কী বার্তা দিচ্ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল|110552|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৮
কী বার্তা দিচ্ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল
নিজস্ব প্রতিবেদক

কী বার্তা দিচ্ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আশান্বিতভাবেই বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। ২০১০ সালের পর এই প্রথম প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল তারা। তবে সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে সিএনএন ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল ডেমোক্রেটদের পক্ষে যাবে আগে থেকে ধারণা করছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে তাদের এ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এখনই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে না পারলেও দুই বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মোকাবেলায় এগিয়ে গেল ডেমোক্রেটটা এমনটা বলাই যায়।

ফলাফল শেষে এ নির্বাচনকে ঘিরে বিবিসি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে এনেছে-

এক. আগে থেকে ধারণা করা হচ্ছিল এবারের নির্বাচনে নারী নেতৃত্বের বড় ধরনের উত্থান ঘটবে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো।  কংগ্রেস প্রতিনিধি হিসেবে এবারে রেকর্ড সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে অনেকেই একবারেই নতুন। বর্তমানে ১০৭ জনের নারী কংগ্রেসম্যানকেও ছাড়িয়ে গেছেন তারা। এবারেই প্রথমবারের মতো দুই মুসলিম নারী নির্বাচিত হয়েছেন, সবচেয়ে কম বয়সী নারী হিসেবে কংগ্রেসম্যান হয়েছেন নিউইয়র্কের ২৯ বছর বয়সী আলেকজেন্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ। প্রথমবারের মতো আদিবাসী নারী নির্বাচিত হয়েছেন দুজন- নিউ মেক্সিকোর দেবারা হালান্দ, ক্যানসাসের শ্যারিক ডেভিডস।   প্রথম কোনো সমকামী গভর্নর হিসেবে কোলরাডোয় নির্বাচিত হয়েছেন জ্যারেড পোলিস।

দুই. এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোরালোভাবে ফিরে আসলো ডেমোক্রেটরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘ব্লু ওয়েব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইতোমধ্যে। সিনেটে না হলেও প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল তারা। কিন্তু সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানতে হবে এবং তার প্রশাসনের অধীনে কাজ করতে হবে। তবে এখন কোনো ধরনের আইন প্রণয়নে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে রুখে দিতে পারবে তারা। সেইসঙ্গে হোয়াইট হাউজের অনেক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কামড় বসাতে পারবে ডেমোক্রেটরা।

তিন. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি খুশি। রিপাবলিকদের ফলাফলকে উদযাপন করার মতোই মনে করছেন তিনি। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে তাকে আগের থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। সেইসঙ্গে পরিষদে কোনো ধরনের আইন পাস করতে গিয়ে বাধা প্রাপ্ত হবেন।

মঙ্গলবারের রাত ছিল রিপাবলিকানদের জন্য মিশ্র অনুভূতির। প্রতিনিধি পরিষদে হারলেও সিনেটে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। পরিষদ এখন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে। ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন চাইতে পারবে এমনকি তাকে অভিসংশন করতেও পারবে।

ক্ষমতার প্রথম দুই বছর দুই পরিষদেই রিপাবলিকানদের আধিপত্য ছিল, যার কারণে সহজেই যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন ট্রাম্প। কিন্তু সামনের দুই বছর এটি কঠিন হয়ে গেল দলটির জন্য। যে কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে ট্রাম্প এখন হোঁচট খাবেন, যার ফলে তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও প্রতিপক্ষের প্রতি আক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

চার. এ নির্বাচনে শহর এলাকার বাইরে ভোট হারিয়েছে রিপাবলিকানরা যা হয়তো ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাদের জন্য। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের কিছু ভোট ব্যাংকে ডেমোক্রেটরা হানা দিয়েছে এবার। যেমন রিচমন্ড এতদিন রিপাবলিকানদের হাতে থাকলে সেটি চলে গেছে ডেমোক্রেটদের দখলে। একইভাবে ভার্জিনিয়ার কয়েকটি এলাকাও হাতছাড়া হয়েছে রিপাবলিকানদের। ওয়াশিংটনের বাইরে সপ্তম ও দশম জেলাও ডেমোক্রেটদের দখলে এখন। ২০১৬ সালে এমন অনেক জায়গায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়লেও দুই বছর এসে কমতে শুরু করেছে। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন এটিই বড় চ্যালেঞ্জ রিপাবলিকানদের।

পাঁচ. গভর্নরদের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও কিছু দুঃসংবাদ ঠিকই আছে সেখানে, যা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের নানা অভিযোগ তোলা হলেও সেখানে ঠিক জয় পেয়েছেন তার গভর্নররা। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ আইওয়া ও ওহাইয়োতেও জয় পেয়েছে তারা। তবে ইলিনয় স্টেট ও শিকাগোর নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান গভর্নরের কাছ থেকে এখন ডেমোক্রেটদের হাতে চলে গেছে। তবে কানসাসের ফলাফলে ট্রাম্পের সহযোগী ক্রিস কোবাচ কাছাকাছিও দাঁড়াতে পারেননি।