নিজেকে আর সন্দেহ করেন না লিটন!|110420|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৩৭
নিজেকে আর সন্দেহ করেন না লিটন!
ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিজেকে আর সন্দেহ করেন না লিটন!

দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে লিটন দাস। মাথার উপর সূর্য নিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিয়াস একটা পরিবেশ। ওদিকে ড্রেসিং রুমের সামনের ছোট্ট গাছের আড়াল থেকে এটা-ওটা করে আবার আড়াল হন একজন। প্রথমে বোঝা যায় না এমন গুরুতর আবহে হালকা আমেজ এনে দিচ্ছেন কে! তবে অনুমান করা যায় ঠিক। সাফল্যের আমোদ করতে করতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসলে দেখা যায় অবশ্যই তিনি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা!

বাংলাদেশ অধিনায়ক গিয়ে দলের অন্যদের সাথে ছোটাছুটিতে মন দেন। এদিকে লিটনের সাক্ষাৎকার পর্ব এগোতে থাকে। আর এই লিটনকে আগের লিটনের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভার লাগে। কারণও আছে ঢের। ওই যে এশিয়া কাপের ফাইনালে ১২১ রানের ইনিংস খেলে এসেছেন ভারতের বিপক্ষে। আগে ব্যাট করা দলের ২২২ রানের অর্ধেকের বেশি তার। ভারত শিরোপা নিলেও ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফিটা দুবাই থেকে এনেছেন লিটন। এরপর ফিরেই জাতীয় লিগে খেলা প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেই ২০৩। নাহ! ওটাই তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি নয়, এমনকি সেরা ফার্স্ট ক্লাস ইনিংসও না। আছে ট্রিপল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপঝরা ২৭৪।

জিম্বাবুয়ে দল টাইগারদের সাথে সিরিজ খেলতে এদিন সকালেই পা রেখেছে ঢাকায়। মিরপুরে তারা ছিল না। কিন্তু ওখানেই ১২১ এবং ২০৩ এর গল্প ধরে স্বাগতিক ওপেনার লিটনের কণ্ঠে স্বস্তি ও বিশ্বাসের প্রবল প্রকাশ। তবে অতোটাও নয় যতোটা প্রকাশ পেলে আত্মবিশ্বাসের বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে।

লিটনের প্রকাশে সংযম, ‌‌‘আমি বলবো না যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগের থেকে একটু চাপমুক্ত অবস্থায় আছি, এটা বলতে পারেন। আর নিজের প্রতি একটু বিশ্বাস এসেছে। যখন ভালো কিছু করে কেউ, তখন নিজের ভেতর এই জিনিসটা আসে।’

‘একটু বিশ্বাস’! লিটন তো বলবেনই। ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান যে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এর মধ্যে দেখে ফেলেছেন। এখন চলছে তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস। বয়সভিত্তিক দলে ছিলেন ধারাবাহিক। ঘরোয়া ক্রিকেটেও। কিন্তু প্রচণ্ড সম্ভাবনা আর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালে জাতীয় দলে ঢুকে ছয় মাসও টিকতে পারেননি। তারপর লড়াই ফেরার। দুই বছর পর গেল বছরের শেষে ফিরলেও পারফরম্যান্স জমাট বাঁধছিল না। ১৮ ওয়ানডের পর তাই এখনো তার গড় ২০ এর ঘরেই। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি যতোই আলো ছড়াক তাতে আন্তর্জাতিক পারফর্মার হয়ে গেছেন তা তো লিটনের নিজেরও ভেবে বসার উপায় নেই।

ভাবছেনও না। তবে শেষ ডাবল সেঞ্চুরির চেয়ে ১২১ কে এগিয়ে রেখে বলছেন, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ববহ। আপনারাও ভালো জানেন- আমি অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফর্ম করাটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সাথে আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।’

একটা ইনিংসকে তাই জীবন বদলে দেয়া, নিজেকে বদলে ফেলা বলতে নারাজ। তবে স্বীকার করছেন, মাথা থেকে চাপটা সরে গেছে, ‘ক্রিকেট তো সম্পূর্ণ মানসিকতার খেলা। মানুষ বলে, মন যত পরিষ্কার থাকবে, তত ভালো খেলবেন। যেহেতু পারফর্ম করিনি (আগে), তখন মনে নিজের সামর্থ্য নিয়ে একটু প্রশ্ন থাকেই। আর পারফর্ম করার পর মানসিকভাবে একটু চাপমুক্ত হওয়া যায়।’ যেটা প্রকাশ করলেন না তা হলো, নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো সন্দিহান হয়ে উঠলেও এখন আর সেই সন্দেহটা নেই তার।

চাপমুক্ত লিটন ওপেনার। কিন্তু ওপেনার হিসেবে ব্যর্থ হচ্ছিলেন বলে জাতীয় দলে পজিশনও বদলাতে হয়েছিল। ঘটনাচক্রে এখন তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পারফর্মার ওপেনার হিসেবে তারই বেশি দায়িত্ব নেয়ার দায়। সে কথা শুনে লিটন হাসেন, ‘আমিও যে দলে নিয়মিত ছিলাম, তাও না। তামিম ভাই ছিলেন নিয়মিত। তার সাথে সাথে সবাই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। আমার নিয়মিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।’

কথা দিয়েও নিজের ওপর থেকে সম্ভাব্য চাপ ঝেড়ে ফেলেন যেন লিটন, ‘আমার সাথে যে সঙ্গী হবে, সেও নতুন হবে, আমিও নতুন। হ্যাঁ, আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে একটু ভালো জায়গায় আছি হয়তো। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, প্রতিটা ম্যাচ নির্ভর করে সেই দিনের ওপরে। হতে পারে পরের ম্যাচে আমি শূন্যও করতে পারি। সেই আকাশ ছোঁয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোনো লাভ নেই।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কতোটা আলাদা? লিটন আগের চেয়ে যতোটা এখন তারও চেয়ে বেশি কি নয়? এই প্রশ্ন করলে লিটনের জবাব সম্ভবত ‘হ্যাঁ’ই হতো।