‘গো-হত্যা’র গুজবে সংঘর্ষ, গুলিতে পুলিশ নিহত|110936|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৯
‘গো-হত্যা’র গুজবে সংঘর্ষ, গুলিতে পুলিশ নিহত
অনলাইন ডেস্ক

‘গো-হত্যা’র গুজবে সংঘর্ষ, গুলিতে পুলিশ নিহত

গো-হত্যার গুজবের জেরে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ‘গো-হত্যা’র গুজবে সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার লক্ষ্ণৌ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে বুলেন্দ শহরের এই ঘটনায় একজন বিক্ষোভকারীও নিহত হন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার প্রধান আসামি যোগেশ রাজ এখনো পলাতক। আগের দিন সন্ধ্যায় বনভূমিতে ২৫টি গরুর মৃতদেহ পাওয়া গেলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হিন্দুত্ববাদি সংগঠন বজরং দলের এই নেতা।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় লোকজন ও হিন্দুত্ববাদি সংগঠনের কর্মীরা গরুর মৃতদেহগুলো ট্রাকে নিয়ে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে পুলিশ রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে সংঘর্ষ বাঁধে।

একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। উন্মত্ত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিলেন ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিং। মাথায় পাথরের আঘাত লাগলে আহত অবস্থায় তার ড্রাইভার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে বহনকারী গাড়ির পিছু নেয়। একপর্যায়ে গাড়ি আটকে তাকে গুলি করে হত্যা করে তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃতদেহের চারপাশে ঘুরে ঘুরে ফাঁকা গুলি করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন।

সুবোধের গাড়িচালক বলেন, “বিক্ষোভকারীরা আমাদের জিপকে ধরে ফেললে আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে পালিয়েছিলাম। এসময় কী ঘটেছিল আমি কিছু জানি না।”

সুরহতাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাম চোখের ওপর গুলি করে ইন্সপেক্টর সুবোধকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা তার রিভলবার এবং মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সুবোধের স্ত্রী-সন্তানকে জন্য ৪০ লাখ রুপি আর বাবা-মাকে ১০ লাখ রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েন রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এছাড়া তার পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখছেন, কেন ইন্সপেক্টর সুবোধ একাই সংঘর্ষস্থল ত্যাগ করেছিলেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৭ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা গেছে।