খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর ইসিতে|111084|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:৩৩
খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর ইসিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর ইসিতে

তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার আপিলের শেষ দিনে ইসি খালেদার পক্ষে করা আবেদন নামঞ্জুর করে। এর ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না কারাবন্দি খালেদার। তার আইনজীবীরা অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

এদিন দুপুরে খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। খালেদার শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরো কয়েকজন। শুনানি শেষে বিকালের পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানায় ইসি। সন্ধ্যায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন ৪-১ ভোটে নামঞ্জুর হয়েছে।

খালেদার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে রায় দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ অপর চার কমিশনার। এ বিষয়ে খালেদার আইনজীবী মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, ‘মাহবুব তালুকদারের অবস্থান যৌক্তিক। বাকিদের অবস্থান আইনসঙ্গত নয়।’ এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান এই আইনজীবী।

খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে খালেদার আইনজীবীরা তার পক্ষে ইসিতে আপিল করেন। আপিলের শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা হয়েছে দুর্নীতি মামলায়, নির্বাচনী অপরাধে নয়। আইনজীবীরা সিইসি ও অন্য কমিশনারদের কাছে জানতে চান, ‘খালেদা কারাগারে, তিনি কীভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন বা নির্বাচনী অপরাধ করলেন? এই কারণে কীভাবে খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়?’

এরপর দুপুর ১টার দিকে খালেদার আপিল আবেদন স্থগিত (পেন্ডিং) করে ইসি। বিকাল ৫টার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে জানিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যান কর্মকর্তারা। এর পরপরই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী কাজ করার কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের আপিল আবেদেনের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ না করলে কমিশন তা মঞ্জুর করবে- বিএনপির এমন দাবির ব্যাপারে নানকের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক। এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সংবিধানের বাইরে কিছু করার আছে, এমনটা আমরা মনে করি না।’

নানক বলেন, ‘কমিশনের কাছে আমাদের আর্জি থাকবে, সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী তারা কাজ করবেন। কোনো চাপের কাছে উনারা মাথা নত করবেন না।’ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগের এই নেতার। বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য করছে উল্লেখ করে নানক বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য বিক্ষোভ-বিদ্রোহ চলছে পল্টন কার্যালয়ের সামনে।’ জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধেও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন ইসির কাছে?- সাংবাদিকের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তাদের (জাপা) ব্যাপার। এটা তারা বলবেন। আমরা বিএনপির ব্যাপারে কথা বলেছি।’

তিন যুগ আগে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তাকে ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন করতে হচ্ছে বিএনপিকে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৭২ বছর বয়সী খালেদা গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলায় প্রথমে ৫ বছর পরে আপিলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় তার ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

তখন থেকে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছিলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এক আদেশে দণ্ডিতদের নির্বাচন অংশ নেওয়া আটকে যায়। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারো দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়। তার মধ্যে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ভিন্ন আদেশ দিলেও আপিল বিভাগে গিয়ে তা আটকে গেলে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ আর খোলেনি।