ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান লিড নেওয়ার সুবিধা|110730|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪০
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান লিড নেওয়ার সুবিধা
অনলাইন ডেস্ক

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান লিড নেওয়ার সুবিধা

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিপদেই ফেলে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান ও সাকিব আল হাসান। তাদের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান হতে বসেছে লিড নেওয়ার এই সুবিধা।

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৫৫। মুশফিকুর রহিম ১১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ০ রানে অপরাজিত আছেন।

আগের দিন করা আট উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুক্রবার আর ৯ রান যোগ করতেই প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল। ৩২৪ রানের জবাবে ক্যারিবীয়রা অলআউট হয় ২৪৬ রানে।

দলীয় ২৯ রানে অতিথিদের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল। তার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ১৪ রান করা কাইরন পাওয়েল। তার বিদায়ে খেই হারায় বাকিরা।

দলের স্কোরে আর এক রান জমা পড়তেই বিদায় নেন তিন নম্বরে নামা শাই হোপ। সাকিব আল হাসানকে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি এই ব্যাটার। দলীয় ৩১ রানে আউট অপর ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ১৩ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেন উইন্ডিজ অধিনায়ক।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে উইকেট পতনে কিছুটা হলেও লাগাম টানেন সুনিল আমব্রিস ও রোস্টন চেইস। ৪৬ রানের জুটিকে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে দেননি অফ স্পিনার নাঈম হাসান। লেগ স্টাম্পের বল খেলতে গিয়ে শর্ট লেগে ইমরুল কায়েসের হাতে ধরা পড়েন ৪৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ৩১ রান করা চেইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন চার উইকেটে ৭৭। দলীয় ৮৮ রানে নাঈমের বলে আমব্রিস এলবিডব্লিউর শিকার হলে শুরুর পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে তারা।

ষষ্ঠ উইকেটে বিপর্যয় অনেকটা কাটিয়ে ওঠে অতিথিরা। শেন ডাওরিচের সঙ্গে জুটি বেঁধে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালাতে থাকেন ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা শিমরন হেটমায়ার। এই জুটিতে আসে মূল্যবান ৯২ রান। তাতে ফাটল ধরান মিরাজ। ফেরান বিপজ্জনক হয়ে ওঠা হেটমায়ারকে। কট বিহাইন্ড হওয়া হেডমায়ার ৪৭ বলে পাঁচ চার ও চার ছক্কায় করেন ৬৩ রান!  

ডাওরিচ উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারেনি বাকিরা। দলীয় ১৯৯ রানে দেবেন্দ্র বিশু (৭) নাঈমের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হলে সপ্তম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাকি তিন উইকেটের পতন ৪৭ রানে। ৬৩ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ডাওরিচ। ১০১ বলে খেলা তার ইনিংসটিতে দুটি চার ও তিনটি ছক্কার মার রয়েছে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪ ওভারে ৬১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন নাঈম। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে (১৭ বছর, ৩৫৬ দিন) এমন কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ নেওয়া দেশের অষ্টম বোলার নাঈম। অন্যদের মধ্যে সাকিব ৪৩ রানে নেন তিন উইকেট। একটি করে উইকেট নেন মিরাজ ও তাইজুল।

তৃপ্তি নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে যেন অচেনা বাংলাদেশ। তালগোল পাকানো ব্যাটিংয়ে তারা এখন ধুঁকছে। ৫৫ রান করতেই নেই শুরুর পাঁচ উইকেট। ২০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি এদের কেউই। দুই স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ও চেইসের বলে ইনিংসের শুরুতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে স্বাগতিক দল।

বরাবরের মতো ব্যর্থ ইমরুল। প্রথম ইনিংসে শূন্য করা এবার করেছেন ১১; সেঞ্চুরি হাঁকানো মমিনুল এবার করেন ১২ রান। কিছুটা থিতু হয়ে ফেরেন মোহাম্মদ মিথুন (১৭)। এক রান করে উইকেট ছুড়ে আসেন অধিনায়ক সাকিব।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (প্রথম দিন শেষে ৩১৫/৮) ৯২.৪ ওভারে ৩২৪ (নাঈম ২৬, তাইজুল ৩৯*, মুস্তাফিজ ০; রোচ ১৭-২-৬৩-১, গ্যাব্রিয়েল ২০-৩-৭০-৪, চেইস ১১-০-৪২-০, ওয়ারিক্যান ২১.৪-৬-৬২-৪, বিশু ১৫-০-৬০-১, ব্র্যাথওয়েট ৮-১-১৯-০)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৬৪ ওভারে ২৪৬ (ব্র্যাথওয়েট ১৩, পাওয়েল ১৪, হোপ ১, আমব্রিস ১৯, চেইস ৩১, হেটমায়ার ৬৩, ডাওরিচ ৬৩*, বিশু ৭, রোচ ২, ওয়ারিক্যান ১২, গ্যাব্রিয়েল ৬; মুস্তাফিজ ২-১-৪-০, মিরাজ ১৫-০-৬৭-১, তাইজুল ২০-৩-৫১-১, সাকিব ১১-১-৪৩-৩, নাঈম ১৪-২-৬১-৫, মাহমুদউল্লাহ ২-০৭-০)

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৭ ওভারে ৫৫/৫ (ইমরুল ২, সৌম্য ১১, মুমিনুল ১২, মিঠুন ১৭, সাকিব ১, মুশফিক ১১*, মিরাজ ০*; রোচ ১-০-১১-০, ওয়ারিক্যান ৮-০-২২-২, চেইস ৫-১-১৬-২, বিশু ৩-০-৫-১)