উইন্ডিজকে হারাতে প্রয়োজন ১৯৬|111114|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:১৬
উইন্ডিজকে হারাতে প্রয়োজন ১৯৬
অনলাইন ডেস্ক

উইন্ডিজকে হারাতে প্রয়োজন ১৯৬

ছবি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড

শুরু থেকেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানের খোলসে আটকে রাখলেন সারাক্ষণ। আগে ব্যাট করে তাই দুইশ রানের স্কোরও গড়া হলো না সফরকারীদের।

মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯৬ রান।

টেস্ট সিরিজে চার স্পিনার নিয়ে খেললেও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কৌশল ভিন্ন। তিন পেসার নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। চার স্পেশালিস্ট ওপেনার-তিন পেসারে কম্বিনেশন সাজাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপে পাওয়া চোট কাটিয়ে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামেন সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবালের জন্য চোট থেকে মুক্তির পর এটি শুধু প্রথম ওয়ানডেই নয়, প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে বিশ্রামে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান। রুবেল হোসেনও ছিলেন একাদশের বাইরে। এদিন একাদশে ফিরেন তিন জনই।

তবে তিন পেসার নিয়ে একাদশে সাজালেও দুই প্রান্ত থেকেই স্পিন দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন মাশরাফি। একপ্রান্তে মিরাজ বোলিং আক্রমণ শুরু করেন, অন্য প্রান্তে সাকিব। টানা ৯ ওভার বল করেন এই দুজন।

দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন সাকিব। অষ্টম ওভারের শেষ বলে কিয়েরন পাওয়েলকে রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন। দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। ২৭ বলে ১ চারে ১০ রান করেন পাওয়েল।

পাওয়েল ফিরে গেলেও আরেক ওপেনার শাই হোপ তিন নম্বরে নামা ড্যারেন ব্রাভোকে নিয়ে লড়াইয়ে ফেরার টেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মাশরাফি। ড্যারেন ব্রাভোকে ফিরিয়ে নিজের ২০০তম ওয়ানডেতে প্রথম উইকেটটি শিকার করেন এই পেসার।

তবে মাশরাফি সেই উইকেটের জন্য বিশেষ কৃতিত্ব দিতে পারেন তামিমকে। দুর্দান্ত ডাইভে ব্রাভোর ক্যাচ লুফে নেন তামিম।

১৩ রানের ব্যবধানে মাশরাফি নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান দারুণ খেলতে থাকা হোপকে। পয়েন্টে দেখার মতো ক্যাচ নেন মিরাজ। ৫৯ বলে ৩ চারে ৪৩ রান করে ফেরেন হোপ।

টাইগার বোলারদের আঁটোসোটো বোলিংয়ে শুরু থেকেই ক্যারিবীয়দের রানের গতি ছিল মন্থর। হোপ ফেরার পর আরো বেশি চাপে পড়ে যায় দলটি। চার নম্বরে নামা মারলন স্যামুয়েলস প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে ছিল আসা-যাওয়ার মিছিল।

দলীয় ৯৩ রানে হেটমায়ারকে বোল্ড করে ফেরান মিরাজ। মাত্র ৬ রান করেন তিনি। ১৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মাশরাফি। তাতে ৩৬.১ ওভারে ক্যারিবীয়দের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১১৯।

এরপর একপ্রান্তে লড়ার চেষ্টায় মগ্ন স্যামুয়েলসকে রুবেল ফিরিয়ে দিলে ক্যারিবীয়রা খাদের কিনারায় পড়ে। সপ্তম উইকেটে রোস্টন চেজ ও কিমো পল অবশ্য দৃঢ়তা দেখান। দুজনে গড়েন ৫১ রানের ‍জুটি। যে জুটিই মূলত ক্যারিবীয়দের স্কোরটাকে একটা ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যায়।

চেজ এবং পল দুজনকেই ফেরান মোস্তাফিজ। ৩২ রান করা চেজকে মিরাজের হাতে ক্যাচ বানানোর পর ৩৬ রান করা কিমো পলকেও ক্যাচ বানান মিরাজের হাতে। শেষ ওভারে দেবেন্দ্র বিশুকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও মোস্তাফিজ সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, সাকিব ও রুবেল।

মাইলফলকের ম্যাচে মাশরাফির ৩ উইকেট

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নেমেই দারুণ এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ ওয়ানডে খেলার কীর্তি গড়েছেন এই পেসার।

মাইলফলকে পৌঁছানো ম্যাচে বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। নিয়েছেন তিন উইকেট। কৃপণতার পরিচয় দিয়েছেন রান দেওয়ায়ও। ১০ ওভারে তিন গড়ে মাত্র ৩০ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

২০০১ সালের ২৩ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল মাশরাফির। ১৭ বছর পেরিয়ে পা রাখলেন ২০০তম ম্যাচে।

২০০ ওয়ানডেতে মাশরাফির মোট উইকেট ২৫৫টি। পাঁচ বা এর বেশি উইকেট নিয়েছেন একবার। আর চার উইকেট নিয়েছেন সাতবার। সেরা বোলিং ১০ ওভারে ২৬ রানে ৬ উইকেট। ২০০৬ সালে নাইরোবিতে ক্যানিয়ার বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স দেখান তিনি।

দুটি ওয়ানডে মাশরাফি খেলেছেন এশিয়া একাদশের পক্ষে, আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে। বাংলাদেশের পক্ষে তাই মাশরাফির ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা ১৯৮টি।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে মুশফিকুর রহীম, ১৯৫ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষেও ২০০তম ম্যাচের কীর্তি গড়া হবে মাশরাফির।