সকাল-সন্ধ্যায় চেহারায় এত পরিবর্তন!|110475|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৯:৫২
সকাল-সন্ধ্যায় চেহারায় এত পরিবর্তন!
অনলাইন ডেস্ক

সকাল-সন্ধ্যায় চেহারায় এত পরিবর্তন!

আগান্তুকদের নিয়ে অন্যরকম কৌতূহল বারবারা ইভাঁসের। তাদের চিন্তা, আনন্দ-বেদনার মুহূর্তটুকু দেখে বিস্ময় চেপে রাখতে পারতেন না তিনি। বিষয়টি জানতে তার অধীর আগ্রহ। উপায় হিসেবে বেছে নেন ছবি তুলে রাখা। যেই ভাবা সেই কাজ- ‘আমার চলার পথে’ শিরোনামে ছবি তোলার কাজে নেমে যান বারবারা।

বারবারা তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখনই আগন্তুকদের নিয়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকতাম।’

‘যখন আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করি, লাইনে দাড়িয়ে থাকি, আমার চোখ কোনো এক ব্যক্তির প্রতি নিবিষ্ট থাকে। ঠিক ওই মুহূর্তে সে কী ভাবছে, কী করছে, তার ভয় এবং উচ্ছ্বাসটা কী তা নিয়ে আমি বিস্ময় লুকিয়ে রাখতে পারতাম না’ যোগ করেন তিনি।

বারবারা বলেন, ‘সাত বছর আগে আমি এই ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেই। কিছু মানুষের ছবি তুলে রাখবো বলে স্থির করি। আমি ৫০এমএম লেন্সের একটি ক্যামেরা কিনে নেই এবং তাদের ছবি তোলার অনুরোধ করি।’

প্রায় ৩০০ ছবি তোলার পর বারবারা সিদ্ধান্ত নেন, এই ৩০০ জনের মধ্যে ৩০ জনের ছবি পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিবছর তুলবেন। আর প্রত্যেকবার সেটা হবে আলাদা আলাদা আঙ্গিকে।

চতুর্থ বছরে গিয়ে বারাবারা সিদ্ধান্ত নেন, সকাল ৭টায় ঘুম থেকে ওঠার পর আর সন্ধ্যা ৭টায় ঘুমাতে যাওয়া মানুষের ছবি তুলবেন তিনি। কারণ, এই দুটি সময়ে তাদের চেহারায় আলাদা অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে।

তার মতে, ‘আমি মনে করি- দিনের একমাত্র মুহূর্তটি হলো কেউ যখন সকালে ঘুম থেকে ওঠে প্রথম চোখ খোলে, তখন তার ওপর আলাদা কোনো কিছুর ছাপ থাকে না।’

তাই বারবারা ওই মুহূর্তের ছবি তোলার জন্য তার নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিজের বাসায় আমন্ত্রণ করতেন। অথবা নিজেই ওইসব ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে হাজির হতেন।

এভাবে তিনি সকাল ৭টা আর সন্ধ্যা ৭টায় ছবি তুলতেন। অনেক সময় নিজে গিয়েই যাদের ছবি তুলবেন, তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। আর একাজে বারবারা অনেকটা পটু হয়ে যান।

‘আমি সবসময় ওই মুহূর্তটাকে সমীহ করি, যখন স্বপ্নের ঘোর থেকে আমরা চৈতন্যে ফিরে পেতে থাকি। ঠিক সেই মুহূর্তটা যখন পৃথিবী আমাদের কোনো ব্যাথা দেয়নি’ যোগ করেন বারবারা।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভাবতাম- যখন কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠে তার ওই মুহূর্তটি আমি ২০ মিনিট ধরে ক্যামেরায় ধারণ করবো। কিন্তু চোখের ওই অবচেতন চাহনি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হারিয়ে যায়।’