চমকের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি|110674|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩০
লোকসংগীত উৎসব ২০১৮
চমকের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি
মাসিদ রণ

চমকের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি

ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসবে শাফকাত আমানত আলী। ছবি: নূর

পাকিস্তান ও বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাফকাত আমানত আলীর চমকভরা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৮’। তার কণ্ঠে বাংলা গান সবাইকে চমৎকৃত করেছে। পরিবেশনার মধ্যেই দর্শক সারি থেকে কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহাকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে দ্বৈত গান করেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় মঞ্চে উঠেন শাফকাত। একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় গানের সুরের জাদু ছড়িয়ে মুগ্ধ করেন। প্রথমেই গেয়েছেন সুফি ঘরানার ‘মাওলা তেরা নূর’। এরপর বাংলায় বললেন, ‘কেমন আছো ঢাকা? ভালো আছো?’ সবাইকে চমকে দিয়ে গাইলেন আমজাদ হোসেনের লেখা ‘কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিল না’।

এক পর্যায়ে দর্শক সারিতে নেমে আসেন। শ্রোতাদেরও গান গাইয়ে ছাড়েন। হাত মেলান, কোলাকুলি করেন। টানা এক ঘণ্টা সুরের সাগরে ভাসান শাফকাত। তার প্লে লিস্টে আরও ছিল আঁখোকে সাগর, আজ জানে কি জিদ না করো, বিন তেরে, ফিরলে আয়া এ মাজবুর, মোরা সাইয়া মোছে বোল না, আল্লাহ রুঠে না’সহ বেশকিছু গান।

পাকিস্তানের ওস্তাদ আমানাত আলী খানের ছেলে শাফকাত আমানাত আলী। পাতিয়ালা ঘরানার নবম বংশধর তিনি। চার বছর বয়সে শুরু করেন হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সংগীতের তালিম। শাফকাতের গায়কীতে বাবা আমানত আলীর পাশাপাশি চাচা ওস্তাদ ফাতেহ আলী খানের প্রভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে রোশনারা বেগমের গায়কী থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকেন। ধ্রুপদী সংগীতে পারদর্শী শাফকাত আমানাত আলী সুফি ও পাকিস্তানের লোকসংগীতের জন্য বিশ্বের সংগীতমহলে বেশ সমাদৃত।

শেষ দিনে আরও চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক শায়ান চৌধুরী অর্ণব। রাত ৯টায় মঞ্চে উঠেই অর্ণব কণ্ঠে ধরেন, ‘সোনা দিয়া বান্ধিয়াছি ঘর ও মন রে ঘুণে করল জর’। তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন শ্রোতারা। এরপরই গাইলেন ফকির লালনের ‘কে বোঝে মওলার আলেকবাজি’। মনপুরা সিনেমায় ব্যবহৃত ‘সোনার ময়না পাখি’ গানটি অন্যরকম মুগ্ধতা এনে দেয়।

অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের পরিবেশনায় লাবিব কামাল গৌরব পরিবেশন করেন লালনের ‘মন হইলো নৈরাশি’। ‘ভাব তরঙ্গে এসো আমার সঙ্গে’ শোনালেন বেবি। এবার অর্ণব গাইতে শুরু করলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’। সবশেষে সবাইকে চমকে দিয়ে ধরলেন জসীম উদ্দিনের লেখা ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’। স্টেডিয়াম ভরা দর্শকের কণ্ঠ মিলে যায় অর্ণবের সঙ্গে।

উৎসবের শেষ দিন আরও গান শোনান বাংলাদেশের বাউল কবির শাহ, ব্যান্ড দল নকশীকাঁথা ও স্পেনের দল লাস মিগাস।