সংলাপ ব্যর্থ নয়, ডায়ালগ শেষ: কাদের|110543|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:১০
সংলাপ ব্যর্থ নয়, ডায়ালগ শেষ: কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংলাপ ব্যর্থ নয়, ডায়ালগ শেষ: কাদের

সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার দুপুরে গণভবনে বিএনপিপ্রধান জোটটির সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সংলাপ ব্যর্থ বলে আমি মনে করি না। আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, আলোচনায় কোনো ধরনের আনপ্লিজেন্ট কিছু ঘটেনি। এটা একটা ইতিবাচক অগ্রগতি। নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে, এরমধ্যে আলোচনাও চলবে। তবে ডায়ালগ শেষ।”

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় সংলাপে সরকারপক্ষে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জন অংশ নেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ ১০ জন। 

বৈঠকের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচন পিছিয়ে দিতে গিয়ে কোনো অপশক্তিকে ফাঁকফোকর দিয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ দিবেন না।

“যেটা আমাদের সবার জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।”

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নেত্রী তাদের অনুরোধ করে বলেন, আপনারা নির্বাচনে আসেন। আমি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দিবো আমি যা বলেছি সেটাই সঠিক। আমি আমার দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক অভিসন্ধি নিয়ে কাজ করি না। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা থাকবো। আপনাদের দিলে আপনারা জিতবেন। নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি, জালিয়াতি হবে না। একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।”

কাদের বলেন, “তাদের সাত দফার বেশিরভাগই মেনে নিতে আমাদের নেত্রী সম্মত। কিন্তু তারা এমন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, এটাকে পরবর্তী ৯০ দিনে (সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে) নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একে দেখছেন নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার বাহনা হিসেবে। তিনি মনে করছেন, এর মাধ্যমে ফাঁকফোকর দেয়া হচ্ছে, যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ১/১১ এর মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।

কাদের বলেন, “তারপরও আমাদের নেত্রী আগামীকালকের সংবাদ সম্মেলনে আমাদের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচনে আসবেন- এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এমনকি বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বলেছেন, আপনারা আসুন, আমি একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশে দিবো। এ ব্যাপারে সহযোগিতা করুন। নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে গিয়ে কোনো অপশক্তিকে ফাঁকফোকর দিয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ দিবেন না। যেটা আপনাদের জন্যও ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, আমাদের সবার জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানের বিধান মতে আগামী ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু তারা চাচ্ছেন সংসদ ভেঙ্গে ২৮ জানুয়ারির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে। তিনি জানান, নির্বাচনে সব দলের সহবস্থান, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি মেনে তাদের কোনো আপত্তি নাই।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার (বিচারিক ক্ষমতা) দেওয়ার নিয়ম আমাদের দেশ কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। তবে সেনা মোতায়েন হতে পারে। তারা যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সহযোগিতা করবে।

এসময় তিনি ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, তারা পদযাত্রা করবে, রোডমার্চ করবে- এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এগুলোকে আমরা অগণতান্ত্রিক ভাবি না। কিন্তু পদযাত্রা ও রোডমার্চে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলে আমরা চুপ থাকবো না।

সাংবাদিকরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালত যদি তাকে জামিনে মুক্তি দেয়, আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।