ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বলায় সিএনএন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত|110855|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:২২
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বলায় সিএনএন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত
অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বলায় সিএনএন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত

জাতিসংঘে ইসরাইল বিরোধী বক্তব্য দেয়ায় সিএনএন থেকে সাংবাদিক চাকরিচ্যুত। ছবি: শিকাগো ট্রিবিউন

জাতিসংঘে ‘ইসরায়েল বিরোধী’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্ক ল্যামন্ট হিলকে বরখাস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)।
মার্ক ল্যামন্ট হিল নামের ওই সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং টিভি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সিএনএন-এ তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন।
আলজাজিরা জানায়, হিল জাতিসংঘে এক বক্তৃতায় রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং জাতিগত নিধনের জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের ‘এক রাষ্ট্র নীতি’র প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
সিএনএন-এর এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার বলেন, “টেম্পল ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজের প্রফেসর হিল এখন থেকে আমাদের সঙ্গে নেই।”  তবে কী কারণে তাকে সিএনএন থেকে বাদ দেয়া হলো, সে সম্পর্ক স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি সিএনএন।
তবে কট্টরপন্থী অ্যান্টি-ডিফেইমেশন লিগ (এডিএল) সহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি ইহুদিবাদী সংগঠন হিলের এই বক্তব্যে আপত্তি জানানোর পর সিএনএন তাকে চাকরিচ্যুত করার ঘোষণা দেয়।
বুধবার আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবিতে হিল ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি’ মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে এডিএল বলে, ‘ফ্রম রিভার টু দ্য সি’ উল্লেখ করে তিনি মূলত ইসরায়েলকে ধ্বংস করার ইঙ্গিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, এমন কথা প্রচলিত আছে যে, যারা ইসরায়েলের নিশ্চিহ্ন হওয়ায় বিশ্বাস করে তারাই ‘ফ্রম রিভার টু দ্য সি’ কথাটি বলে থাকেন।
তবে হিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি এন্টি-সেমিটিজমকে সমর্থন করেন না এবং ‘ফ্রম রিভার টু দ্য সি’ এর মাধ্যমে কোনো কিছুকে বা কাউকে ধ্বংসের কথাও তিনি বলেননি।
হিল বলেন, “এটি ছিল ইসরায়েল এবং গাজা উভয়ের জন্যই ন্যায়বিচার বিধানের আহ্বান। আমার বক্তব্য ছিল একেবারে সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট।”
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের নির্বাচনে গাজায় হামাস বিজয়ী হলে জলে-স্থলে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এই অবরোধের কারণে বিশ্বের উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে গাজা। সেখানকার অধিবাসীদের মানবেতর জীবন যাপনের জন্য ইসরায়েলের এই অবরোধকে দায়ী করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
হিল বলেন, ‘আমি ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন করি। অধিকার আদায়ের প্রতি তাদের সংকল্পকেও আমি সমর্থন করি। আমি গভীরভাবে ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা করি। কিন্তু এন্টি-সেমিটিজমকে সমর্থন করি না। ইহুদি নাগরিক হত্যা করাও সমর্থন করি না। আমার বক্তব্যেও সেরকম কিছু ছিল না।’
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে  ‘এক রাষ্ট্রীয় নীতি’ নামে  একটি শক্তিশালী দাবি ওঠেছে।  দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘাত নিরসনে সমগ্র ফিলিস্তিন অঞ্চলজুড়ে একটাই রাষ্ট্র হবে যেখানে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিরা সমান অধিকার ভোগ করবে।  
তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন ইসরাইলের ডানপন্থী সরকার ফিলিস্তিনিদের এই ‘সমাধান’ প্রত্যাখ্যান করেছে।