চাকরির সাক্ষাৎকারে ৬টি কৌশলী প্রশ্ন|110764|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:০১
চাকরির সাক্ষাৎকারে ৬টি কৌশলী প্রশ্ন
অনলাইন ডেস্ক

চাকরির সাক্ষাৎকারে ৬টি কৌশলী প্রশ্ন

সুন্দর একটি জীবনবৃত্তান্তে চাকরিপ্রার্থীর অনেক দক্ষতা, গুণাবলী দেখেই সাক্ষাৎকার পর্বে ডাক পান। দক্ষতার সঙ্গে এই পর্ব সামাল দেওয়ার মাধ্যমেই পেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি। এ পর্বে কিছু কৌশলগত প্রশ্ন করা হয়, যেগুলোর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ আপনার সামাজিক দক্ষতা আর প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি পরীক্ষা করে দেখেন। এজন্য সাক্ষাৎকারগ্রহীতা কিছু কৌশলী প্রশ্ন করে থাকেন।

কীভাবে সুন্দরভাবে এসব প্রশ্ন সামাল দেবেন তার কিছু টিপস তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. সর্বশেষ আপনার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে মনোমালিন্য বিষয়ে বলুন-  এ ধরনের প্রশ্নে সতর্ক থাকুন। এটা আপনার ব্যবস্থাপকের সম্পর্কে কটূক্তি করার সময় নয়। তাদের যেসব বিষয় আপনি অপছন্দ করেন সেগুলো একটা তালিকা করুন। বসের সঙ্গে আপনার মতের অমিল হলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন সেটাই জানতে চায় সাক্ষাৎকারগ্রহীতা এবং এটা কীভাবে আপনার কাজে প্রভাব ফেলে।

২. কর্মক্ষেত্রে কোনো একটি প্রজেক্ট বা কাজ যেটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন- মাথায় রাখবেন, ব্যর্থতার জন্য টিম বা বসকে দোষারোপ করা শুরু করবেন না। এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেও কিছুটা দায় নিন। যখন কোনো কাজে আশানুরুপ সফল হয় না, তখন টিমের প্রতি কী ধরনের আচরণ করতে পারেন সেটাই দেখতে চান সাক্ষাৎকারগ্রহীতা।

৩. নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন- প্রতিষ্ঠান আপনার ব্যক্তিগত জীবন, স্বপ্ন বা ভ্রমণ পরিকল্পনারে বিষয়ে আগ্রহী নন। আপনার পেশাগত তথ্য গুরুত্বসহকারে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত বিষয় শেষে সংক্ষেপে বলে শেষ করুন। অর্জন, কেন আপনি কাজকে ভালোবাসেন, কাজের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরবেন তবে অবশ্যই এক মিনিটের বেশি সময় নেবেন না। নিজেকে স্মার্টভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমেই সাক্ষাৎকারগ্রহীতা বোঝাতে হবে যে আপনিই সেরা প্রার্থী।

৪. আপনার প্রত্যাশিত বেতন কত- এটা সম্ভবত কৌশলী প্রশ্ন। অবশ্যই আপনি ভালো বেতন প্রত্যাশা করবেন। তবে এমন কোনো কিছু বলবেন না যাতে আপনাকে লোভী মনে না করে। এ ক্ষেত্রে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ তাৎক্ষণিক বলার চেষ্টা করবেন না। এক্ষেত্রে টাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আপনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য যোগ্য সেটা তাদের বোঝাতে হবে। সাক্ষাৎকার শেষে বেতন নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করুন।

৫. আপনার বর্তমান কর্মক্ষেত্র কেন ছাড়তে চাচ্ছেন- প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করুন, শেখার সুযোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ, পদোন্নতির বিষয়গুলো কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তুলে ধরুন। বর্তমান কর্মস্থলের প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করুন এবং আপনি যে প্রতিষ্ঠানের একজন পরিশ্রমী এবং পেশাদার সেটা যেন আপনার কথায় ফুটে উঠে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৬. আপনি কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান- আপনি আপনার বাড়ির কাজ কীভাবে সম্পন্ন করেন এবং এই চাকরিতে কেমন মনোযোগী সেটাই জানতে চান সাক্ষাৎকারগ্রহীতা। গুগলে সার্চ দিয়ে কোম্পানি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন। প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক রিপোর্ট কী নির্দেশ করে, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, সেরা প্রজেক্ট কোনটি জেনে রাখুন। আপনার উত্তর অবশ্যই আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির হতে হবে এবং কীভাবে আপনি এর সঙ্গে যুক্ত হবেন এগুলো তুলে ধরতে হবে।