সহজ জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের|111128|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:২৩
সহজ জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের
অনলাইন ডেস্ক

সহজ জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। ছবি: নাজমুল হক বাপ্পি

দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যানরা তাদের কাজটা করলেন যথার্থ। সহজ জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।

বোরবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকটে ১৯৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৪.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বোলিংয়ে আলো কেড়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান। দুজনেই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহীম খেলেছেন অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩১তম অর্ধশতক হাঁকান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

লক্ষ্য তাড়া করেতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সাবধানী। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছিলেন লিটন দাস। ৮ ওভারে ৩৭ রান যোগ করেন এই দুজন।

অষ্টম ওভারের শেষ বলে রোস্টন চেজের বলে ব্যক্তিগত ১২ রান করে ফিরেন তামিম। এশিয়া কাপে চোট পাওয়ার পর দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন এই বাঁহাতি। চোট কাটিয়ে এ ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন তিনি।

তিন নম্বেরে নেমে ইমরুল কায়েসও স্থায়ী হতে পারেননি বেশিক্ষণ। ওশানে থমাসের বলে ফিরে যান ৪ রান করে। ৪২ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে লিটন দাস দারুণ খেলছিলেন শুরু থেকেই। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে গড়ে উঠে তার দারুণ জুটি। তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন এই দুজন।

১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যক্তিগত ৪১ রান করে ফিরেন লিটন। কিমো পলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৫ চারে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

লিটন ফিরলে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আরেকটি দারুণ জুটি উপহার দেন মুশফিকুর রহীম। চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রান যোগ করেন এই দুজন। রোভম্যান পাওয়েলের শিকার হওয়ার আগে ২৬ বলে ৪ চারে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব।

বাংলাদেশ অবশ্য ততক্ষণে জয় থেকে মাত্র ৫০ রান দূরে। সৌম্য সরকারকে নিয়ে সেই রানের দিকে এগিয়ে যান মুশফিক। সৌম্য ১৯ রানে ফিরলে দুজনের ২৯ রানের জুটির পতন হয়। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন মুশফিক।

মুশফিক তার অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ৭০ বলে। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার। মাহমুদউল্লাহ ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ২১ বলের ইনিংসে এই ডানহাতি হাঁকান ১টি ছক্কা।

এরআগে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে বড় স্কোর গড়তে পারেনি উইন্ডিজ। তিন পেসার ও দুই স্পিনারে সাজানো ছিল বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। একমাত্র রুবেল হোসেন ছিলেন খরুচে। ১০ ওভার বল করে ১ উইকেট নিতে ব্যায় করেন ৬১ রান।

অন্যদের সবার ইকোনোমি রেট ছিল চারের নিচে। সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন মাশরাফি। ১০ ওভারে ৩০ রান ব্যায় করে ৩ উইকেটে নেন নড়াইল এক্সপ্রেস। মোস্তাফিজ ৩ উইকেট নিতে ব্যয় করেন ৩৫ রান। সাকিব ও মিরাজ ১০ ওভার করে বল করে ১টি করে উইকেট নেন। প্রথম জন ৩৬, দ্বিতীয় জন ৩০ রান ব্যয় করেন।

ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যাসদেন মধ্যে সাই হোপ সর্বোচ্চ ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন। সাত নম্বরে নেমে রোস্টন চেজ ৩২ ও কিমো পল ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাশরাফি। মঙ্গলবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।