‘আমি দহনের হিরো নই’|110817|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪১
‘আমি দহনের হিরো নই’
মাসিদ রণ

‘আমি দহনের হিরো নই’

‘দহন’ চলচ্চিত্রে তুলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। ছবি: দেশ রূপান্তর

“খুব খুশি মনে বলতে চাই- দহনে আমি হিরো নই। আমি এই গল্পের ভিলেন।” কথাগুলো সিয়াম আহমেদের। টিভিপর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেতার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘দহন’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার। রায়হান রাফির পরিচালনায় আবারও তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি। সম্প্রতি দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে সিয়াম জানালেন ‘দহন’ ও সিনেমা ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে

পোড়ামন ২-এর সাফল্য কি আপনাকে বদলে দিয়েছে?
অবশ্যই বদলে দিয়েছে। কারণ এতোদিন দর্শক আমার কাজগুলো টিভি বা ইউটিউবে দেখেছে। তার জন্য খুব বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়নি তাদের। কিন্তু এখন আমি চলচ্চিত্রে কাজ করছি। আর তা দেখার জন্য দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে যেতে হচ্ছে। টাকা খরচ করে ছবি দেখছেন। যখন আপনাকে কেউ টাকা খরচ করে দেখতে আসে, তখন আপনি চাইবেন নিজের বেস্ট কাজটি তাদের উপহার দিতে।

আমাদের দেশের ছবিতে আর্ট এন্ড কমার্সের মিশেল খুবই কম হয়। সেদিক থেকে আমার প্রথম ছবি ‘পোড়ামন ২’ ব্যতিক্রম। একইসঙ্গে ব্যবসাসফল এবং সমালোচকপ্রিয় হয়েছে। সর্বশ্রেণীর মানুষ পছন্দ করেছে। আমরা ২২ হল থেকে ৮৭ হল পেয়ে যাই। এটা যে কোন সিনেমার জন্য রেকর্ড। তাই নিজের বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমি বলব- আমার মধ্যে আগে দায়িত্ববোধ কম ছিল, কিন্তু এখন অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাই কাজের ক্ষেত্রে আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি সাবধানী হয়েছি। আমি চাইলেই যে কোন একটি সিনেমা করে ফেলতে পারি না। তাই এখন পা ফেলতে হচ্ছে আরও হিসাব করে। যাতে দর্শক আমাদের যে উচ্চতায় রেখেছেন তা থেকে যেন ফেলে না দেন।

প্রথম ছবির সফলতার পর আগামীকাল দ্বিতীয় ছবি দহন আসছে বড়পর্দায়। নিশ্চয়ই প্রত্যাশা ও চাপ দুটোই অনেক বেশি...
আমি একটা জিনিস শেয়ার করতে চাই। সবাই মনে করে প্রথম ছবিতে সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন একটি বিষয়। কিন্তু প্রথম ছবিতে সুযোগ পেয়ে তাতে সফল হওয়ার পর দ্বিতীয় ছবিতে কীভাবে আসব তা নির্ধারণ করা ছিল আমার জন্য আরও কঠিন।

আমার জন্য সবচেয়ে সহজ ছিল একটি রোমান্টিক গল্পের ছবিতে আবারও পর্দায় আসা। কারণ এই ধরনের ছবিতে আমি দর্শকের মন জয় করতে পেরেছি। কিন্তু আমি তা চাইনি। মনে হয়েছে- আমি যে রোমান্টিক গল্পে ভালো করতে পারি তা দেখানো হয়ে গেছে। তাই এমন একটা গল্পের মাধ্যমে আসতে চেয়েছিলাম যাতে নিজেকে আবার প্রমাণের সুযোগ পাই যে- আমি শুধু রোমান্টিক চরিত্র নয়, অন্যান্য চরিত্রও করতে পারি। এজন্য আমরা অনেক গল্প থেকে অবশেষে ‘দহন’ ছবিটি বেছে নিই। এমনকি এই ছবিটির গল্পও অনেকবার পরিবর্তন করে ফাইনালি কাজটি করেছি।

শুনেছি দহনে আপনি অভিনেতার বাইরেও কাজ করেছেন?
হ্যাঁ। আমি এই ছবির চিত্রনাট্যে কাজ করেছি। ছবির গল্পে আমারও কিছু ইনপুট ছিল। এছাড়া এক কথায় বলা যায়- আমি রায়হান রাফির সঙ্গে একজন সহকারী পরিচালকের কাজ করেছি। এটা একেবারেই নতুন তথ্য। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি দহন টিমকে সাহায্য করতে।

দহনের গল্প সম্পর্কে কিছু বলুন...
এক কথায় বলতে গেলে বর্তমান ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে বেরুলে আমরা যে চিত্র দেখি এটি সেই গল্পেরই একটি ছবি। খুবই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। দর্শক খুব সহজেই গল্পের আবেগের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারবেন। গল্পের চরিত্রগুলো তাদের খুব চেনা। তবে এটা খুবই পরিণত গল্পের ছবি। ভাবিনি- এই বয়সে এমন একটি কঠিন চরিত্র আমি করতে পারব। পরিচালকের ক্ষেত্রেও বলতে হয় এতো কম বয়সে এতো জটিল একটি ছবি তিনি করে ফেলেছেন। তবে আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে অনেক কষ্ট করেছি ‘তুলা’ নামের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। তবে ভালো লাগছে এই ভেবে যে, আমাদের কষ্ট ট্রেইলার দেখেই দর্শক বুঝতে পারছেন। এটাই আমাদের সার্থকতা। কারণ আমরা চাই দর্শকদের বিনোদনের জন্য আমরা যে কষ্টটুকু করি তা যেন তাদের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছায়।

রোমান্টিক হিরো থেকে প্রায় নেতিবাচক চরিত্রে আসছেন পর্দায়। এই ইমেজ ভাঙার বিষয়টি কি সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল?
একদমই সচেতন সিদ্ধান্ত এটি। যদিও আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ছবির বেশিরভাগ হিরোর মধ্যেই একটি বিষয় থাকে- তাকে যেন হিরোর মতোই দেখতে লাগে। হিরোর মতো বডি ল্যাঙ্গুয়েজ করতে হবে, স্টাইল করতে হবে এমন। কিন্তু এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভাষাও বদলে গেছে। বলিউডেও এখন গল্পই হচ্ছে হিরো। তাই তো ভিকি কৌশল, আয়ুষ্মান খুরানা, রাজকুমার রাও বা নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীদের মতো যারা নানামাত্রিক চরিত্রে মেধাবী অভিনয় করছেন তাদের ছবিগুলো দারুণ ব্যবসা করছে। আমিও চাই গল্প ও হিরোইজমের মিশেল দেখাতে।

তাহলে দহনে নিজের চরিত্রটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
আমি খুব খুশি মনে বলতে চাই- দহনে আমি হিরো নই। আমি এই গল্পের ভিলেন। আমি ইতিবাচক, নেতিবাচক এসব বাদ দিচ্ছি। তবে এটা বলতে চাই- আমার চরিত্রটি দেখে যদি একটি ছেলেও ভালো হয়ে যায় বা খারাপ কাজ থেকে দূরে সরে আসে তাহলেই আমার চরিত্রের সফলতা।