আশা জেগে রইল খালেদা জিয়ার|111298|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আশা জেগে রইল খালেদা জিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক

আশা জেগে রইল খালেদা জিয়ার

দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নে বিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার বেঞ্চের জেষ্ঠ বিচারপতি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশ দিলেও কনিষ্ঠ বিচারপতি তাতে দ্বিমত পোষণ করেন।

এর আগে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। গত সোমবার এর ওপর শুনানি শেষ হয়।

গতকাল বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসির ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। রুলে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। অন্যদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রিট আবেদনটি খারিজ করে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। সেখানে এর  নিষ্পত্তি হবে। আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই পক্ষপাতিত্ব করছে। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে এসেছিলাম। এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আমরা প্রত্যাশা করছি, তৃতীয় বেঞ্চে ন্যায়বিচার ও সঠিক সিদ্ধান্ত পাব।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘যেহেতু বেঞ্চের দুজন বিচারপতি ঐকমধ্যে পৌঁছাতে পারেননি, তাই এটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে এবং প্রধান বিচারপতি পরবর্তী বেঞ্চ গঠন করে দেবেন।’

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোননপত্র জমা দেওয়া হয়। যাচাই বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করা হয়। শনিবার ইসিতে শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তার আপিল খারিজ করে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনার। তবে, অপর নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তার প্রার্থিতা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।