মোসাদ্দেকে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ|111041|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪০
মোসাদ্দেকে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মোসাদ্দেকে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ

ছবি: আইসিসি

ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালানোর পর বল হাতেও জ্বললেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে হংকংকে হারিয়ে ইমার্জি কাপে জয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

প্রতিযোগিতাটিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার ২৮ রানের জয় পায় নুরুল হাসান সোহানের দল। আগের দিন প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৯৭ রানে হেরেছিল তারা।

করাচির সাউদেন্ড ক্লাব ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৬ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে হংকংয়ের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ২৫৮ রানে।

এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমান পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ। দুটি করে ম্যাচ খেলে দল দুটির জয় একটি করে। অন্য দিকে দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে পাকিস্তান। হংকংয়ের অবস্থান তলানিতে।

৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেমি-ফাইনাল খেলতে হলে ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প নেই নুরুল-মোসাদ্দেকদের।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্ট ইমার্জিং কাপে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর অনূর্ধ্ব-২৩ দল অংশ নিয়ে থাকে। সিনিয়র কোটায় খেলতে পারেন বেশি বয়সী চার ক্রিকেটার। সহযোগি দেশগুলোর মূল জাতীয় দলই খেলে থাকে।

হংকং মূল জাতীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলটি অবশ্য শক্তিতে বেশ এগিয়ে ছিল। বেশির ভাগ ক্রিকেটারের যে রয়েছে জাতীয় দলের খেলার অভিজ্ঞতা।

হংকংয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই লড়াকু ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ। ওপেনার মিজানুর রহমান (৮) দ্রুত ফিরলেও আরেক ওপেনার জাকির হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত প্রাথমিক বিপর্যয় সামলান।

জাকির এক রানের জন্য অর্ধশতকের দেখা পাননি। ৬৩ বলে ৪ চারে ৪৯ রান করেন তিনি। অন্য দিকে শান্ত ৫২ বলে ২ চারে করেন ৩৬ রান।

চার নম্বরে খেলতে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন তুলে নেন ঝড়ো সেঞ্চুরি। ৮৬ বলে সাজানো তার ঠিক ১০০ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৮ চার ও ৩ ছক্কায়। এছাড়া ইয়াসির আলির ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান।

হংকংয়ের পক্ষে এইজাজ খান সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন। এছাড়া এহসান নওয়াজ নিয়েছেন ২ উইকেট। এহসান খান, তানবির আহমেদ ও মোহাম্মাদ ঘাজানফার নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

জবাব দিতে নেমে হংকংয়ের শুরুটা যে একেবারে খারাপ ছিল না নয়। যদিও ৩৮ রান যোগ করতেই দলটি প্রথম উইকেট হারায়। ওপেনার এইজাজ খানকে (১৫) তুলে নেন খালেদ আহমেদ।

তবে আরেক ওপেনার নিজাকাত খান ছিলেন দুর্দান্ত। রাগ কাপুরকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। ব্যক্তিগত ১৫ রান করে রাগ কাপুর শরিফুলের শিকার হন।

এরপর বাবর হায়তকে নিয়ে ১০১ রানের জুটি গড়েছেন নিজাকাত খান। দারুণ খেলেও নিজাকাত ও বাবর দুজনই সেঞ্চুরির আক্ষেপে পুড়েছেন। দলীয় ১৭৭ রানে নিজাকাত নাঈম হাসানের শিকার হন। ৯৫ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৯২ রান করে ফিরেন তিনি।

এরপর ১২ রানের ব্যবধানে আরো দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে হংকং। ওয়াকাস খান (২) ফিরে যান রান আউট হয়ে। এরপর মোসাদ্দেকের আঘাত। এই স্পিনারের বলে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়েছে ফিরেন শহিদ ওয়াসিফ (৩)।

একপ্রান্তে বাবর হায়াত দলকে পথ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু হংকংয়ের রানের গতি মাঝ ইনিংস থেকেই ছিল কিছুটা মন্থর। পরে দ্রুত উইকেট হারিয়ে আর প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনি।

দলীয় ২০৫ রানে ৭ রান করা তানভির আফজালকে বোল্ড করে ফেরান মোসাদ্দেক। এরপর এহসান খানকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বাবর হায়াত। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ৯১ রান করে খালেদ আহমেদের শিকার হয়েছেন তিনি।

বাবর যখন ফিরে যান তখন হংকংয়ের দলীয় রান ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪২। এর আগেই আসলে দলটির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষ ওভারে হংকংয়ের প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান।

শরিফুলের শেষ দুই বলে এহসান একটি করে ছক্কা ও চার হাঁকালেন ঠিক। তাতে শুধু জয়ের ব্যবধাই কমেছে।

বাংলাদেশের পক্ষে খালেদ আহমেদ ও মোসাদ্দেক সর্বাধিক ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।