ব্রেক্সিট নিয়ে বড় ধরনের সংকটে যুক্তরাজ্য|111194|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:০৫
ব্রেক্সিট নিয়ে বড় ধরনের সংকটে যুক্তরাজ্য
অনলাইন ডেস্ক

ব্রেক্সিট নিয়ে বড় ধরনের সংকটে যুক্তরাজ্য

ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে ভোট পেছানোয় নতুন করে সংকটে যুক্তরাজ্য। ছবি: পার্লামেন্ট টিভি

ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে ভোট পেছানোয় নতুন করে সংকটে পড়ল যুক্তরাজ্য। বলতে গেলে সোমবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সরকারের জন্য ছিল অন্যতম হতাশজনক দিন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এ সরকারের বিদায়ের দাবিও ওঠেছে।

আলজাজিরা জানায়, মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে একদিন আগেই তা পিছিয়ে দিয়েছেন থেরেসা। পার্লামেন্টে এক ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, ভোটাভুটি করলে চুক্তিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।  সেইসঙ্গে স্বীকার করেন, এই মুহূর্তে ভোটাভুটিতে গেলে এনিয়ে দেশ আবার বিভক্তি হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

বিবিসি জানায়, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার হুমকি দিলে এমন সিদ্ধান্ত নেন থেরেসা। এমনকি তার দল কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন এমপিও চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা স্পষ্ট যে চুক্তিটির অনেক মূল বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমর্থন আছে। এর মধ্যে উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে এমপিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ আছে।” তাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিলে এখনো চুক্তিটি পাস করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে যুক্তরাজ্য চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এককভাবে ব্রেক্সিট বাতিল করতে পারবে বলে সোমবার সকালে রায় দেয় ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে)। অন্যান্য দেশের অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাজ্য এ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তারা জানায়।

এক বিবৃতিতে ইসিজে জানায়, পরের বছরের ২৯ মার্চের আগে যুক্তরাজ্য চাইলে ২৮ সদস্যভুক্ত ইউনিয়নটি ত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে।

আদালত জানায়, আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর নির্ধারিত দুই বছর সময় শেষ হয়ে গেলেও সদস্যভুক্ত দেশগুলো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। অতিরিক্ত সময়েও সদস্য দেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এমনকি ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো গ্রহণ না করেও বা ভিসামুক্ত অঞ্চল শেনজেনে অন্তর্ভক্ত না হয়ে যুক্তরাজ্য চাইলে ইইউতে থেকে যেতে পারেও বলে জানায় ইসিজে। এখন যে সব শর্ত মেনে ইইউ সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্য আছে, সেসব শর্ত মেনে থাকতে সমস্যা হবে না তাদের।

তবে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের জন্য তাকে যথাযথ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আসতে হবে। তার মানে পার্লামেন্টের অনুমতি নিতে হবে যুক্তরাজ্য সরকারকে।

এদিকে পার্লামেন্টে ভোট পেছানো এবং তার স্বীকারোক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। তাদের মতে, থেরেসা ‘পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ’ হারিয়েছেন। নিজ দলের প্রতিনিধিদের কণ্ঠেও ওঠে এসেছে থেরেসার প্রতি অসন্তুষ্টি। তারা বলেন, হয় দেশ চালান, নয়তো ক্ষমতা ছেড়ে দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইউরোপ বিষয়ে একটি থিংক ট্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর সিমোন উশারউড বলেন, পরিস্থিতি এখন চূড়ান্তভাবে বিশৃঙ্খলার দিকে চলে গেছে।