কাঁটাতারে ‘অবরুদ্ধ’ দিনমজুর পরিবার |111151|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৫
কাঁটাতারে ‘অবরুদ্ধ’ দিনমজুর পরিবার
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

কাঁটাতারে ‘অবরুদ্ধ’ দিনমজুর পরিবার

ঝালকাঠির রাজাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এক দিনমজুর পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিপক্ষরা। ঘরের সামনে বেড়া দেয়ায় বাইরে বের হতে পারছে না দিনমজুর জালাল হাওলাদারের পরিবার। দুই মাস ধরে অবরুদ্ধ পরিবারটি রাজাপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পায়নি।

জানা গেছে, উপজেলার গালুয়া পাকা মসজিদ এলাকায় দিনমজুর জালাল হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার মোয়াজ্জেম মাস্টার ও মহারাজ খানের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

গালুয়া পাকা মসজিদ কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোয়াজ্জেম মাস্টার ও মহারাজ খান দলবল নিয়ে অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে জালালের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তায় পিলার পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এসময় জালাল ও তার স্ত্রী বাধা গেলে তাদেরকে মারধর করে ও নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

জালালের শাশুড়ির জানান, বেড়া দেওয়ার পর রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পরদিন সকালে দুই পুলিশ তদন্তে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নিরুপায় হয়ে তিনি ৬ অক্টোবর সকালে ইউএনও আফরোজা বেগমের পারুলের কাছে অভিযোগ দেন।

ইউএনও গালুয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বিজন বিহারী হালদারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ২০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদনে ঘর থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু মোয়াজ্জেম ও মহারাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওই পরিবারের।

দিনমজুর জালাল হাওলদার বলেন, “হেদিনের পর থেইক্যা হেরা খালি হুমকি দেয়। রাস্তা বন্ধ থাহায় (থাকায়) আমার মাইয়ারা স্কুলে যাইতে পারে না। আমরা এহন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতেছি।”

অভিযুক্ত মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহারাজ খান বলেন, “বাড়ির পাশে জালালের কোনো জায়গা নেই। আমরা মসজিদের জায়গা কাঁটাতার ও পিলার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল বলেন, “মসজিদ কমিটির আপত্তি থাকায় ওই পরিবারটিকে বিকল্প পথ দেওয়া হয়েছে। তাতে যদি তাদের আপত্তি থাকে তবে সার্ভেয়ার পাঠিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হবে এবং তাদের চলাচলালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।”