতালে এলেও অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসা দিলেও ভুগতে হয়। এজন্য প্রথম পরামর্শ হলো জ¦র হলে ডায়াগনসিস করবে তার ডেঙ্গু হয়েছে কি না; দ্বিতীয় পরামর্শ হলো ডেঙ্গু যাতে না হয় সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যখনই ঘুমাবে মশারি ব্যবহার করবে’ বলেন এ পরিচালক।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭৩৭ রোগী ভর্তি হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল)। মৃত্যুও এখানে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০১ জনের। এ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কাজী মো. রশীদ উন নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোগী দিন দিন বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ৯৮ জন রোগী ভর্তি ছিল। তাদের মধ্যে ৮৫ জন পূর্ণ বয়স্ক ও ১৪ জন শিশু। তার আগের দিন ভর্তি হয়েছে ২৮ জন, রবিবার ভর্তি হয়েছে ২১ ও শনিবার ২৪ জন।
এ চিকিৎসক বলেন, এবার রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে। দেরিতে রোগীরা আসছে। ফলে তাদের শকসিনড্রোম দেখা দিচ্ছে। রক্তক্ষরণ বেশি, হাতে-পায়ে পানি জমে যাচ্ছে।
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১, রোগী ভর্তি ৫৮৪ জন : এ সময় রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৮২ ও ঢাকার বাইরে ২০২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৯১১ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৮৫ ও ঢাকার বাইরে ৬২৬ জন।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সত্যিকার অর্থে মেধা পাচার রোধ করা দুরূহ ব্যাপার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল সব দেশ থেকেই মেধা পাচার হয়ে থাকে। তারপরও সরকারের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশের মেধা পাচার নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান। লিখিত জবাবে তিনি জানান, দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের কারণে মেধাবীরা দেশে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এ ছাড়া সব সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের মেধা পাচার অনেকটাই রোধ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মেধাবীদের মূল্যায়নে সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরও জানান, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, মেধাবীদের বৃত্তি বা উপবৃত্তি প্রদান, সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার প্রাধান্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশিষ্ট ও মেধাবীদের বিভিন্ন পদক-পুরস্কার ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার থেকে মেধাবীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে গবেষণা পরিচালনা করে বঙ্গোপসাগরে ৪৭৩টি প্রজাতির মাছ শনাক্ত করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশের সাগর উপকূলে এ পর্যন্ত ১৫৪ প্রজাতির সিউইড শনাক্ত করেছে, যার ২৭টি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে ৬ প্রজাতির সিউইডের চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান জানান, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমানে বিশে^র ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৪৯ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত আছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক যুগে পেশাজীবী, দক্ষ, আধা দক্ষ ও স্বল্প দক্ষ ক্যাটাগরিতে ৮১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২ জনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নারী কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণের ফলে গত এক যুগে প্রায় ১০ লাখ নারী কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য একোয়ান্টিক ডপলার কারেন্ট প্রোফাইলার (এডিসিপি) যন্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট সমুদ্রের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একোয়ান্টিক ডপলার কারেন্ট প্রোফাইলার (এডিসিপি) যন্ত্র সংগ্রহ করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকার স্রোত ও ঢেউ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম ম্যাপিং করা হচ্ছে। ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগরে পূর্ব ও পশ্চিম জোনের কোস্টাল ও নিয়ারসোর এলাকার সব ফিজিক্যাল প্যারামিটার (যেমন ওয়েভ ডেটা, টাইড ডেটা, কারেন্ট ডেটাসহ অন্যান্য তাপমাত্রা, চাপ, লবণাক্ততা, গভীরতা ইত্যাদি) নির্ণয় গবেষণা কার্যক্রম চলছে এবং ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র সীমানায় বিদেশি টলার বা জাহাজের অবৈধ প্রবেশ রোধ, মাছ ধরা বন্ধ করা, চোরাচালান ও মানব পাচার রোধে কাজ করে চলেছে।
‘উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আর শর্ত দেয় না’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা দেশকে এমনভাবে গড়ে তুলছি, যাতে কখনো অন্যের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে না হয়। আগামী দিনেও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এই কামনা করি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আর আগের বছরগুলোর মতো অনেক শর্ত দেয় না।’
গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব সময় দেশে ও বিদেশে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাদের মানবিক সদিচ্ছার কারণে, তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সম্মান পায়। আমি খুব গর্ববোধ করি, যখন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তাদের দেশে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করেন।’
প্রধানমন্ত্রী রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গার্ডগুলোর সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খালেদ কামাল প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে হেঁটে সব অফিসার এবং জুনিয়র কমিশনড অফিসারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট সহায়তা ও ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া শর্তের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা এসেছে সংস্থাটির মুদ্রা ও পুঁজিবিষয়ক কারিগরি মিশন। এদলটি দেশে থাকতেই আগামী ১৪ জুলাই আইএমএফের ডিএমডি বো লি-এর দেশে আসার কথা আছে। তিনি আইএমএফের চার উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের একজন। এবারের আলোচনার পরই বাজেট সহায়তা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় কিস্তির বিষয়েও সিদ্ধান্ত দেওয়া হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব জানা যায়।
গতকাল বুধবার দেশে এসেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা। ঋণ অনুমোদনের আগে সংস্থাটির দেওয়া শর্তের কতটা সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং বাকি শর্তপূরণে অগ্রগতি কতটা আলোচনাকালে তা গুরুত্ব পেয়েছে। গতকালের বৈঠকে ঋণ ও নগদ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। আদর্শ বন্ড ইস্যু, দায় ব্যবস্থাপনা এবং মধ্য মেয়াদে আর্থিক কাঠামো বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক খাত, আন্তর্জাতিক রিজার্ভ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ, সরকারের বাজেট ঘাটতি, করছাড়, সামাজিক ব্যয়, পুঁজিবাজার নিয়েও কথা হয়েছে। বৈঠকে গত অর্থবছরে এনবিআরে রাজস্ব ঘাটতির কারণ নিয়ে অনেকটা সময় কথা হয়। এ ছাড়া চলতি বাজেটে সংস্থাটির শর্তের কী কী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা জানানো হয়েছে।
এবার ঋণ ও বাজেট সহায়তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অরিন্দম রায়ের নেতৃত্বে সংস্থার পাঁচ সদস্যের এই মিশনের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দুই সদস্যও রয়েছেন। আইএমএফের পুঁজিবিষয়ক এই কারিগরি মিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে সংস্থাটি। ঋণ অনুমোদের আগেই সংস্থাটি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছিল নিয়মিত ঋণের কিস্তি পেতে হলে কত দিনে কী কী শর্তপূরণ করতে হবে। সরকার শর্ত মানতে রাজি হওয়ায় ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের তিন দিন পরই প্রথম কিস্তিতে ছাড় করেছে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সাত কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ দেওয়ার কথা। বৈশ্বিক মন্দার কারণে আর্থিক সংকটে আছে বাংলাদেশ সরকার। ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পেতে এরই মধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাজেট সহায়তা পেতে বিশ^ব্যাংকসহ অন্যান্য ঋণদানকারী সংস্থার সঙ্গেও চলছে যোগাযোগ। এসব সংস্থা থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে আইএমএফের দেওয়া শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে ঋণের কিস্তি ছাড় করা হবে না এমন কথা আগেই বাংলাদেশ সরকারকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
ছোট-বড় আকার মিলিয়ে আইএমএফ থেকে এ পর্যন্ত এগারোবার ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে সাত কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর অন্যতম শর্ত ছিল নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন করা। এ আইন করতে দেরি করায় শেষের দুই কিস্তি আটকেও দিয়েছিল আইএমএফ।
এরই মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশে সরকারের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে খানিকটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শর্তের বেশিরভাগই অন্তর্ভুক্তির কথা থাকলেও নির্বাচনের আগের শেষ বাজেট হওয়ায় ভোটার অসন্তোষ্টির ভয়ে সরকারের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আইএমএফ প্রতিনিধিদের এবারের সফরের বৈঠকে শর্ত মানার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে ঋণ অনুমোদনের প্রায় তিন মাস পর ঋণের শর্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত এপ্রিলের শেষে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঋণের কিস্তি ছাড়ের আগে আইএমএফ প্রতিনিধিরা মূল্যায়ন করে থাকেন যে কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকিটা বাস্তবায়নে অগ্রগতি কতটা। কয়েকটা খাতে শর্তপূরণ হবে না বলে এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশেষভাবে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা, রিজার্ভ, উন্নয়ন বাজেট বিষয়ের শর্তপূরণ কঠিন হবে। এতে যে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় করা হবে না এমনটা মনে করছি না।
আইএমএফের ডিএমডি বো লি ২৪ ঘণ্টার জন্য ঢাকায় অবস্থান করতে পারেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। চীনা বংশোদ্ভূত এই ডিএমডির সঙ্গে আইএমএফের আরও কয়েকজনের থাকার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ডিএমডি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা, সবুজ অর্থায়ন ইত্যাদি বিষয়ে একটি সেমিনারে অংশ নেবেন। তার এ সফরে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া শর্ত বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও তাকে জানানো হবে। ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে তা ইতিবাচক মতামত পেতে চেষ্টা চালানো হবে।
আল হিলালের হয়ে অভিষেকের পর চার ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। কিন্তু কোনো ম্যাচে তিনি পাননি কোনো গোলের দেখা। অবশেষে আরবের ক্লাবটির হয়ে নিজের পঞ্চম ম্যাচে তিনি পেয়েছেন গোলের দেখা। তাতে দলও পেয়েছে বড় জয়ের দেখা।
এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে ইরানের ক্লাব নাসাজি মাজান্দারানকে হারিয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপের দুইয়ে আল হিলাল। ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাভবাহোর।
ম্যাচের ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় হিলাল। মোহাম্মদ আল বুরায়েকের বাড়ানো বলে জাল খুঁজে নেন অ্যালেক্সান্ডার মিত্রোভিজ। ৩৮ মিনিটে দুই দলই পরিণত হয় দশ জনের দলে। তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন দুই দলের দুই ফুটবলার।
৫৮ মিনিটে সেই কাঙ্খিত গোলের দেখা পান নেইমার। নাসের আল দাওয়াসারির পা ঘুরে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই তারকা। আর শেষ দিকে সালেহ আল সাহেরির গোলে বড় নিশ্চিত হয় আল হিলালের।
‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০২০ সালে অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিলেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তালিকা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা তাদের চাহিদার পরিবর্তন আনেন। তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তা না করে সেতু তৈরির ওপর জোর দেন। কিছু ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক ব্যয় না চেয়ে থোক বরাদ্দও চাওয়া হয়েছিল। চাহিদার জটিলতায় ধীরগতিতে চলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন। ঠিক সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে না পারার শঙ্কায় ফের সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
যদিও একই রকম আরেকটি প্রকল্পের কাজ তখনো চলমান ছিল। চলমান একটি প্রকল্প শেষ না হতেই সংসদ সদস্যদের জন্য আরেকটি প্রকল্প নিয়ে তখন বেশ আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছিল।
প্রকল্প-৩-এর মেয়াদ আছে আর এক বছর। অথচ কাজ চলছে ঢিমেতালে। নির্বাচনের আগে তাদের চাহিদার পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। এর বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৪১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যেক সংসদ সদস্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে বছরে পাঁচ কোটি টাকা করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে চার বছরে এ অর্থে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা তাদের। সিটি করপোরেশন এলাকার ২০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা এ বরাদ্দের বাইরে রয়েছেন।
নিজ এলাকার উন্নয়নে এমন সুযোগ পেলেও সংসদ সদস্যরা কাজে লাগাতে পারেননি। প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন অর্ধেকেরও কম হয়েছে। অধিকাংশ সংসদ সদস্যই তাদের প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু তারা বলছেন, যে চাহিদা তারা দিয়েছিলেন তার অধিকাংশ পেয়েছেন।
জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার আসনে যেসব চাহিদা দিয়েছিলাম সবগুলোই পেয়েছি। কিন্তু এ মুহূর্তে এসে বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৪১ শতাংশ বলা হচ্ছে, এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। পরিকল্পনা কমিশনে কীসের ভিত্তিতে এই সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা জানি না।’
সংসদ সদস্যরা যে চাহিদা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে ইনু বলেন, ‘কোনো এমপি চাহিদা পরিবর্তন করার কথা নয়। আমার এলাকায় যা চেয়েছি তাই তো পুরোটা তারা দিতে পারেননি। প্রতি বছর পাঁচ কোটির বরাদ্দ, তার বাইরে তো তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।’ পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভায় প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খানের কাছে সংশোধনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সেখানে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নতুনভাবে নির্মাণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত স্কিমগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। স্কিমগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন।
পিইসি সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এ বিষয়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ছায়েদুজ্জামান বলেন, যেসব স্কিম অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর যৌক্তিকতাসহ সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে, নতুনভাবে গৃহীত স্কিমগুলো বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকার কম করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তৃতীয় দফার এ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে উপজেলা সড়ক নির্মাণ করা হবে ৩০৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার। ইউনিয়ন সড়ক নির্মাণ করা হবে ৬৬০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার। গ্রাম সড়ক উন্নয়ন হবে ৫ হাজার ৭৫ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার। গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ হবে ১ হাজার ৯০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার। গ্রামীণ সড়কে ১০০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যরে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে ৭ হাজার ৯৯২ দশমিক ২২ মিটার।
এসব প্রস্তাব সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় ফের বাদ সাধেন তারাই। পরে মূল প্রকল্প প্রস্তাব থেকে প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধনে ১৯৩ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৮৩ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৫০৫ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বাদ দেওয়ার আবদার করেছেন তারা। এর বিপরীতে ৩৯২ দশমিক শূন্য ১ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক ও ২ হাজার ৬৭৪ দশমিক ৫১ মিটার সেতু-কালভার্টের প্রস্তাব এসেছে তাদের কাছ থেকে। সে অনুযায়ী সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছি এ রাস্তাটি আজকে করব, কিন্তু দেখা গেল অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে এ রাস্তাটি হয়ে গেছে। এমপিরা যেভাবে ডিও দেন প্রকল্পটি সেভাবে চলে, আমাদের ফ্রেমওয়ার্কটিই সেভাবে তৈরি করা।’
এ মুহূর্তে প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে পরিবেশের জন্য ড্রেনেজ সুবিধা রাখতে হবে। একটি রাস্তা করতে গিয়ে দেখা গেল, একটি কালভার্ট বা সেতুর প্রয়োজন হয়েছে। এটি এখন প্রথম প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার)। এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন হিসেবে কাজ করছে।’
বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণ হিসেবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘যখন প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছিল তখন করোনা মহামারী ছিল। করোনার কারণে প্রকল্পটির কাজ দেরিতে শুরু হয়েছিল, যার ফলে এ মুহূর্তে বাস্তবায়ন অগ্রগতি এ পর্যায়ে এসেছে।
পিইসি সভায় সংশোধনের কারণ জানতে চাওয়া হলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ১১তম জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রাথমিক চাহিদাপত্র (ডিও) গ্রহণ করে স্কিমের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিশেষ পরিস্থিতি ও অগ্রাধিকার ক্রমপরিবর্তনের ফলে আরডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত স্কিম তালিকা পরিবর্তন করে ডিওর মাধ্যমে সংশোধিত নতুন স্কিম তালিকা করা হয়েছে। পরিবর্তিত স্কিম তালিকা অনুযায়ী গ্রাম সড়ক ও সেতু-কালভার্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উপজেলা-ইউনিয়ন সড়কের পরিমাণ কমেছে।
এ প্রকল্পের তথ্য-বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৭৫ কিলোমিটারের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের জন্য। এতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০ কোটি টাকা। ৬৬০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২৮ কোটি টাকা, ৩০৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক উন্নয়নের জন্য ২৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। তা ছাড়া ১ হাজার ৯০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৮১ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠনের পর প্রত্যেক সংসদ সদস্য নিজ আসনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করে পেয়েছিলেন। সে সময় প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৮৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এটি ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জুনে শেষ হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্যদের ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়ন হয়েছে। এ প্রকল্পটি শেষ না করেই তৃতীয় মেয়াদে আবার ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের কারণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রশ্নের মুখে পড়ে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্যরা সরাসরি টাকা পাবেন না। তারা শুধু তাদের নির্বাচনী আসনে পছন্দ মোতাবেক প্রকল্পের নাম দেবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে শোভন আচরণ এবং বিশৃঙ্খলা-সৃষ্টি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচএম আবু বকর চৌধুরী।
বহিষ্কৃতরা হলেন মোক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হেকিম, সদস্য মো. জাকির হোসেন, ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আকরাম হোসেন, একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়সাল ফকির এবং ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাইদুল।
তবে ঘটনার উসকানিদাতা মোক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচএম আবু বকর চৌধুরী বলেন, পুরো বিষয়টি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দেখছেন। এ ব্যাপারটি তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।
সারা দেশে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১ হাজার ৫৭৭টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ঘটেছে ১৫৫টি, যা আগস্ট মাসের চেয়ে ২৭টি বেশি। এ সময় আগুনে ৪ জন নিহত ও ১১ আহত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় ১৫৫টি আগুনের ঘটনায় ৭ জন আহত হলেও কেউ মারা যায়নি। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, তেজগাঁও, বারিধারা, উত্তরা এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এর মধ্যে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বারিধারা এলাকায় গত মাসে ১৬টি করে অগ্নিকান্ড ঘটেছে।
সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ৬০৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৯, রাজশাহী বিভাগে ২২৫, খুলনা বিভাগে ১৩২, সিলেট বিভাগে ৫৭, বরিশাল বিভাগে ৬০ ও রংপুর বিভাগে ২৪৮টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বরে অগ্নিকাণ্ড কমেছে। আগস্টে সারা দেশে ১ হাজার ৬৬৭টি আগুনের ঘটনা ঘটেছিল।
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ৭৮৭টি বিভিন্ন দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে আছে ঢাকায় ১৫৯, ময়মনসিংহে ৫৫, চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ২০১, খুলনায় ৮৮, সিলেটে ২৭, বরিশালে ৪১ ও রংপুর বিভাগে
১১৪টি দুর্ঘটনা।
ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, বিভিন্ন দুর্ঘটনার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রয়েছে ৫৯০। এ ছাড়া রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারজনিত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১০, গ্যাসলাইনে ত্রুটিজনিত ঘটনা ১৩, লিফট দুর্ঘটনা ১৫, বজ্রপাতের ১৯, নদী ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ১১৫ এবং অন্যভাবে আরও ২৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ১৮৪ জন নিহত ও ৭৭৭ জন আহত হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে শুধু ঢাকায় ৪৯টি বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, পুরান ঢাকা এলাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।
ফায়ার সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত মাসে সারা দেশ থেকে ফায়ার সার্ভিস আগুন ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৩৫৪টি কলের মাধ্যমে সেবা দিয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ১৫২টি কলের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৮ জন রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়েছে।
ঢাকায় অগ্নি দুর্ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সেখানে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট কাজ করে। আর তখন তাদের সহযোগিতা করেছেন সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের মালামাল, আসবাবসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী ওই সময় বলেছিলেন, মার্কেটের ভেতরে কোনো ফায়ার সেফটি ও ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না। এ ছাড়া মার্কেটটি অনেকটা বঙ্গবাজার মার্কেটের মতো। ফুটপাত ও সড়কে দোকান থাকা এবং মানুষের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।
এর আগে বঙ্গবাজারের চারটি মার্কেটে অগ্নিকান্ডের পর ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। বেশিরভাগ মার্কেট আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছিল অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী। এরপরই নিউ সুপার মার্কেটে আগুনের ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ শূন্য আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর এই দুই আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ তথ্য জানান।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ অক্টোবর (বুধবার) মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর, আপিল নিষ্পত্তি ১৮ অক্টোবর (বুধবার), প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), প্রতীক বরাদ্দ ২০ অক্টোবর (শুক্রবার) এবং ভোটগ্রহণ ৫ নভেম্বর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এর আগে, গত ১ অক্টোবর সংসদ সচিবালয় এই দুই আসন শূন্য ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত এমপি আবদুস সাত্তার ভূঞা এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল রাজধানীর একটি হাসপাতালে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান। এরপর আসন দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নিতে চায় তার পরিবার। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন জার্মান বিএনপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিএনপি নেতারা।
তারা বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জার্মানিতে নেওয়ার কথা ছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সে সময় শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়। এবার চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে আনার কথা শুনছি। জার্মানিতে খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা দরকার তার আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা জার্মানিতে রয়েছে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি যদি চেয়ারপারসনকে জার্মানিতে আনা হয় তাহলে আমরা তার জন্য কিছু করার সুযোগ পাব। জার্মানিতে তার ভালো চিকিৎসা হবে।’
এর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জান রল্ফ জানোস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জানোস্কি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া যে ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সম্ভব জার্মানি তার অন্যতম। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে জার্মানিতে তার সুচিকিৎসা হতে পারে।’
গত ৯ আগস্ট খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরে তার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির জটিলতা বেড়েছে। তিনি হাসপাতালে কখনো কিছুটা ভালো থাকছেন, পরক্ষণেই তার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ফলে তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লিভার সমস্যার কারণে ম্যাডামের শ্বাস কষ্ট হয়। ইতোমধ্যে তাকে দুইবার করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছিল। লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারলে শ্বাসকষ্টটা হতো না।’
এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষণ না থাকায় তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।
খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হতে পারে এমন খবরে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও খোঁজখবর নিচ্ছেন জার্মান বিএনপি নেতারা।
জার্মান বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়া বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জার্মানিতে ম্যাডামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হতে পারে বলে জানতে পেরেছি। আমরা খুবই খুশি। কারণ জার্মানিতে আসলে আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে পারব। চেয়ারপারসনের যে চিকিৎসা দরকার তা সকল ব্যবস্থা জার্মানিতে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের মুক্তি, তার উন্নত চিকিৎসা ও গণতন্ত্র ফেরাতে দেশে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। আগামী ৯ অক্টোবর আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। জার্মান বিএনপির উদ্যোগে রোডমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব জার্মান পার্লামেন্টের সামনে। ’
আকুল মিয়া বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যখন বিদেশে নেওয়ার আলোচনা চলছিল তখনও জার্মানিতে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তারেক রহমানের সেবা করতে না পারলেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সেবা করতে পারব বলে আশা করছি। তার চিকিৎসা জার্মানিতে করতে পারলে আমরা ধন্য হবো।’
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সোমবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনি মতামত জানতে চেয়ে আবেদনের কপি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনটি অল্প সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক বিস্ময় হাওরের ওপর অত্যাচারের যেন শেষ নেই। ধান-মাছের এই বিপুল ভান্ডার রক্ষার নামে একদিকে চলে স্থায়ী-অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতি; যার কারণে যখন-তখন হাওরডুবিতে ঘটে ফসলহানি। পাশাপাশি আরেক দিকে চলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের নামে অবৈজ্ঞানিকভাবে যত্রতত্র বাঁধ-রাস্তা-ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের ধুম; ফলে পরিবেশ-প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মরতে বসেছে হাওর। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে শেষমেশ সরকারপ্রধান হুকুম দিয়েছেনে ‘হাওরে আর কোনো সড়ক নয়।’
এই পরিস্থিতিতে দেশ রূপান্তরের চোখে ধরা পড়েছে আরেক অশনিসংকেত। এবার শিল্পপতিদের চোখ পড়েছে হাওরে। কোথাও কোথাও থাবাও পড়তে শুরু করেছে। তেমনি সব ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে ভাটি অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে। এখানে গড়ে উঠেছে মুরগির ডিম ও কম্পোস্ট সার উৎপাদনের কারখানা। তৈরি হচ্ছে ফ্লাওয়ার মিল, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শিল্প। হাওরের ‘লিলুয়া’ বাতাসে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে কারখানার দুর্গন্ধ। ‘চান্নি পসর রাইতে’ এখন আর শোনা যায় না বাউলকণ্ঠের দরদি সুর। প্রায় দিনই শিল্পপতিদের আনাগোনার অশুভ পদধ্বনি শুনতে পান হাওরবাসী।
অথচ যেকোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি বা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য হওরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীবনাচরণ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গত ১৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে হাওর অঞ্চলের সড়কগুলো এলিভেটেড করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর থেকে হাওরাঞ্চলে কোনো সড়ক করতে হলে এলিভেটেড পদ্ধতিতে করতে হবে, যাতে সেখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়। সরকারপ্রধানের এমন নির্দেশের পরও থামেনি হাওর ধ্বংসের তৎপরতা।
হাওরে জমি কেনাবেচার হিড়িক
বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট বাজারের অদূরে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের নিচু জমি ভরাট করে বিশাল আকৃতির ছয়টি শেডসহ অনেক স্থাপনা নিয়ে ‘কাজী ফার্ম’ গড়ে তুলেছে মুরগির ডিম ও কম্পোস্ট সার উৎপাদন কেন্দ্র। উপজেলার বাগদাইরসহ আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথের ধারেই কাজী ফার্মের এই প্রতিষ্ঠান। এখনই নাকে কাপড় দিয়ে দ্রুত পার হতে হয় রাস্তা; আর প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ডিম উৎপাদনের এই বিশাল কারখানাটি পুরোপুরি চালু হলে দুর্গন্ধে বসবাস করা যাবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন এলাকাবাসী। স্নানঘাট ভূমি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১৯ একর ৮০ শতক জমি নামজারি হয়েছে। আরও কয়েক একর জমি কিনেছে তারা, যা নামজারির অপেক্ষায়।
গত ১৮ জুন হাওর লাগোয়া বাগদাইর গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা হয় স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য আলেকজান বিবির সঙ্গে। তিনিসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ দেশ রূপান্তরকে বললেন, হাওরের ফসলি জমি ভরাট করে এ ফার্মটি গড়া হয়েছে। এভাবে শিল্প গড়ে উঠলে হাওরের অস্তিত্ব বিলীন হতে আর সময় লাগবে না।
স্থানীয় লিটন মিয়া বললেন, গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের ইলাম এলাকায় আকিজ গ্রুপেরও ১৮ বিঘা জমি রয়েছে। উঁচু পাড় বেঁধে আপাতত মাছ চাষ করছে তারা। আগে জমিটির মালিক ছিলেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী। আব্দুল কাদির চৌধুরী জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগে তার নিজের জমি ছাড়াও আশপাশের আরও ৫০ বিঘা জমি কিনেছে আকিজ গ্রুপ। আপাতত পুকুর করেছে। ভবিষ্যতে কী করবে, কোম্পানিই জানে।
দীর্ঘদিন ধরে জমি কেনাবেচায় মধ্যস্থতা (দালালি) করেন হারুন মিয়া। তিনি জানান, শুকনো মৌসুমে মাসের ১০ দিনই তাকে হাওরে জমি দেখাতে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর লোকজনকে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন শিল্পপতির সঙ্গে তার মাধ্যমে জমির মালিকদের কথাবার্তা চলছে।
একই পেশার আলী আমজদ বলেন, ইদানীং গুঙ্গিয়াজুরী হাওর এলাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোকজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। সালাউদ্দিন নামে ঢাকার এক বাসিন্দা গত মার্চে বন্ধুদের নিয়ে হাওর ঘুরে গেছেন। রাস্তার পাশে তিনি কমপক্ষে ১৫-২০ একর জমি কিনতে চান। তার সঙ্গে আলাপ করে আমজাদ যা বুঝতে পেরেছেন, জমিতে তারা সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে আগ্রহী।
লন্ডনপ্রবাসী নাঈম চৌধুরী জানান, তার ১২ বিঘা জমি কেনার জন্য দামদর ঠিক করেন ঢাকার ব্যবসায়ী জুয়েল খান। সবকিছু ঠিকঠাক করার পর অজ্ঞাত কারণে তিনি সরে যান। নাঈম চৌধুরী পরে জানতে পারেন, কমিশন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় আইনি পরামর্শক জুয়েল খানকে নিরুৎসাহিত করেন।
হাওর গ্রাসের যত কৌশল
নিচু এলাকা হওয়ায় হাওরে জমির দাম তুলনামূলক কম। এখনো এক বিঘা (৩৩ শতক) জমি ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হয়। পুটিজুরী গ্রামের বাসিন্দা টেনু মিয়া বলেন, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলা অংশে গুঙ্গিয়াজুরী হাওর থেকে দুই-চার কিলোমিটার দূরেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, বিবিয়ানা গ্যাস কূপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। আবার হাওর এলাকা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিও তেমন থাকে না। ফলে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে জমি থেকে বালু তুলে অন্য অংশ ভরাট করে ফেলা সহজ হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভরাট করা হয়। এভাবে সহজেই হাওরের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলা হয়।
স্থানীয় নবীর হোসেন বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও বেশ ঝামেলার কাজ। নবীগঞ্জ ও বাহুবল ভূমি অফিসের কয়েকজন তহশিলদারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তাদের না জানিয়েই শিল্পপতিরা সব কাজ সেরে ফেলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমিতে শিল্প বা আবাসিক এলাকা তৈরির জন্য জমি কেনার আগেই জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। আবেদনটি প্রথমে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠাবেন। ইউএনও তখন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে প্রতিবেদন চাইবেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) সরেজমিন পরিদর্শন এবং কৃষি, মৎস্য ও বন বিভাগের মতামত পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন। এর পর জেলা প্রশাসক সেই অনুমোদন দিতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কোনো অনুমোদনেরই তোয়াক্কা করেন না শিল্পপতিরা। আবার কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন করলে তখন চাপের মুখে স্থানীয় প্রশাসনকে শিল্পপতিদের পক্ষেই প্রতিবেদন দিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শনে ভূমির যে শ্রেণি পাওয়া যায়, সেই মোতাবেক ভূমি কর আদায় করে নতুন শ্রেণির বৈধতা দিয়ে দেওয়া হয়।
শিল্পপতিরা রাস্তার পাশে প্রথমে এক-দুই একর জমি একটু বেশি দাম দিয়ে কিনে পরে পেছনের জমি প্রায় পানির দরে কেনেন বলে জানান স্নানঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আবুল কালাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত শিল্প মালিকরা দালাল দিয়ে জমি কিনতে চান। কারণ, তারা সরাসরি কিনতে এলে দাম বেশি চাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরেক মধ্যস্থতাকারী শামসু মিয়া বলেন, ‘বেশি জমি কেনার ইচ্ছা থাকলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। আমরা কম দামে কিনে দিয়ে বেশি কমিশন নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, আমাদের আয়ের একটা অংশ ভূমি শাখার কর্মকর্তাদেরও দিতে হয়। নইলে জমির কাগজপত্র যত স্বচ্ছই হোক, তারা “ঘিয়ের মধ্যে কাঁটা” বের করার চেষ্টা করেন।’
এ ছাড়া স্থানীয় বা বহিরাগতদের উদ্যোগে পুকুরের নাম করে হাওর এলাকার যেখানে-সেখানে মাটি খনন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আইন বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমি থেকে দেদার বালু তোলা হচ্ছে।
জমি নিয়ে লুকোচুরি
হবিগঞ্জের ১৩টি হাওরের মোট আয়তন ৭৩ লাখ ৫৭৯ একর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের অবস্থান জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ, বানিয়াচঙ্গ ও সদর উপজেলা ঘেঁষে। এই হাওরে কী পরিমাণ জমি ছিল বা এখন কতটুকু আছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায়নি সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেও।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে, এই হাওরের জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৩৩ একর। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ৬৪ হাজার ২২০ একর। ৮ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৭ সালে পরিসংখ্যান বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে হাওরের আয়তন দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৪২৯ একর। জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, এই হাওরের আয়তন ১২ হাজার ৩৯৯ একর ৪ শতক। চারটি অফিসের কর্মকর্তারাই তাদের হিসাব সঠিক বলে দাবি করছেন। আরেকটি রহস্যময় বিষয় হলো, চারটি উপজেলা ঘেঁষে এই হাওরের অবস্থান হলেও ওই চার সরকারি প্রতিষ্ঠানই বানিয়াচঙ্গ ছাড়া বাকি তিন উপজেলার হিসাব দেখাচ্ছে।
১০ বছর আগে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে জমির পরিমাণ কত ছিল জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এক মাস সময় নিয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
ওদিকে ২০১৬ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন হাওর ও জলাভূমি অধিদপ্তরের প্রকাশিত ‘ক্লাসিফিকেশন অব ওয়েটল্যান্ড অব বাংলাদেশ ভলিউম-৩’-এ দেখা যায়, গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের মোট আয়তন ৬৯ হাজার ৮২৯ একর ৩৭ শতক। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় ৩০ হাজার ১৫৬ একর ২০ শতক, বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় ১৭ একর ২০ শতক, হবিগঞ্জ সদর ১৫ হাজার ৯০১ একর ৮৬ শতক ও নবীগঞ্জে ২৩ হাজার ৭৫৩ একর ৯৯ শতক।
হাওর এলাকায় দিনে দিনে জনবসতি বৃদ্ধি, হাজার হাজার পুকুর তৈরি, জমি ভরাট করে শিল্প-কারখানা স্থাপনের কারণে আগের চেয়ে এখন কৃষিজমির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নূরে আলম সিদ্দিকী।
গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের আওতাধীন বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ও স্নানঘাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজার নাম উল্লেখ করে গত ১০ বছরে কী পরিমাণ জমি বিক্রি করা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ে জমির মূল্য কত ছিল জানতে চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুশান্ত ঘোষ এবং জেলা রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌজা হিসাব করে জমি কেনাবেচার তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। এসব উত্তর দিতে হলে প্রতিটি দলিল তল্লাশি করে বের করতে হবে, যা ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ।’
আবেদন-অনুমোদন খেলা
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, কাজী ফার্মের বিক্রি হওয়া জমির মধ্যে ৭৮ বিঘায় আগে তারা বর্গাচাষ করেছেন দীর্ঘদিন। ২০১৮ সালের দিকে জমির মালিকরা কাজী ফার্ম লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে কাজী ফার্ম প্রায় দুই বছর ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে পুরো জমি উঁচু করে নেয়। তবে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই জমির আগের মালিকের দলিল এবং বর্তমানে কাজী ফার্মের দলিল- দুই জায়গাতেই এটি এখনো ‘কৃষি’ শ্রেণি হিসেবেই আছে।
সরেজমিনে জানা যায়, চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের তলদেশ থেকে বালু তুলে বাহুবলে নির্মাণাধীন কয়েকটি স্থাপনা ও ছয় লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করতে স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা মৎস্যজীবী লীগের নেতা তাজুল ইসলাম একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। হাওরে থাকা তার জমিতে ‘দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য’ বানানোর কথা বলে মাটি কেটে পাড় তৈরির অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তিনি। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান এ বিষয়ে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রতিবেদন দিতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সিন্ডিকেট বাহুবল উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন করায়। প্রতিবেদন পেয়ে কয়েকটি শর্ত দিয়ে জেলা প্রশাসক মাটি কাটার অনুমোদন দেন। বাণিজ্যিক কাজে তাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান স্থানীয় কৃষকরা। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরসহ স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসন তদন্ত করে এর সত্যতা পায় এবং অনুমোদন বাতিল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু তোলা বন্ধ হলেও এখনো ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন সরানো হয়নি।
গত ১৪ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর, হবিগঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, কাজী ফার্ম বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ডিজাইন না দেওয়ায় তাদের পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একই দিন জেলা প্রশাসন অফিসের রাজস্ব শাখায় যোগাযোগ করে জানা গেছে, কাজী ফার্ম বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট প্রজেক্টের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। অফিস সহকারী আব্দুল ওয়াদুদ বিভিন্ন ফাইলপত্র ঘেঁটে ওই কোম্পানির মাধবপুর উপজেলায় কয়েকটি প্রজেক্টের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন পেয়েছেন।
আব্দুল ওয়াদুদ জানান, গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের সমুদ্রফেনা মৌজায় ৫ একর ৭৪ শতক জমি শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ নামে একটি কোম্পানির আবেদন গত ২৩ জানুয়ারি মঞ্জুর হয়েছে। এ ছাড়া ওই কোম্পানি হাওর থেকে দুই-তিন কিলোমিটর দূরে পশ্চিম ম-লকাপন, হায়দরচক মৌজার ৬টি প্রজেক্টের জন্য প্রায় ৬৩ একর জমি কিনেছে। এগুলোর মধ্যে দুই-একটি বাদে বাকিগুলোর শ্রেণি পরিবর্তন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে গড়া না হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য হাওরের দিকেই ধাবিত হয়ে সর্বনাশ ডেকে আনবে।
শিল্পপতি পক্ষের ভাষ্য
জানতে চাইলে কাজী ফার্মের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আছে। গত ৭ আগস্ট মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জিয়াউল হক জানান, বাহুবল স্নানঘাটে তাদের প্রতিষ্ঠানে ডিম উৎপাদন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এখানে লেয়ার মুরগির ডিম ছাড়াও কম্পোস্ট সার উৎপাদন হবে। এসব মুরগি খুবই স্পর্শকাতর। পরিবেশ একটি বড় বিষয়। যদি এখানকার পরিবেশ অনুকূলে থাকে, তাহলে আরও কী কী উৎপাদন করা যাবে তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বায়ুদূষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশে^র নামকরা প্রতিষ্ঠান জার্মানির ‘বিগ ডাচম্যান’-এর সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। ফলে প্রকট দুর্গন্ধ বেরোনোর শঙ্কা খুবই কম। তবে তিনি এও বলেন, সব প্রাণীর শরীরেই গন্ধ থাকে। লাখ লাখ মুরগি যেখানে থাকবে, সেখানে কিছু গন্ধ তো হবেই।
মুরগির বিষ্ঠা সংরক্ষণের ব্যাপারে জিয়াউল হক বলেন, এর গন্ধ বের হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে গন্ধ দূর করা হয়। হাওরের জমি ভরাট করে শিল্প গড়ার আইনি দিক সম্পর্কে প্রশ্ন তুললে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া এ-সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
গত ২৪ আগস্ট বাহুবল উপজেলার আব্দাকামাল এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ম্যানেজার (অ্যাডমিন) হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলার পুটিজুরী, সাতকাপন, স্নানঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় আকিজ গ্রুপের জমি রয়েছে। বর্তমানে আব্দাকামাল এলাকায় প্রায় ৬৫ একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শিল্প স্থাপনের কাজ চলছে। গুঙ্গিয়াজুরী হাওর থেকে দুই কিলোমিটারের মতো দূরে এই ‘শিল্পপার্ক’ নির্মাণের পর হাওরের সমুদ্রফেনা মৌজায় তাদের আরও যে ৫৭৪ শতক জমি রয়েছে, তাতে ফ্লাওয়ার মিল, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শিল্প গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছ থেকে তারা জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন।
‘খুবই অন্যায় হবে’
পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, হাওরে নিচু জমি ভরাট করে যদি শিল্প গড়া হয়, তাহলে পরিবেশের ওপর খুবই অন্যায় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে হাওরের পানি প্রবাহ ও পানি ধরে রাখার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন অবকাঠামো করা যাবে না। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের সময় হাওরের পানি প্রবাহ যাতে সঠিক থাকে, এ জন্য তিনি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডিকে।
তিনি আরও বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে বালু আসার ফলে অধিকাংশ হাওরের বুক বালুমাটি এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। হাওর ও বিলগুলোকে পুনঃখনন করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। এখন সেখানে যদি মাটি ভরাট করে শিল্প গড়া হয়, সেটা কখনোই কাম্য নয়।’
লাক্সারিয়াস জীবন পাওয়ার জন্য এখন মানুষ দিনরাত শুধুই কাজ করে চলেছেন। যার মধ্যে অফিস ডেস্কে বসে কাজ করেন এমন মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেয়ারে বসে ল্যাপটপের সামনে তাকিয়ে থাকা রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক।
শুধু তাই নয়, এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। যারা অফিসে ডেস্কে কাজ করেন তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
সারাদিন যারা ডেস্কে বসে কাজ করেন তাদের অন্যতম অভিযোগও এটি। তারা বলে থাকেন, চেয়ারে বসে কাজ করে মোটা হয়ে যাচ্ছি! তবে এই অজুহাতকে একেবারে সত্য বলার সুযোগ নেই। কারণ ডেস্কে বসে কাজ করেও স্লিম ও ফিট থাকা সম্ভব। এজন্য মেনে চলুন পাঁচটি টিপস।
হাঁটুনফিট ও কর্মক্ষম থাকতে নিয়মিত হাঁটুন। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এমনকি কাজের ফাঁকেও ১০ মিনিটের ব্রেক নিয়ে হেঁটে আসতে পারেন।
সোজা হয়ে বসুনচেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন। মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলোতে অনেক চাপ পড়ে, সেই সঙ্গে চাপ পড়ে মেরুদণ্ডের পাশের মাংসপেশি ও লিগামেন্টের ওপর। কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় মনিটরটি চোখের সমান স্তরে রাখুন। মাউস ব্যবহার করার সময় শুধু আপনার কব্জি নয় পুরো হাত ব্যবহার করুন।
চাপ এড়িয়ে চলুনএটা খুব কঠিন কাজ, চাপমুক্ত থাকা। বিশেষ করে যখন চারপাশ থেকে নানা ধরনের চাপ আসতে থাকে। তবে মানসিক স্থিরতা ধরে রাখুন, নিজেকে মোটিভেট করুন। কোনও চাপই বেশি দিন থাকে না, এগুলো নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে মনোযোগ বাড়ান। এক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে অনলাইনে কিছু যোগা শিখে অভ্যাস করুন।
চোখের যত্নকম্পিউটারে কাজ করার সময় স্ক্রিনে একটানা ১০-১৫ মিনিটের বেশি তাকিয়ে থাকবেন না। নিয়মিত চোখের পাতা ফেলুন। স্ক্রিনে পর্যাপ্ত আলো রাখুন, যেন চোখের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।
হাড়ের যত্ন বসে থাকার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতিও হতে পারে। এজন্য নজর দিতে হবে প্রতিদিনের খাবারে স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে নিয়মিত ডিম, দুধ, দই ও বাদাম রাখুন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোন দেশে ভালো চিকিৎসা হতে পারে তার খোঁজ নিচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসাবে ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জান রল্ফ জানোস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা জার্মানিতে হতে পারে কিনা জানতে চেয়েছেন। জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জানোস্কি বলেছেন, খালেদা জিয়া যে ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সম্ভব জার্মানি তার অন্যতম। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে জার্মানিতে তার সুচিকিৎসা হতে পারে।
এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে আজ বুধবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা শঙ্কাজনক। মঙ্গলবার জানতে চাইলে ঢাকায় জার্মানির সিডিএ জান রল্ফ জানোস্কি বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মিসেস জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার ধরন সম্পর্কে জেনেছি। তার ভালো চিকিৎসা বিশ্বের খুব কম দেশে সম্ভব। জার্মানিতে এসব সমস্যার খুব ভালো চিকিৎসা আছে। সরকারের অনুমোদন পেলে তিনি জার্মানিতে চিকিৎসা নিতে পারেন।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।
৯ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর লিভারের জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিডনির কর্মক্ষমতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ কারণে কয়েকবার তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখন কেবিনে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) লিভার, কিডনি, হার্ট, ফুসফুসসহ সার্বিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে সম্প্রতি দুবার সিসিইউতে নিতে হয়। এখন মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, মেডিকেল বোর্ড মনে করে সর্বসম্মতভাবে তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অতি দ্রুত বিদেশে লিভার প্রতিস্থাপনে সম্মিলিত আধুনিক মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া জরুরি। তাহলেই তিনি শঙ্কা মুক্ত হতে পারেন বলে বোর্ড রিকমেন্ডেশনে বলেছেন।
এর আগে ১৩ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই সময় ৫ দিন পর তিনি বাসায় ফেরেন। গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা শঙ্কাজনক। এ অবস্থায় তাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই সরকার সেসব আমলে না নিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। আগের মতোই লিভারের জটিলতার পাশাপাশি ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে শঙ্কিত তার চিকিৎসকরা। মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার ফুসফুস থেকে পানি বের করা হয়েছে। শরীরে ক্যাথেডর লাগানো হয়েছে। আগে যেখানে দুই-তিন দিন পরপর পানি বের করা হয়েছে, এখন প্রতিদিনই পানি বের করতে হচ্ছে। তার কেবিনে মঙ্গলবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। ওই চিকিৎসক আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি নেই। লিভার সিরোসিসের সঙ্গে কিডনির জটিলতাও বাড়ছে। তার লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া সামনে বিকল্প নেই। এর জন্য খুব দ্রুত উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ পাঠানো দরকার।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই গুরুতর। গত সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। আবেদনটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে অনুমতি দেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে খালেদা জিয়ার একান্ত সহকারী জানিয়েছেন।
পাশাপাশি সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুততম সময়ে তাকে বিদেশে নিতে ভিসা-প্রক্রিয়া শুরু থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় ভিসা করানো যাচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম।
তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের খোঁজখবর নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ থাকলে প্রথমে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নত হলে অন্য দেশে নেওয়া হবে।
সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘আমার বোন হেঁটে জেলে গেলেন। জেলে থাকাবস্থায় অসুস্থ হলে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এরপর করোনার কারণে সরকার তাকে দুটি শর্তে মুক্তি দেয়। তখন থেকেই আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবেদন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার তাকে মুক্তি দেয়নি। বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে না পারায় দিনের পর দিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আমার বোন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সার্বক্ষণিক চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। সরকার অনুমতি দিলে আমরা দ্রুততম সময়ে চেয়ারপারসনকে বিদেশে পাঠাতে পারব।’
জিয়া পরিবারের সদস্যরা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। অনুমতি পাওয়া মাত্র সব ধরনের পদক্ষেপ নেবেন। ইতিমধ্যে ভিসা প্রস্তুতিসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বিদেশে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে যাবেন তার পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। তখন থেকেই তিনি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সেবায় সার্বক্ষণিক থাকছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপি গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আজ (গতকাল শুক্রবার) ম্যাডাম শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে বিকেলে তাকে তৃতীয়বারের মতো কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। রাতে আবার তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ফের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপি গঠিত চিকিৎসক দলের সদস্যরা জানান, খালেদা জিয়া ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে তার চিকিৎসকরা জানান, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দলীয় মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, তাদের সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু করার ছিল, তারা তা করেছেন। পরবর্তী চিকিৎসা যুক্তরাজ্য, জার্মানি অথবা যুক্তরাষ্ট্রে করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবারকে বলেছেন। পরের বছর জুন মাসে খালেদা জিয়ার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটিতে রিং পরানো হয়। এখনো তার হার্টে দুটি ব্লক রয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ম্যাডামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে পরিবারের পাশাপাশি আমরা বিএনপি নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চেয়ারপারসনের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সরকার অনুমতি দিলে দ্রুতই চেয়ারপারসনকে বিদেশে পাঠানো হবে।’
গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে মানুষটি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাকে আজ সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। আমরা আশা করি, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে তার পরিবার যে আবেদন করেছে, তা সরকার বাস্তবায়ন করবে।’
সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ এক দফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হয়েছে। কারণ উনি মুক্ত থাকলে ওনাদের ক্ষমতায় থাকা কঠিন হয়ে যাবে। উনি মুক্ত থাকলে দেশের গণতন্ত্র মুক্ত থাকবে। উনি মুক্ত থাকলে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।’
খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী, সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে। ফলে এখন জেলে যাওয়া বা আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওই ৪০১ ধারাতেই বলা আছে, নির্বাহী আদেশে শর্ত ছাড়াই মুক্তি দেওয়া যায়। এমনকি সরকার সাজা মওকুফও করতে পারে। ফলে সরকারই শর্তহীন মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে।’
গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে দুই-তিন দিন আগে তার ভাই শামীম এস্কান্দার এসেছিলেন। তিনি আবেদন জমা দিলে তা আইনমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে ব্যাখ্যার জন্য।
আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনটি অল্প সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নিতে চায় তার পরিবার। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন জার্মান বিএনপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে থাকা বিএনপি নেতারা।
তারা গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে আনার কথা শুনছেন। খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা দরকার তার আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা জার্মানিতে রয়েছে। তারাও অপেক্ষা করছেন যদি চেয়ারপারসনকে জার্মানিতে আনা হয় তাহলে তার জন্য কিছু করার সুযোগ পাবেন ওই নেতারা।
খালেদা জিয়াকে জার্মানিতে নেওয়ার বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জান রল্ফ জানোস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জানোস্কি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া যে ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা বিশে^র যে কয়েকটি দেশে সম্ভব, জার্মানি তার অন্যতম। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে জার্মানিতে তার সুচিকিৎসা হতে পারে।’
গত ৯ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও অবশ্য খালেদা জিয়াকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ফুসফুস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া তার মেরুদ-, হাত ও হাঁটুতে বাতের সমস্যাসহ আরও কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সাজা হয়। সেদিন থেকে প্রায় দুই বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আরও সাত বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনা মহামারির শুরুতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে তার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস করে বাড়ানো হচ্ছে।