ফখরুলের বহরে হামলা নোয়াখালীতে নিহত ১|111291|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ফখরুলের বহরে হামলা নোয়াখালীতে নিহত ১
দেশ রূপান্তর ডেস্ক

ফখরুলের বহরে হামলা নোয়াখালীতে নিহত ১

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের প্রথম দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে সদর উপজেলার দানারহাটে এই হামলায় বিএনপি মহাসচিব ও তার গাড়ি অক্ষত থাকলেও বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন সফরসঙ্গী আহত হয়েছেন। বিএনপি হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেও ক্ষমতাসীন দল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল দুপুর ১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ১২টি গাড়ি নিয়ে সরাসরি ঠাকুরগাঁওয়ের দানারহাটে আসেন মির্জা ফখরুল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী’ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে ও সাতটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। হামলায় ফখরুলের ১০ সফরসঙ্গী আহত হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি দেশ রূপান্তর। হামলার পর মির্জা ফখরুল ঘটনাস্থল দানারহাটে প্রচার বন্ধ রেখে গরিয়ারহাটে চলে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দায়ী করে বলেন, ‘উসকানি দিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তারপরও আমরা নির্বাচনে অংশ নেব।’

গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রানগুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পয়গাম আলী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেগুনবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বনি আমিনের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে পেছন থেকে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ কিছুটা দূরে থাকলেও পদক্ষেপ নেয়নি।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বনি আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি নেতারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ওই সময় আমি নির্বাচনী অফিসের ভেতরে ছিলাম।’ উল্টো তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাশেম ও ফারুকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘হামলায় আওয়ামী লীগের দুজন আহত হয়। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রহিদুলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন এসে আওয়ামী লীগ অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ওই ইটের আঘাতেই মহাসচিবের বহরের গাড়ি ভেঙেছে।’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি আগেই আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বিএনপিই দায়ী।

এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় সদর উপজেলার গড়েয়া, ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন

এনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। জনসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আজ ঠাকুরগাঁও ছাড়াও বগুড়ায় ও নোয়াখালীতে মওদুদ সাহেবের কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার কথাÑ সেটা কোনোভাবেই করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলকে নির্বাচনী প্রচারে বাধা  দেওয়া হচ্ছে।

তবে ঠাকুরগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হওয়ার খবর পেয়েছি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে কারা গাড়ি ভেঙেছে সেটা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, বগুড়া ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপিসহ ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত :

নোয়াখালীতে গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত : নোয়াখালী সদরে এক যুবলীগ নেতাকে মাথা থেঁতলে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, হামলাকারীরা বিএনপির সমর্থক। গতকাল মঙ্গলবার সদরের এওজবালিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা।  নিহত মো. হানিফ (২৪) এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই এলাকার মো. মফিজ উল্লাহর ছেলে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নুরু পাটোয়ারী হাটে বিএনপি একটি বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হানিফ ও আরেক জন। সে সময় বিএনপির মিছিলকারীরা প্রথমে হানিফের ওপর মরিচের গুঁড়া ছিটায়। পরে ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে শটগান দিয়ে গুলি করে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিজ জানান, হানিফকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার মাথা থেঁতলানো ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিহাব উদ্দিন শাহীনের ভাষ্য, বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা এওজবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেটাতে ব্যর্থ হয়ে হানিফকে হত্যা করেছে।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের গতকাল কোনো কর্মসূচি ছিল না। আওয়ামী লীগ নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাতে চাইছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার শুরু হয় গতকাল। এদিনই গুলিতে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেল।

নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে হামলা : বিএনপি

নেতাকর্মীরা এই হামলা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দানারহাটে এই হামলায় বিএনপি মহাসচিব ও তার গাড়ি অক্ষত থাকলেও বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন সফরসঙ্গী আহত হয়েছেন।

হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন তারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।’ যে রাজনৈতিক নেতার উসকানিতে এই হামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই হামলা। কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে।’

হামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঘটনাস্থলে আসামাত্রই তার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনার অনেক পর ঘটনাস্থলে এসেছে। তাদের উচিত ছিল ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আসা।

বিএনপি মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহকারী ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মাদ ইউনুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি মহাসচিবের গাড়ি অক্ষত রয়েছে। তিনি অক্ষত রয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী সামান্য আহত হয়েছে।

হামলার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে জানান, শুধু তাদের দলের মহাসচিবের ওপর নয়। হামলার কারণে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নির্বাচনী প্রচারণা প- হয়ে গেছে।

হামলার ঘটনা সাজানো প্রশ্নবিদ্ধ : আ.লীগ

তারা মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত। নির্বাচনকে কলঙ্কিত করা এবং প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানাভাবে তাদের ষড়যন্ত্র চলছে। এই হামলার ঘটনাও সাজানো। বিএনপি বুঝতে পেরেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি ঘটবে। এ কারণে তারা নানাভাবে মিথ্যাচার করছে।

সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দানারহাটে এই হামলায় বিএনপি মহাসচিব ও তার গাড়ি অক্ষত থাকলেও বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েক সফরসঙ্গী আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ করেছেন।

আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ড. কামাল হোসেন নিজের লেখা সংবিধানের বিরোধিতা করছেন। সংবিধান অনুযায়ী এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী, খালেদা জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য। অথচ সব কিছু জেনেশুনে কামাল হোসেনরা সংবিধানের বিরোধিতা করছেন।

তিনি বলেন, বিএনপিতে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে নেতাকর্মীদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা আজ আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। বিএনপি দুর্নীতিবাজ, রাজাকার-আলবদর, খুনি ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিদের মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপির নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আগামী ৩০ ডিসেম্বর জবাব দেবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঝুলে গেল খালেদার ভোটভাগ্য 

হয়। শনিবার ইসিতে শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তার আপিল খারিজ করে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনার। তবে, অপর নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তার প্রার্থিতা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।