ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়|110737|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:৫১
ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়
অনলাইন ডেস্ক

ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়

ধীরে ধীরে মসুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট

অন্ধকার পেছনে ফেলে আবার আলোর পথে হাঁটছে ইরাকের মসুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দুই বছরের বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস। চলতি বছরের প্রথম দিকে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের হটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি মুক্ত করে ইরাকি বাহিনী।

মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ রিয়াদ আল আল্লাফ জানান, যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও ধ্বংসের স্মৃতিচিহ্ন এখনো পুরোপুরি মুছে না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে আবার সংযুক্ত হচ্ছে। ইয়াজিদি শিক্ষার্থীরা আবার আসতে শুরু করেছে।

এছাড়াও যুক্তরাজ্যের ল্যাঞ্চেস্টার ইউনিভার্সিটি ইরাকের সহকর্মীদের সাথে একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানে একটি প্রকল্প চালু করেছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারটি পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে রেখে গিয়েছিল আইএস। প্রধান প্রশাসনিক ভবনটিকেও ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে যায় তারা। আশরাফ রিয়াদ বলেন, মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি ছিল।

এদিকে সেন্ট অ্যান্ড্রুস ইউনিভার্সিটিও এই সপ্তাহে ‘লাইব্রেরি ফাইনস ডোনেশন ডে’ প্রজেক্ট চালু করেছে। এ থেকে পাওয়া বইগুলো ‘বুক এইড ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে চলে যাবে মসুলে। ইতোমধ্যেই কর্মসূচির আওতায় এবছর তিন হাজারের বেশি বই মসুলে পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তিতে আরো বই ও অর্থ সাহায্য পাঠানো হবে। স্কটল্যান্ডের একাডেমিকদের উদ্যোগে ‘দ্যা মসুল বুক ব্রিজ’ নামে আরেকটি কর্মসূচির আওতায় শুরু হয়েছে মসুলের লাইব্রেরি পুনর্নির্মাণ ও সেই লাইব্রেরিতে ১০ লাখ বই পাঠানোর কাজ।

ফলে কিছুটা সময় নিয়ে হলেও ধীরে ধীরে মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিতে প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে, জানান সিনিয়র লেকচারার আশরাফ রিয়াদ।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ইয়াজিদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসাটা খুবই ইতিবাচক মনে হচ্ছে। তাদের আগমনকে অভিবাদন জানাই।

আবার ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট

তবে আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, এমন আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গীরা দখলে নিয়েছিল। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সন্ত্রাসবাদের পক্ষে যায় এমন মতবাদ সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক জানান, আইএস অনেক বই ও সাহিত্য পুড়িয়ে ফেলে তাদের মতাদর্শ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। হুমকির মুখে গুপ্তচরবৃত্তিতে বাধ্য করে অনেককে।

ভয়াবহ সেই সময়ের বর্ণনায় তিনি আরো বলেন, মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা আইসএসের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল। না হলে প্রাণ হারানোর ভয় ছিল সবার।

ডক্টর আল আলআফ বলেন, মাসুলে দ্বন্দ্ব নিরসন হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অবকাঠামোগত মেরামত প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। বাইরে থেকে দেখে যদিও মনে হয় বেশ মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু এর ভেতরের অবস্থা খুবই করুণ।

ল্যাঞ্চেস্টার কর্তৃপক্ষ মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দিচ্ছে। এছাড়া পিএচডি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও বিনামূল্যে অনলাইন সেবা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

ল্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এলেনা সেমিনো বলেন, “মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এমন অবস্থায় কাজ করছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।”

তিনি বলেন, “মসুলের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা খুবই উদ্যমী। শেখার ব্যাপারে উৎসাহী। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সবটুকু চেষ্টা করব। এটা তারা জানে যে আমরা তাদের জন্য কাজ করছি।”

এবছর ইরাকের বাগদাদ ইউনিভার্সিটি বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের প্রথম দিকে অবস্থান করছিল। ইরাকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণটি সে কারণেই জরুরি।

এজন্য বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও নানাবিধ সহযোগিতা দরকার বলে মনে করেন ডক্টর আলআফ। তিনি বলেন, “মসুল বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে।”