২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির পর কৃষকের হাতে ৬ রুপি!|111152|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৩৭
মুখ্যমন্ত্রীকে মানি অর্ডার
২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির পর কৃষকের হাতে ৬ রুপি!
অনলাইন ডেস্ক

২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির পর কৃষকের হাতে ৬ রুপি!

মর্মান্তিক! ২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের হাতে মাত্র ছয় রুপি। কৃষিপণ্য বিক্রির বাজার ধস ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সেই ছয় রুপিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের কাছে মানি অর্ডার করে পাঠালেন ওই কৃষক। শুক্রবার ভারতের মহরাষ্ট্র রাজ্যের আহমেদনগর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস সোমবার জানায়, চলতি মৌসুমে রাজ্যের নাশিক এবং আহমেদনগর জেলায় বাম্পার ফলন হওয়ায় পেঁয়াজের দরপতন ঘটে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য এখন নেমে এসেছে কেজি এক রুপিতে। বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় গত দুই দিনে নাশিক জেলায় দুই কৃষক আত্মহত্যাও করেছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে রোববার কৃষক শ্রেয়াস আভালে জানান, জেলার সাঙ্গামনার পাইকারি মার্কেটে কেজি এক রুপির চেয়ে একটু বেশি মূল্যে ২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেন তিনি। পণ্য পরিবহন আর মার্কেটের আনুষঙ্গিক খরচ শেষে তার হাতে আছে আসে মাত্র ছয় রুপি।

তিনি বলেন, “২৬৫৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে আমার হাতে আসে ২৯১৬ রুপি। কিন্তু মার্কেট ইউনিয়নের নির্ধারিত চাঁদা, পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে আমার ২৯১০ রুপিই খরচ হয়ে যায়।”

এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে সিদ্ধান্ত নেন সেই ছয় রুপিই মানি অর্ডার করে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। কারণ কৃষকদের দুর্দশা সম্পর্কে তার জানা উচিত।

আভালে বলেন, “পেয়াঁজ চাষ করতে আমার প্রায় দুই লাখ রুপির মতো খরচ হয়ে গেল আর আমি পেলাম মাত্র ছয় রুপি। আমি এখন জানি না অন্যান্য পাওনাগুলো আমি কীভাবে শোধ করব।”

সম্প্রতি নাশিক জেলার আরেক কৃষকও পেঁয়াজ বিক্রির অর্থ পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ের রিলিফ ফান্ডে। সঞ্জয় সাথে নামের ওই কৃষক ৭৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে পেয়েছিলেন মাত্র ১০৬৪ টাকা।

এদিকে আহমেদনগরের আরেক কৃষক প্রতিবাদস্বরূপ স্থানীয় বাজারে দুই হাজার কেজি পেঁয়াজ বিনা টাকায় বিতরণ করেন। এছাড়া ব্যঙ্গ করে তিনি একটি প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করেছেন- ‘পেঁয়াজের দর কম হওয়ায় কৃষক সমিতি এবং রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ’।

পোপাতরোন ভাকছোর নামে এ কৃষক  হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “এই সরকারের কৃষক নীতি নিয়ে আমরা হতাশ। আমাদের প্রতি তাদের মনোযোগ একেবারেই সামান্য।”

“এই সরকারের কারণে আমি প্রায় ভিক্ষুকের পর্যায়ে নেমে এসেছি। আমার কৃষিজমি সামান্য। কিন্তু চাষ করতে গিয়ে আমার অনেক ধারকর্জ করতে হয়েছে। পেঁয়াজ বিক্রি করে সেসব শোধ করার কথা ছিল, কিন্তু পারিনি।”

ধার শোধ করতে সাহায্যের জন্য বাজারে একটি বক্সও রাখতে দেখা যায় এই কৃষককে।